Main Menu

লক্ষ লক্ষ মুসলমানের রক্তে স্বাধীন জেরুজালেম হচ্ছে ইসরায়েলের রাজধানী – বাংলারদর্পন

বাংলারদর্পন :

এই সেই শহর। যে শহরের এমন কোনো স্থান নেই যেখানটায় মানুষের রক্তের ছাপ পড়ে নি। যুগে যুগে রাজা বাদশাহরা এই শহরের কর্তৃত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে লাখ লাখ নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। এই শহরের প্রতি দূর্বলতা যে শুধুমাত্র রাজা বাদশাদেরই ছিল তা নয়, নিরীহ মানুষরাও এই শহরের জন্য নিজেদের প্রাণ বিলিয়ে দিয়েছে।

 

ভাবতেই অবাক লাগে, প্রতিষ্ঠার সাড়ে তিন হাজার বছর পরেও এই শহরের চাহিদা বিন্দুমাত্র কমে নি। বরং দিনকে দিন বেড়েই চলছে ! কত কবি এই শহরকে নিয়ে কবিতা লিখেছে, কত ঔপন্যাসিক এই শহরের দৈনন্দিন জীবন নিয়ে উপন্যাস রচনা করেছে, কত শিল্পী এই শহরকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তুলির আচড়ে ফুটিয়ে তুলেছে ক্যানভাসে- তার কি কোনো হিসেব আছে ?

 

বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই একটিমাত্র শহরই পৃথিবীতে আছে যা ৫২ বার আক্রমনের শিকার হয়েছে। এই শহরের ভাগ্য এতই মন্দ যে, তা ৪৪ বার দখল-পুনর্দখল হয়েছে, ২৩ বার অবরোধের মুখে পড়েছে। আর পুরোপুরি ধ্বংশ হয়েছে কমপক্ষে ২ বার !

 

তবুও এই শহর টিকে আছে। শুধু টিকে আছে বললে ভুল হবে, সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে এই শহর প্রভাবিত করে চলেছে সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে। এই শহরকে বলা হয় পবিত্র শহর, দুই জাতির রাজধানী ও তিন ধর্মের উপাসনালয়। হ্যা, আমি জেরুজালেমের কথাই বলছি।

 

যাকে নিয়ে এখনো মানুষের উন্মাদনার কমতি নেই।

 

ঐতিহাসিকরা বলেন, এই শহর রক্তের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই শহরের ইতিহাস মানুষের রক্ত নিয়ে উৎসব করার ইতিহাস।

 

 

ইতিহাস ঘাটাঘাটি করলে দেখা যায়, পবিত্র কাবাঘর নির্মাণের ৪০ বছর পর হযরত ইয়াকুব (আ.) জেরুজালেমে আল-আকসা মসজিদ নির্মাণ করেন।

তারপর হযরত সুলাইমান (আ.) এই পবিত্র মসজিদের পুনঃনির্মান করেন। বায়তুল মুকাদ্দাস হচ্ছে ইসলামের প্রথম কিবলা। এবং পবিত্রতার দিক থেকে মক্কা-মদিনা মুনাওয়ারার পরের তৃতীয় পবিত্র স্থান। নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদে নববি এবং মসজিদে আকসা-এর উদ্দেশ্যে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যা অন্য কোন মসজিদ সম্পর্কে করেন নি।

 

৬৩৮ ঈসায়ীতে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে পুরো বাইতুল মুকাদ্দাস এলাকা মুসলমানদের আয়াত্বে চলে আসে। ১০৯৬ সনে খৃষ্টান ত্রুসেডারগণ পুরো সিরিয়া ও ফিলিস্তিন দখল করার পর মসজিদে আকসা-এর ব্যাপক পরিবর্তন করে একে গীর্জায় পরিণত করে ফেলে। তারপর ১১৮৭ সালে মুসলিম বীর ও সিপাহসালার সুলতান সালাহ উদ্দীন আইয়ুবি জেরুজালেম শহর মুসলমানদের অধিকারে নিয়ে আসেন।

 

সুলতান সালাহউদ্দীন আইয়ুবির হাতে পরাজিত হওয়ার পর খৃস্ট শক্তি কিছুটা পিছু হটলেও ইয়াহুদী চক্র বায়তুল মুকাদ্দাসের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি রাখে। এবং তারা ফিলিস্তিন থেকে নিয়ে সুদূর মদিনা পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম এলাকা নিয়ে বৃহত্তর ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র করে বসে। এবং এরই প্রেক্ষিতে তারা তুরস্কের তৎকালীন শাসক সুলতান আবদুল হামিদ-এর নিকট ফিলিস্তিনে জমি কেনার অনুমতি চায় এবং এর বিনিময়ে তারা তুরস্কের সকল বিদেশী ঋণ পরিশোধ করে দেবে বলে অঙ্গীকার করে। কিন্তু সুলতান তাদের ষড়যন্ত্রমূলক এ প্রস্তাবে রাজি হননি। তা সত্তে¡ও ইয়াহুদীরা গোপনে জমি কিনতে থাকে।

 

১৯১৭ সনে ইংরেজরা ফিলিস্তিনে প্রবেশ করে ও ১৯২০ সনে সেখান পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘স্যার হার্বাট স্যামুয়েল’ নামক একজন ইয়াহুদীকে সেখানে বৃটিশ কমিশনার নিযুক্ত করে। এই জমি কেনায়র ফলে বহিরাগত ইয়াহুদীদের জন্য ফিলিস্তিনের দরজা খুলে যায়। সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকা ইয়াহুদীবাদী উগ্র সংস্থাগুলোকে ফিলিস্তিনে বসবাস ও জমি কেনার জন্য কোটি কোটি ডলার প্রদান করে। ফলে অতি অল্প দিনের মধ্যে বহু সংখ্যক ইয়াহুদী ফিলিস্তিনে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করে।

 

১৯৪৮ সনের ১৫ ই মে বেলফোর ঘোষণার মাধ্যমে ফিলিস্তিনে যায়নবাদী অবৈধ ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর ইয়াহুদীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে এবং মুসলমানদের কচুকাটা করতে থাকে। তাদের অত্যাচারে জর্জরিত আরবরা জীবন বাঁচাতে দলে দলে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এ সত্তে¡ও তখনও বায়তুল মুকাদ্দাস মুসলমানদের দখলে ছিল। কিন্তু আরবদের দুর্বলতার মুখে ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাঈল যুদ্ধের মাধ্যমেও তা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

 

ফিলিস্তিনের নির্যাতিত জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের আবাসভূমি ও আল-কুদ্স (বায়তুল মুকাদ্দাস) উদ্ধারের জন্য রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের সংগ্রামে দিশেহারা হয়ে ইসরাঈল ফিলিস্তিনের মধ্যে ভাঙ্গন ধরানোর জন্য ফিলিস্তিনের একটি ক্ষুদ্র অংশে সীমিত স্বায়ত্ত¡ শাসনের কথা বলে কিছু সংখ্যক নেতাকে বিভ্রান্ত করেছে। ২০০৭ সনে থেকে গাজা অবরুদ্ধ করে রেখেছে আরব বিশ্বের ক্যান্সার খ্যাত এই যায়নবাদী ইসরাইল রাষ্ট্রটি।

 

১৯২৪ সালের ৩ মার্চ ক্রুসেডাররা ইসলামের সর্বশেষ খিলাফত থাকা অঞ্চল তুরস্ক থেকেও খিলাফতকে ধ্বংস করল। লর্ড কার্জন বলল, আমরা মুসলিমদের মেরুদণ্ড খিলাফতকে ধ্বংস করে দিয়েছি, তারা আর দাড়াতে পারবে না। তারা সেই সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবির কবরে  লাথি মেরে বলল, উঠো সালাহুদ্দীন, তোমার বায়তুল মুকাদ্দাসকে রক্ষা কর। আর আমরা কি করলাম?

 

গতকাল ট্রাম্প ঘোষনা করে দিল, জেরুজালেম ইসরায়েল এর রাজধানী… কাটা গায়ে নুনেরছিটে দিয়ে বহু বছরের নির্যাতনের শিকার মানুষদের অধিকার হরণ করে নিল।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *