Main Menu

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে সাইনবোর্ড সর্বস্ব প্রাইমারী স্কুলকে জাতীয়করণ তালিকা ভুক্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন !

মোঃ আফজাল হোসেন দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার একটি সাইনবোর্ড সর্বস্ব ভূয়া প্রাইমারী স্কুলকে জালিয়াতি করে মাননীয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় পরিচয়ে তদবীরের মাধ্যমে জাতীয় করণ তালিকা ভুক্তির ঘটনায় সমগ্র উপজেলায় আলোচনার ঝড় উঠেছে। সরকার ঘোষিত ২৬,১৯৩টি স্কুল জাতীয় করণ অপেক্ষমান তালিকায় উক্ত বিষ্ণুপুর মটের ডিঘি ডাঙ্গাপাড়া বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ইতিমধ্যে জাতীয় করণের তালিকাভূক্ত হয়েছে মর্মে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে। উপজেলার ১০ নং হরিরামপুর ইউনিয়নের অন্তগর্ত উত্তর বিষ্ণুপুর গ্রামে বিদ্যালয়টি ২০১৫ সালে অক্টোবর মাসে একেবারে নতুন টিন খুটি দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। একই সালের ১৩ই অক্টোবর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আখতারুল ইসলাম, সহকারি শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন প্রধানকে নিয়ে পরিদর্শনে এসে প্রতিষ্ঠানটির নির্মাণ কাজ চলছে দেখতে পায় বলে এলাকা বাসি জানায়। কাগজে কলমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদেরকে ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর ৬৮২/২ নং স্মারকে পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস ভূয়া প্রতিবেদনের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ফাইল প্রেরণ করেন। বিদ্যালয়টি চালু দেখানোর জন্য ২০১৩ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় ৯নং হামিদপুর ইউনিয়নের ৬৭ নং নব্যসরকারি সরকারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪জন শিক্ষার্থীকে নিয়মিত শিক্ষার্থী দেখিয়ে শিক্ষা অফিসের সহায়তায় প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া হয়েছে। ওই ভূয়া প্রতিবেদনকে ঘিরে জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর জনৈক শিক্ষিকার লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় অনেক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কথিত বিদ্যালটির সহকারি শিক্ষিকা শাহানাজ বেগমের স্বামী ৬৭ নং সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল ইসলাম মাননীয় প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রীর বিশেষ সহকারি এবং ভাগ্নে নাজমুল হক খুশির খালাতো ভাই পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি জালীয়াতি চক্রের সঙ্গে আতাত করে বিভিন্ন সময় জেলা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের টেলিফোন করে তদবীর বাণিজ্য করে। শুধু তাই নয় মাননীয় মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় পরিচয় দানকারী শফিকুল মাস্টার ইতিমধ্যে পার্বতীপুর উপজেলায় একই কায়দায় পাঁচটি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্য করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা জানান, মাননীয় প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রীর ভাগিনা ও বিশেষ সহকারী নাজমুল হক খুশির শুপারিশ/নির্দেশনা মূলক টেলিফোনের কারণেই আমারা বাস্তবতা বিবর্জিত প্রতিবেদন দিতে বাধ্য হয়ে থাকি। পার্বতীপুর উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে গত ২০ জুন হরিরামপুর (কালিবাবুর পাড়া) বে,স,প্রা, বি এবং খাগড়াবন্দ মেধাকুঞ্জ বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে। বাস্তবে ওই প্রতিষ্ঠান দুটিও সাইন বোর্ড সর্বস্ব। এই বিদ্যালয় দুটির কলকাঠি মন্ত্রীর নিকট আত্মীয় পরিচয়ে এই শফিকুল মাস্টার নাড়ছেন বলে শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে। স্মারক নং ১৯/১(১৫) ১২/০১/১৬ইং দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের দপ্তর হতে ক্রমিক নং-১০ পার্বতীপুর উপজেলার উত্তর বিষ্ণুপুর মটের দিঘি ডাঙ্গা পাড়া বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রতিবেদন সচিব প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেণ। এর পর বিদ্যালয়টি মন্ত্রণালয়ে জাতীয় করণ অপেক্ষামান তালিকায় তালিকাভূক্ত হয়েছে। রাতারাতি গড়ে ওঠা সাইন বোর্ড সর্বস্ব বহুল আলোচিত একটি ভূয়া প্রতিষ্ঠান অবৈধ আর্থিক ও রাজনৈতিক তদবীরে জাতীয় করণের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় জাতীয় করণ উপযুক্ত পুরাতন বিদ্যালয় সমুহ বাদপড়ার আশংখা বাড়ছে। পক্ষান্তরে ক্লিনম্যান হিসেবে পরিচিত মাননীয় মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান মহোদয়ের ভাবমুর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। এ বিষয়ে পার্বতীপুর উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন প্রধান জানান শফিকুল মাস্টার নিজেই পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে তদবীর করছে জেনেছি, তবে প্রতিষ্ঠান গুলি রাতারাতি গড়ে উঠলেও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে শফিকুল মাস্টার ম্যানেজ করায় আমরা প্রতিবেদন দিতে বাধ্য হয়েছি। অভিযোগ সম্পর্কে শফিকুল মাস্টার বলেন, উত্তর বিষ্ণুপুর মটের দিঘি বে-সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আমার স্ত্রী শাহানাজ বেগমকে সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি স্বাভাবিক কারণেই নাজমুল হক খুশি ভাইকে দিয়ে একটু মন্ত্রণালয় এবং ডিপিইও/ইউএনওকে টেলিফোনে সহায়তা নিয়েছি। তবে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান নয় তিনটি প্রতিষ্ঠান তদারকী করছি। খাগড়াবন্দ মেধাকুঞ্জ বে-সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় অদ্যবধি চালু হয়নি অথচ তিন বছর হতে যথাযথ চলছে এ প্রতিবেদন কতটুকু গ্রহণযোগ্য এর উত্তরে শফিকুল মাস্টার জানায় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় থাকলে রাতকে দিন করাও স¤া¢ব।
মোবা: ০১৭১২৫৮১৫১২
তারিখ: ২২/১২/২০১৬ইং






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *