নিজস্ব সংবাদদাতা:জঙ্গি সম্পৃক্ততায় জড়িত সন্দেহে মালয়েশিয়া পুলিশের ফেরত পাঠানো দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়নের সেই পেয়ার আহমেদ আকাশকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাফর আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ আকাশকে জামিন দেন।
ওই কোর্টের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ এ কে এম মনিরুজ্জামান কবীর বুধবার বলেন, চলতি মাসের ২ তারিখে আদালত জামিন দিয়েছেন। আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেছি। কিন্তু আপিল বিভাগ জামিনাদেশ স্থগিত করেছেন তা জানা যায়নি।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়া থেকে মালিন্দো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে আকাশকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। এরপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ০৪ সেপ্টেম্বর ফেনী জজ কোর্টের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল আদালত-১ এর মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
২০১৬ সালের ১৮ আগস্ট মালয়েশিয়ার পুচং শহরের একটি বাসা থেকে একটি একে-৪৭ বন্দুকসহ আকাশকে আটক করে পুলিশ।
আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে সরকারি কৌসুলী (পিপি) অ্যাড. হাফেজ আহম্মদ জানান, এর কয়েকদিন পর দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আকাশকে ফেনীর আদালতে হাজির করে। এ সময় তাকে ২০০৫ সালের একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্রের মধ্য থেকে খোয়া যাওয়া একটি একে-৪৭ বন্দুক বিক্রির সময় ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সংলগ্ন হারুনের বাড়ির সামনে র্যাবের হাতে আটক হন আকাশ।
এ ঘটনায় র্যাব-৭ এর ডিআইডি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পরে জামিনে বের হয়ে তিনি মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান।
ওই সময় জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ জানান, বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে তিনি অস্ত্র বিক্রি করেন। এরপর এক/এগারোর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সময় আকাশ জামিন পেয়ে পালিয়ে মালয়েশিয়া চলে যান।
ইন্টারপোলের হুলিয়া মাথায় নিয়ে মালয়েশিয়াতেও জামায়াতের রাজনীতিতে যুক্ত হন আকাশ। তাকে অভিযুক্ত করে ওই বছরের ৩১ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন র্যাবের এসআই আনোয়ারুল হোসেন। বর্তমানে মামলাটি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।