বাংলারদর্পন :
ছাগলনাইয়া উপজেলার ঘোপাল ইউনিয়নের টিআর-কাবিখা ও কাবিটার সহ বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ যায় চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিকের পকেটে। তিনি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এসব প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন মর্মে অভিযোগ উঠেছে। হতদরিদ্রদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, ওয়ার্ড মেম্বার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, স্থানীয় ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য এমদাদুল হক রিংকু ঘোপাল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুল হকের অর্থ আত্বসাতের তদন্ত ও বিচারের দাবী জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর নিকট প্রেরণ করেছেন। তিনি জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক দুর্নীতি দমন কমিশন ও সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহের বরাবরে অভিযোগের অনুলিপি পাঠিয়েছেন।
অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, অতিদরিদ্র, ভূমিহীন ও বেকার জনগোষ্ঠির জন্য কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা), কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও টেস্ট রিলিফ (টিআর) প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে স্থানীয় চেয়ারম্যান মানিক রক্ষকের বিপরীতে ভক্ষকে পরিণত হয়েছেন। অন্যদিকে কাজ না হওয়ায় ওই এলাকার রাস্তা, পুল-কালভার্ট চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ওই এলাকার শহীদ আলী হোসেন সড়কের জন্য বরাদ্দ এনে ওভারলেপিং করে আনোয়ার মেম্বারকে সভাপতি করে নাম সর্বস্ব কমিটি দেখিয়ে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছে। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল হকের দায়িত্বকালে এ সড়ক মেরামত করা হয়েছে। এছাড়া অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থানসহ অন্তত ১৭টি প্রকল্পের প্রায় ৫০ লাখ টাকা উত্তোলন করে নেন। বেশ কয়েকটি প্রকল্পে তিনি স্থানীয় মহিলা ওয়ার্ড মেম্বার ছাদিয়া আক্তার সুমিকে সভাপতি দেখিয়ে যান। এ বিষয়ে ছাদিয়া আক্তার সুমি জানান, আমি অতি দরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসূচির আওতায় ৩টি প্রকল্প ও ১ টন টিআরের অর্থে মদন ভূঞা সড়ক মেরামত করেছি। এসময় কাজের ধরণ ও অর্থের পরিমাণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ফাইল প্রস্তুত করেছি, তবে সঠিক কিছু বলতে পারছি না।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের নামে ৪টি প্রকল্প দেখিয়ে তিনি চলতি অর্থবছরের ভূমি অফিস ১ শতাংশ কর ১ম কিস্তির ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৫ শ ও নিজ বাড়ীতে ৩টি প্রকল্প দেখিয়ে ২য় কিস্তির ৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় ৩৫ লাখ টাকা ২ কিস্তিতে আত্মসাৎ করেন। এতে তিনি শ্রমিক হিসেবে জেলে গ্রামের দূর্গাপুর (১ নং ওয়ার্ড) ভিজিডি কার্ডধারী ১৮০ জন মহিলা ও ভূয়া শ্রমিক দেখিয়ে জাল স্বাক্ষর গ্রহণ করেন। এ কাজে তাকে কামরুল মেম্বার সহযোগীতা করেছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক মানিক উল্লেখিত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে টিআর-কাবিখা সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়। এক্ষেত্রে একাধিক ইউপি সদস্যের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির চোখ ফাঁকি দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ অসম্ভব। একটি মহল তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।