শেরপুরের ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত – বাংলার দর্পন ডটকম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৭।

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

উপজেলাটির বিভিন্ন সরকারি অফিস এবং পুরো বাজার এলাকার দোকানপাট ও বাসাবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে।

মহারশি নদীর বাঁধের পুরনো কয়েকটি ভাঙা অংশ দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করায় এই আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে।

পাহাড়ি ঢলের কারণে বিভিন্ন সবজিক্ষেত ও সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

এছাড়া বাজারের বিভিন্ন দোকানপাটে পানি প্রবেশ করায় মালামালের ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

এই ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী উপজেলা সদরে আকস্মিক বন্যায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা পরিষদে অবস্থিত বিভিন্ন সরকারি অফিস কক্ষে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। সরকারি অফিসে টানা তিন দিনের ছুটি থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা না থাকায় অফিসগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা- তা জানা সম্ভব হয়নি।

প্লাবিত গ্রামগুলো হলো- ঝিনাইগাতী সদর, কান্দুলী, মাঝাকান্দুলী, দাড়িয়ারপাড়, বাগেরভিটা, কুচনিপাড়া, কালিনগর, সারিকালিনগর, বালুরচর, সুরিহারা, কোনাগাঁও, চতল, বনগাঁও, মাটিয়াপাড়া, পাগলারমুখসহ প্রায় ২০টি গ্রাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার ভোর থেকে হঠাৎ করে উজান থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি নেমে আসায় উপজেলা সদরঘেঁষা মহারশি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা পরিষদসহ সদর বাজার এলাকা এবং আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করে। এ ঢল অব্যাহত থাকলে আরও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমন ফসলের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি তার ইউনিয়নে ১০/১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ। ফলে এলাকার লোকজন গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ঢলের পানিতে তলিয়ে উপজেলা পরিষদ পুকুরসহ অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। পানির তোড়ে রাস্তাঘাট ভেঙে বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতা জানান, তার ইউনিয়নে ঢলের পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

ধানশাইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানির তোড়ে বাগেরভিটায় রাস্তা ভেঙে ধানশাইল-কুচনিপাড়া কান্দুলী, মাঝাকান্দুলীর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এদিকে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও ইউএনও ফারহানা করিম সকাল থেকেই পাহাড়ি ঢলের পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, এই ঢলের পানিতে উপজেলা সদরসহ আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আশরাফ উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলে ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে ঢলের পানি সরে যাওয়ার পর বলা যাবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *