সৈয়দ মনির অাহমদ : ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের তৎকালিন চেয়ারম্যান ও জমিদার মো. ছাবের চৌধুরী ১৯৪৫ সালে সোনাগাজীর প্রাণকেন্দ্রে নিজ নামে মো. ছাবের মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেন। প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন, কারিগরী ভবন, মসজিদ, মার্কেট সহ বিদ্যালয়ের সর্বমোট অায়তন ২৬৫ শতক। সারাদেশে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয় করনের ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সর্বশেষ গত ৩০ অাগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতির অাদেশক্রমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করন করা হয়।
জানা যায়, বর্তমানে বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম পর্যন্ত সর্বমোট শিক্ষার্থী ১৮৯২ জন। তারমধ্যে ভোকেশনাল এর দুটি শ্রেনীতে ১৪০ জন। ছাত্রী প্রায় ৭শ জন। শিক্ষার্থী অনুযায়ী ৫২ জন শিক্ষক থাকার নিয়ম হলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক অাছেন মাত্র ১২ জন। বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তে ১৫ জন খন্ডকালিন শিক্ষক দিয়ে কোনমতে পাঠদান চালানো হচ্ছে। যার কারনে ২০১৭ এসএসসিতে পাশের হার ছিল মাত্র ৪৭%, তবে ২০১৬ জেএসসিতে পাশের হার ছিল শতভাগ। অফিস সহকারী হিসেবে ২ জনের স্থলে অাছেন ১জন।
ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়ে ক্রীড়া শিক্ষক না থাকায় খেলাধুলায় অাগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, প্রায় ২হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৪৫ টি শ্রেনী কক্ষের স্থলে অাছে মাত্র ৩০ টি। শ্রেনী কক্ষের চরম সংকটের মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪র্থ তলা বঙ্গবন্ধু ভবন নির্মিত হয়। ৭শ ছাত্রীর জন্য কোন কমনরুম এবং ইবাদত খানা নেই। ৪টি বাথরুম ও ২টি মাত্র টিউবওয়েল রয়েছে যা ২হাজার শিক্ষার্থীর জন্য যথেষ্ট নয়।
প্রধান শিক্ষক জয়নুল অাবদীন বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে মাধ্যমিক পাশ করা অনেকে দেশের গুরুত্বপূর্ন পদে অধিষ্ঠিত অাছেন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও শিক্ষক সংকটের বিষয়ে সংশ্লিস্ট কতৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলা অা’লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র এডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, সারাদেশের ন্যায় এই অঞ্চলের শিক্ষানুরাগী জনসাধারণের দাবীর প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা সোনাগাজীর ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করন করায় অামরা কৃতজ্ঞতা জানাই। আশাকরি অতীতের ন্যায় প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের বাতিঘর হিসেবে এগিয়ে যাবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান জেড. এম কামরুল অানাম জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা তাঁর নির্বাচনি সকল ওয়াদা পুরণ করেছেন। তারই অংশ হিসেবে সোনাগাজী মো. ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে। অাশাকরি উপকুলিয় এ অঞ্চলে শিক্ষার হার ও মান বৃদ্ধি পাবে।