Main Menu

রাণীনগরে চুরির অপবাদে কিশোরকে আটক রেখে অমানুষিক নির্যাতন

 

 

এ বাশার(চঞ্চল)রাণীনগর(নওগাঁ)প্রতিনিধি:-নওগাঁর রাণীনগরের গ্রামীণ পল্লীতে বসত বাড়িতে চুরি করেছে এমন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুই দিন ধরে গোয়াল ঘরে আটক রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় শরিফুল ইসলাম নামের এক কিশোরকে নির্যাতন করা হয়েছে। নির্যাতনকারিরা পায়ে হাতের নখের ভিতরে সুচ ঢুকানো, টাকèা দিয়ে শরীরিরে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র করা সহ হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধর লাঠি পেটা করার অভিযোগে রাণীনগর থানায় ঘটনার দুই দিনের মাথাই নির্যাতনকারি চার জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার সাথে জরিত থাকার দায়ে আব্দুল খালেক নামের একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। খবর পেয়ে ঘটনার প্রথম দিন রাতে এসআই শফি ওই কিশোরকে উদ্ধার না করে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও নির্যাতনকারিদের সাথে ঘন্টাব্যাপী দান-দরবার করে রহস্যজনক কারণে আইনগত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ঘটনাস্থল থেকে চুপিসারে চলে আসেন।

জানা গেছে, উপজেলার কালীগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপুর গ্রামের মৃত কফিল উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেকের বাড়িতে গত ১৫ দিন আগে নগদ টাকা সহ স্বর্ণালংকার চুরি হয়। চুরি ঘটনার মূলহোতাকে তারা সনাক্ত করতে না পারলে একই গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে শরিফুল ইসলাম (১২) কে এই চুরির সাথে জরিত থাকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে গত ২৫ আগষ্ট শুক্রবার অনুমান বিকাল ৩ টার দিকে শফিকুল তার বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় খালেক সহ তিন/চার জন মিলে তাকে ডেকে এনে খালেকের বাড়ির গোয়াল ঘরে আটক রেখে হাত-পা বেঁধে এলোপাতারি লাঠি পেটা করে। এক পর্যায়ে শরিফুল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে নির্যাতনকারি খালেক গং শরিফুলের হাতে-পায়ে সুচ, টাকèা ঢুকিয়ে উল্লাস বসত আতœহারা হয়ে নানা কায়দায় কিশোরকে দফায় দফায় দুই দিন ধরে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালায়। ওই দিন রাত ৮ টার দিকে তার মা আয়শা বেগম জানতে পারে তার ছেলেকে খালেকের বাড়ির গোয়াল ঘরে আটক রেখে চুরির অপবাদ দিয়ে মারপিট করে অচেতন অবস্থা আটক রাখা হয়েছে। বার বার তাদের কাছ থেকে ছেলে উদ্ধারের চেষ্টা করে নির্যাতনকারী খালেক, মিজানুর, জিয়া ও টিপু’র মন গলাতে না পেরে অনেকটা বাধ্য হয়ে শুক্রবার রাতেই রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ কে বিষয়টি জানালে ঘটনাস্থলে এসআই শফিকুর রহমান শফি’কে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে এসআই শফি গুরুত্বর আহত কিশোর শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার না করে স্থানীয় চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু মন্ডল ও খালেকের লোকজনের সাথে ঘন্টাব্যাপী দান-দরবার করে রহস্যজনক কারণে আইনগত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ঘটনাস্থল থেকে চুপিসারে চলে আসেন। এরপর থেকে শুরু হয় আবারও কিশোরের উপর অমানবিক নির্যাতন। শনিবার রাতে এক পর্যায়ে কিশোরের মা আয়শা বেগম অফিসার ইনচার্জকে বলে, “আমার ছেলেকে ওরা কি মেরেই ফেলবে? আমি কি আইনের কোন সহযোগীতা পাব না?” এমন কাকতি মিনতির পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে শনিবার রাত ১২ টার দিকে কিশোর শরিফুল কে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য নওগাঁর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। কিশোরের শারীরিক অবস্থা ক্রমশ অবনতি ঘটলে এক পর্যায়ে রাণীনগর থানাপুলিশ ঘটনার মূলহোতা খালেক সহ চার জনকে আসামী করে শনিবার রাতেই একটি মামলা হলে খালেককে পুলিশ গ্রেফতার করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ এসএম নাজমুল আহসান জানান, কিশোর শরিফুলকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আমরা যথাসাধ্য চিকিৎসা সেবা প্রদান করি। বেধর মারপিটের কারণে তার শরীরিরে একাধিক ক্ষত চিহৃ দেখা গেছে। ভাল চিকিৎসার জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চুরির মিথ্যা অপবাদে শরিফুল ইসলামকে মারপিটের কারণে তার মা আয়শা বেগম বাদি হয়ে চার জনের নাম উল্লেখ্য করে থানায় মামলা করলে এজাহার নামীয় খালেক নামের একজন কে গ্রেফতার করি। অন্যদেরকে গ্রেফতার অভিযান অব্যহত রয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *