Main Menu

গণমাধ্যমের অধিকার ও সীমারেখা থাকতে হবে – banglardarpan.com

 

বাংলার দর্পন ডটকম >>>

গণমাধ্যম খুব কমই প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। এর কারণ হলো, সংকটময় সময়ে গণমাধ্যম সাধারণ মানুষকে ছেড়ে যায়নি বা না যেতে বাধ্য হয়েছে। যেমন ২০০১ সালের নির্বাচন। গণমাধ্যমের অধিকাংশ তখন খোলাখুলিভাবে বিএনপি-জামায়াত জোটকে সমর্থন করেছে, বলা যায় জিতিয়েছে। কখনো তাদের মনে হয়নি, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সাংবাদিকদের যে, জামায়াত-বিএনপি প্রায় অভিন্ন। এবং গণতন্ত্রের নামে জামায়াতকে সমর্থন করা যায় না। শুধু তাই নয়, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর থেকে তারা যে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়েছে তাও উপেক্ষা করা হয়েছে। বেছে বেছে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার, হিন্দু মেয়েদের ধর্ষণকেও খবর মনে করা হয়নি। কিন্তু যখন সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হতে থাকল এবং বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিকরা আক্রান্ত হতে লাগলেন তখন তারা সেইসব সংবাদ পরিবেশন করতে লাগলেন।

আসলে নতুন শতকে পদার্পণ করার পর পাঠক আর গণমাধ্যমকে সেভাবে গ্রহণ করছেন না। তারা প্রতিবাদ করছেন, সমালোচনা করছেন। বিশেষ করে মানবতাবিরোধী বিচার হওয়ার সময় গণমাধ্যমের একটি ঝোঁকে দেখা গেছে সংবাদ প্রচারে ভারসাম্য বা ব্যালান্স রক্ষা করার। এটি যে নৈতিকতাবিরোধী এটিও তাদের মনে হয়নি। সে কারণে আমি অনেক একনিষ্ঠ পাঠককে দেখেছি সংবাদপত্র বদল করতে। অনেকে নাকি তাদের ‘প্রিয়’ চ্যানেল দেখাও কমিয়ে দিয়েছেন। এ সমালোচনা যে কথার কথা নয় তার প্রমাণ এ সংকলন।

আমাদের দেশে যারা বুদ্ধিজীবী হিসেবে পরিচিত তাদের কাঁধে অনেক বোঝা। আমার বা আমার অগ্রজদের কাঁধে তিনটি ঔপনিবেশিক শাসনের বোঝা রয়েছে। এ তিনটি বোঝা থেকে কেউই মুক্ত নন। যারা এই বোঝা ঝেড়ে ফেলতে চান তাদের নিজ পেশা ছাড়াও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী কেউ মুক্ত নন। এদের মাঝে যারা সমাজ-রাষ্ট্রে অবস্থান করে নিয়েছেন বা মানুষের মনে, তাদের জীবন বিশ্লেষণ করুন। একজন কামরুল হাসান, হাশেম খান বা রফিকুন নবী। তারা শিক্ষকতা করেছেন, ছবি এঁকেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। সে জন্য তারা পরিচিত, অন্যরা হয়তো আরো ভালো আঁকেন কিন্তু তাদের কোনো অবস্থান নেই জনমানসে। সেই শামসুর রাহমান থেকে শুরু করে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বা বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরকে দেখুন, একই বৃত্তান্ত। হালের শাহরিয়ার কবিরের কথা ধরুন। সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরী বা শহীদুল্লাহ কায়সার- একই বৃত্তান্ত। সৈয়দ হাসান ইমামও একই কাজ করেছেন। বাংলাদেশে যে প্রগতিশীল ধারার উদ্ভব বা বিকাশ তা এদের কারণেই। শুধু তাই নয়, আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, সব গণতান্ত্রিক বা সাংস্কৃতিক আন্দোলন শুরু করেছেন সংস্কৃতিকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক বা বুদ্ধিজীবীরা। পরে রাজনীতিবিদরা তা এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সেই ধারাটা এখনো আছে দেখে আজ গণমাধ্যম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। প্রশ্নটি হলো গণমাধ্যম কি যা খুশি তা করার এখতিয়ার রাখে?

গণমাধ্যমে যারা আছেন তারা এ প্রসঙ্গে দুটি যুক্তি দেন- নৈর্ব্যক্তিকতা বা নিরপেক্ষতা এবং অবজেকটিভিটি। পৃথিবীর কোনো সংবাদপত্রই নিরপেক্ষ নয়। অবজেকটিভ কন্ডিশনের ব্যাখ্যাও একেক রকম। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে অর্থ একটি বিষয়। না হলে ইকোনোমিস্টের মতো পত্রিকা কীভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধকে সমর্থন করে? তারা ইউরোপে আবার তা সমর্থন করে না। করলে পাঠক তারা শুধু হারাবে না তাকে আইনেরও সম্মুখীনও হতে হবে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হওয়া থেকে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে সমালোচনা জোরদার হয়েছে। এই বিচার যখন শুরু হয় তখন থেকে ছাপা ও বিদ্যুতায়িত মাধ্যমগুলোর সংবাদ পরিবেশনা দেখুন। প্রতিদিন মানবতাবিরোধীদের ‘ভি’ চিহ্ন দেখান হয়েছে, তাদের সমব্যথীদের সমান স্পেস দেয়া হয়েছে, যারা বিচার চাচ্ছেন তাদের মতো। এই পরিবেশনা কী ধারণা দেয়? যে তারা খুনি নয়, রাজনৈতিক কারণে তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হচ্ছে। অন্যান্য খুনিদের ‘ভি’ চিহ্ন কি নিয়মিত দেখান হয়েছে বা তাদের বক্তব্য?

তাদের দণ্ড কার্যকরের দিন সকাল থেকে সাররাত পর্যন্ত তাদেরই বেশি স্পেস দেয়া হয়েছে। তাদের আত্মীয়স্বজন, (চাকর-বাকর থাকলে তারাও বাদ যেত না) সমর্থকদের একই সাক্ষাৎকার বারবার প্রচারিত হয়েছে। মহা সার্কাস। এটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সৃষ্টি। একটি করুণ দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছে। সাকাচৌ ও মুজাহিদের মার্জনা ভিক্ষা নিয়ে অর্ধেক বেলা বারংবার বলা হয়েছে, বিভ্রান্তির সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কি মার্জনা করবেন, প্রেসিডেন্ট? কোনো সংবাদ মাধ্যম এ কথা বলেনি যে, যে প্রধানমন্ত্রী এই বিচার শুরু করলেন, তিনি মার্জনা করবেন কীভাবে? রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও মওদুদ আহমেদ তো এক নয়। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ১৯৭০ থেকে নির্বাচিত হচ্ছেন, মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, কখনো মানবতাবিরোধীদের পক্ষে একটি কথাও বলেননি। তাকে নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি করা হলো। তাদের ফাঁসি হওয়ার দিনের ভিডিও দেখুন। তারা যে খুন-খারাবি অন্যায় করেছে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় তা কতক্ষণ দেখান হয়েছে বা ভিকটিমদের পরিবারের? এদিনই সবচেয়ে বিরূপ হয়েছেন দর্শকরা বিশেষ করে যারা ফাঁসি চাচ্ছিলেন। বরং প্রিন্ট মিডিয়া অনেক সংযম দেখিয়েছেন এ ক্ষেত্রে।

টক-শোর ক্ষেত্রেও একই মনোভাব লক্ষ্য করি। যে কোনো বিষয়ই আলোচিত হোক না কেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজনকে আনলে বিএনপি-জামায়াত পক্ষের একজনকে আনতে হবে। নিরপেক্ষতা বা ভারসাম্য রক্ষার কারণেই নাকি এসব করতে হয়। সেই মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের কথাই বলি আবার। মানবতাবিরোধী বিচার করা যাবে কি যাবে না, আইনটি সঠিক কিনা এ নিয়ে বিতর্ক শুরু করে দেয়া হলো। মানবতাবিােধী বিচারটি কেন করা হলো সেটি ধামাচাপা পড়ে গেল। নাজিদের বিচার যখন শুরু হয় তখন এ ধরনের কোনো বিতর্ক কেউ তোলেনি। টক-শোর প্রযোজকদের ধারণা এতে বুঝি দর্শকরা খুব খুশি। না তারা খুবই বিরক্ত। যে কারণে টক-শোর দর্শক অনেক হ্রাস পেয়েছে। অনেক শোর সময় মধ্যরাতের পর পরিবর্তিত করা হয়েছে। বিদ্যুতায়িত মিডিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত তারা বলেন, এতে নাকি স্বাধীনতাবিরোধীদের মুখোশ ‘উন্মোচিত’ করা হয়। ৭০ বছর ধরে জামায়াত কি করছে তা আমাদের জানা আর প্রায় ৪০ বছর বিএনপি কি করেছে তাও জানা। তাদের কী মুখোশ ‘উন্মোচিত’ হলো তা অনুধাবন করা কঠিন।

বিশ্বজিৎ এবং হেফাজতের ঘটনাটি বিশ্লেষণ করা যাক। বিশ্বজিৎ খুন হওয়ার পর টিভিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় তাকে কোপানোর দৃশ্য দেখান হয়েছে। এই মর্মস্পর্শী ঘটনা সবাইকে স্পর্শ করেছে এবং অপরাধীদের দ্রুত বিচার দাবি করা হয়েছে। সংবাদপত্রও একইভাবে সংবাদ পরিবেশন করেছে। টকশোতে দীর্ঘদিন বিষয়বস্তু হয়েছে এই হত্যা। কিন্তু হত্যাকারীদের যে দ্রুত বিচার হলো এবং তাদের ফাঁসির দণ্ড দেয়া হলো সেটি মাত্র একদিনের খবর হয়েছে। অন্যদিকে হেফাজত অফিস গাড়িতে আগুন দিয়েছে বা কুরআন পুড়িয়েছে তা সংবাদপত্র বা টিভিতে একদিনের খবর হয়েছে। কুরআন পোড়ানো বারবার দেখানো হলো না কেন বা তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ? বিএনপির ‘সন্ত্রাসী’ আন্দোলনের সময় খালেদার গাড়ি বহরে হামলার ঘটনার কথা বারবার বলা হয়েছে, দেখানো হয়েছে। কিন্তু খালেদার দেহরক্ষীদের ফাঁকা গুলি ও পথচারী চাপা দেয়ার বিষয়টি ছবিসহ মাত্র একটি পত্রিকায় দেখানো হয়েছে।

মাহমুদুর রহমানের ‘আমার দেশ’ পত্রিকার কথা ধরা যাক। সাংবাদিকতার নামে দিনের পর দিন শুধু মিথ্যা খবর ও ছবি পরিবেশনা নয়, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ-মৌলবাদে উসকানি দেয়া হয়েছে। ইলেকট্রনিক মিডিয়া বা সংবাদপত্র তা মেনে নিয়েছে কিন্তু সরকার কেন তা বন্ধ করল সে জন্য সংবাদসেবীরা তার প্রতিবাদ করেছেন। ১৫ জন সম্পাদক তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছেন মিথ্যা বলার গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার জন্য।

সংবাদপত্রের মালিকানার বিষয়টি আমরা জানি। কিন্তু এও জানি, অধিকাংশ গণমাধ্যমে যেসব তরুণরা কাজ করছেন তাদের সিংহভাগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। মালিক চাইলেই যা করতে চান তা পারবেন সেটি বোধহয় ঠিক নয়। পাকিস্তান আমলে দৈনিক সংবাদ বা দৈনিক আজাদ মুসলিম লীগ মালিকানায় থাকলেও মালিক তার ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে পারেননি।

আগে যা সংবাদপত্রের জগৎ ছিল এখন তা নেই এবং তা স্বাভাবিক। আগে সাংবাদিকতার সঙ্গে আদর্শবাদের একটি ব্যাপার ছিল। এখন বলা হয় বাজার অর্থনীতির যুগ। অর্থনীতি আগে তারপর আদর্শ। তাও মেনে নেয়া গেল কিন্তু তারপরও কোনো কোনো বিষয়ে একটি সীমারেখা টানা উচিত।

বাংলাদেশে এ প্রশ্ন উঠত না যদি না দেশটি বিভক্ত হতো। ১৯৭৫ এর পর দেশ দ্বিধাবিভক্ত। পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে স্বাধীনতা পক্ষের ও বিপক্ষের শক্তি আছে। গণতন্ত্রের নামে তারা রাজনীতি করে যাচ্ছে পৃথিবীর কোথাও যা সম্ভব নয়। ইউরোপে ‘হলোকাস্ট’ নিয়ে কোনো বিতর্ক তোলাই সম্ভব নয়। এ দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বলীয়ান। অনেকে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী মেনে নিলেও বিএনপিকে বিরোধী গণতান্ত্রিক মর্যাদা দিতে চান। কিন্তু বিএনপি যে খুনিদের শুধু অবমুক্ত নয়, ক্ষমতায় বসিয়েছে, দেশকে দ্বিখণ্ডিত করেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধকে সমর্থন করছে তা তো মিথ্যা নয়। বাংলাদেশে মৌল জঙ্গিবাদকে তারাই আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে তা কি মিথ্যা? টকশোতে অবশ্য নিয়মিত ‘যুক্তি’ দিয়ে বিএনপি-জামায়াত পক্ষ বলে এটি ঠিক নয়। সত্য অস্বীকার করা তো কোনো যুক্তি নয়। কিন্তু টকশোতে সেটিও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। আমাদের আপত্তিটা সেখানে।

মালিকানা ছাড়াও এর আরেকটি কারণ হতে পারে, মানস জগতে আধিপত্য বা বিভ্রান্তি। যে জেনারেশন এখন গণমাধ্যমে ক্ষমতায় তাদের সিংহভাগ বেড়ে উঠেছেন বিএনপি-জামায়াত বা স্বৈরাচারী শাসনে। তারা ত্রিশ বছর ধরে গণমাধ্যম ও পাঠ্য বইয়ের মাধ্যমে যা প্রচার করেছে তা একটা ছাপ রেখে গেছে মানস জগতে- তা থেকে এরা সম্পূর্ণভাবে মুক্ত নন।

আমরা মনে করি ১৯৭৫-এর পর যা ঘটেছে, তা আমাদের রাজনীতির বিচ্যুতি। এ বিচ্যুতি বা ক্ষত সারাতে হলে মানসজগতে বাঙালিত্ব বা যে রাষ্ট্র সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৭১ সালে তার মৌলিক কাঠামোর বিষয়টিই বারবার বলতে হবে। এ দেশে সব প্রচার হবে বা রাজনীতি হবে স্বাধীনতা পক্ষের শক্তির। এ দেশে গণতন্ত্রের নামে স্বাধীনতাবিরোধীদের, মৌল জঙ্গিবাদের পক্ষ আমরা নিতে পারি না। মানবতাবিরোধী অপরাধের জঙ্গি মৌলবাদের, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্কের বা স্বৈরাচারী শাসকদের পক্ষে আমরা স্পেস দিতে পারি না। সেটি দিলে আমাদের নয় তাদের হাতকেই শক্তিশালী করা হবে, তাদেরও বাঁচিয়ে রাখা হবে। পৃথিবীতে কোথাও তা হয়নি। এখানেই বা কেন হবে? স্বাধীনতার পক্ষের যারা আছেন তাদের দ্ব›দ্ব থাক, তাদের পক্ষ-বিপক্ষ স্পেস পেতে পারে। কিন্তু স্বাধীনতার বিরোধীদের নয়। তা হলে স্বাধীনতার মাসে বা বিজয়ের মাসে গণমাধ্যম যে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে তা অর্থহীন হয়ে যায়। একটি দেশ প্রায় ৫০ বছর স্বাধীনতার পর স্বাধীনতা (মুক্তিযুদ্ধ) নিয়ে এত আবেগ থাকে না যা আমাদের মধ্যে আছে। তার কারণ, এ দেশে এখনো স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিরা বলীয়ান, অর্থের জোরে, বিভ্রান্তি সৃষ্টির জোরে তারা সবখানে জায়গা পান এবং এভাবে তারা নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখেন। অবস্থান ঠিক থাকলে তো শত লড়াই করেও তাদের উচ্ছেদ করা যাবে না। আর তারা থাকলে বাংলাদেশে ভায়োলেন্স, দ্ব›দ্ব-সংঘাত বিরাজ করবে, জঙ্গি-মৌলবাদ বিকশিত হবে। একটি উদাহরণ দিই। জিয়া আমল থেকে টিভিতে আজান ও ধর্ম বিষয়ক অনুষ্ঠান বাধ্যতামূলক হয়েছে। এবং এখন এটা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়। সংবাদপত্রে প্রতি শুক্রবার থাকে ধর্ম বিষয়ক পাতা। গণমাধ্যমের কি কখনো মনে হয়েছে যে সেখানে ইসলাম ছাড়া আর কোনো ধর্ম স্থান পায় না। ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত এগুলো না থাকায় কি আমরা মুসলমানিত্ব হারিয়েছিলাম? কিন্তু দেখা গেছে, স্পেস দিলে সে স্পেসটি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এখন গণতন্ত্র, অবজেকটিভিটি বা নিরপেক্ষতার নামে হেজাবি (হেফাজত+জামায়াত+বিএনপি) বা মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারের বিরুদ্ধ পক্ষদের যে স্পেস দেয়া হয়েছে সেটি কি কাম্য? এ প্রশ্নটাই এখন করা হচ্ছে। কেননা গণমাধ্যম এখন সবচেয়ে ক্ষমতাবান। যিনি ক্ষমতাবান তিনি যদি বিবেচনা না করে ক্ষমতা ব্যবহার করেন তাহলে লাভ থেকে ক্ষতি হয় বেশি। গণমাধ্যমের অধিকার আছে ঠিকই কিন্তু তার একটি সীমারেখা বা দায়বোধ ও দেশবোধও থাকতে হবে। না হলে গণমাধ্যম মানুষের মনের জায়গাটা হারাবে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *