হার্টের ছিদ্র নিয়ে জন্ম নেয়া হাফিজা বাঁচতে চায়

আব্দুর রহিম,খাগড়াছড়ি সংবাদাতা:

যে বয়সা একটি শিশু মিষ্টি মিষ্টিকথা
ছোট্ট ছোট্ট দুষ্টুমী দিয়ে আনন্দে ভরে তোলে একটা পরিবারের ছোট বড় সবার মন,দূরন্ত শৈশবের দশ্যিপনায় মাতিয়ে রাখে সমস্ত, পাড়া মহল্লা,সেই বয়সে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে আট বছর বয়সী ছোট্ট হাফিজা।

খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৬ কি.মি.
দূরে পতাছড়া বাঙ্গালী পাড়া নামক অবহেলিত নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত নির্জন পাহাড়ি এলাকায় ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক হাবিবুর রহমান(৩০)ও জহুরা বেগম(২৫) এর ঘর আলো করে জন্ম নেয় হাফিজা।

বৈবাহিক জীবনে প্রথম সন্তান পেয়ে
বেশ খুশিই হয়েছিল হাফিজার পিতা মাতা।কিন্তু জন্মের পর থেকেই দেখা যায় হাফিজা বেশ দূর্বল।দারিদ্রতা আর কুসংষ্কারের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকায়,তার পিতা মাতা বুঝতেই পারেনি তার কি হয়েছে।

বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাফিজা খু্ব বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়ায় তাকে জালিয়াপাড়া ইসলামিক মিশনের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ খালিদ আল আজম এর কাছে নিয়ে যাই। তিনি কিছু ঔষধ আর পরিক্ষা লিখে দেন। ঔষধ গুলো কষ্ট করে কিনে খাওয়াতে পারলেও টেষ্টগুলো করাতে পারিনি।পরে অবস্থার অবনতি হলে আবারো তাকে ডাঃ খালিদ আল আজমের কাছে নিয়ে যাই।সব শুনে তিনি নিজ খরচে একটি ইকো কার্ডিওগ্রাফি নামক পরিক্ষা করেন।তখনি প্রথম জানতে পারি হাফিজার হার্টে একটি বড় ছিদ্র আছে।কথাগুলো আক্ষেপের সাথে বললেন হাফিজার বাবা হাবিবুর রহমান।

এ ব্যাপারে কথা হয় ইসলামিক মিশন জালিয়াপাড়া’র সাবেক সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ খালিদ আল আজমের সাথে, তিনি বলেন হাফিজার রোগটিকে বলা হয় Large ASD(হৃদযন্ত্রের বৃহৎ ছিদ্র) যার কারনে হাটাহাটি, লাফালাফি, দৌড়াদোড়ি করলে খুব অল্পতেই সে হাফিয়ে উঠে।শ্বাসকষ্ট হাত পা মুখ নীল হয়ে যাওয়া,খাবারে অরুচি, শরিরে অপুষ্টি,স্বাভাবিক বৃদ্ধি না হওয়া ইত্যাদি এ সব কিছুই এর কারনেই হচ্ছে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে হৃদযন্ত্রে প্রয়োজনীয় পরিমান বিশুদ্ধ রক্ত শরীরে সরবরাহ করতে ব্যার্থ হচ্ছে,অতিদ্রুত তাকে চিকিৎসা না করালে হয়ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হবেনা।

হাফিজাকে তার বাবা নিয়ে যান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। বিভিন্ন পরিক্ষা নিরিক্ষার পর তারা জানায় হাফিজার হার্টে অপারেশন করতে হবে।এতে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা লাগবে।

হাফিজার দরিদ্র পিতা ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল চালক হাবিবুর রহমানের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। তাই মেয়ের চিকিৎসার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষের দ্বারে দ্বারে।

যদি কোন হৃদয়বান ব্যাক্তি হাফিজার চিকিৎসায় সহযোগিতা অথবা হাফিজার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চান,তবে হাফিজার বাবা হাবিবুর রহমানের বিকাশ নম্বর ০১৮৩৫৩১৫০৮১ তে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে।আমাদের একটু সহযোগিতায় হয়তো আবার ফিরে পেতে পারে ৮ বছরের ছোট্ট হাফিজা তার দূরন্ত শৈশব।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *