আব্দুর রহিম বাবলু,কুমিল্লা প্রতিনিধি :-
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার রায়কোট উত্তর ইউনিয়ন সেচ্চাসেবক লীগের সাধারন সম্পাদক ও স্থানীয় ঔষধ ফার্মেসীর মালিক নাছির উদ্দিন মোল্লাকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর বিছানায় আটক করেছে প্রবাসীর পরিবার। উপজেলার রায়কোট গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চলের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার রায়কোট গ্রামের মজুমদার বাড়ীর এক বাহারাইন প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে একই বিছানায় অবস্থান করার সময় প্রবাসীর মা নাছিরকে আটক করে। ওই বৃদ্ধার শোর-চিৎকারে ছুঁটে আসা আশেপাশের লোকজনের সামনে থেকে তার সাঙ্গপাঙ্গরা তাঁকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মুহুর্তের মধ্যে এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরদিন শুক্রবার ওই প্রবাসীর ছোট ভাই মহিন, ফখরুল আমিন মোল্লাসহ গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে ঘটনাটি সমাধানে বসার কথা ছিল। কিন্তু নাছির পলাতক থাকার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে ওই গ্রামের ফরিদ মজুমদার ও ফখরুল আমিন মোল্লা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনার পর থেকে নাছির পলাতক রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে অনেক অভিযোগ শুনেছি সে দলের নাম করে এলাকায় অনেক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ট।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঔষধ ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আছে নাছির। সে নিজেও মাদকাসক্ত। যার ফলে, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে তাঁকে দু’দফায় অনেকদিন চিকিৎসা করিয়েছে পরিবার। দলের নাম ভাঙ্গিয়ে নাছির মাদক ব্যবসাসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন করেন। এছাড়াও তাঁর নিয়ন্ত্রনে ওই গ্রামে একজন মহিলাকে দিয়ে একটি জ্বীনের আস্তানা গড়ে তোলে সে। ওই জ্বীনের আস্তানায় অনেক লোককে তাদের সমস্যা সমাধানের কথা বলে স্বর্বশান্ত করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি তাঁর সাবেক স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগও রয়েছে নাছিরের বিরুদ্ধে। যা প্রভাব খাটিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়েছিল। পরে একই ইউনিয়নের ঝাটিয়াপাড়া গ্রামে আবার বিয়ে করে নাছির। এ সংসারের একটি কন্যা সন্তান থাকা সত্ত্বেও মাদক ব্যবসা ও তাঁর দুশ্চরিত্রের কারনে এ স্ত্রীও তাঁকে ছেড়ে চলে যায়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন মোল্লার মুঠোফোনে শনিবার (৩ জুন) সন্ধ্যায় যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার ব্যক্তিগত কাজে আমি অন্য এক এলাকায় রয়েছি। আজ রোববার (৪ জুন) সকালে আপনার সাথে দেখা করে এ বিষয়ে কথা বলবো বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর বারবার ফোন দিলেও তিনি তা ধরেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব জানান, আমি ব্যাপারটি মোটেই অবগত নই। কিন্তু অভিযোগ জানালে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।