পাকিস্তানকে ৩৪২ রানের চ্যালেঞ্জ দিয়েছে টাইগাররা

 

বাংলার দর্পন স্পোর্টস ডেস্ক :

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিজেদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পাকিস্তানকে ৩৪২ রানের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। জিততে হলে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬.৮৪ গড়ে এ রান করতে হবে সরফরাজ বাহিনীকে।

শনিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে টস জেতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে দারুণ সূচনা করেন টাইগার দু’ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তবে বেশি দূর এগোতে পারেননি তারা। দলীয় ২৭ রানে জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমের হাতে সৌম্য (১৯) ফিরে গেলে তাদের জুটিতে ছেদ পড়ে।

সৌম্য বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন টেস্টে তামিমের ওপেনিং সঙ্গী ইমরুল কায়েস। তাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ড্যাশিং ওপেনার। দলকে রানের মহাসড়কে তুলে দিয়ে দলীয় ১৬৯ রানে স্পিনার শাদাব খানের এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফেরেন কায়েস। ফেরার আগে ৬২ বলে ৮ চারে ৬১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি।

কায়েস ফিরে গেলেও একপ্রান্ত আগলে রাখেন তামিম ইকবাল। এবার তাকে এসে যোগ্য সঙ্গ দেন মুশফিকুর রহিম। তারা দু’জনে মিলে রানের ফোয়ারা ছোটাতে থাকেন। এরই মধ্যে মাত্র ৮৮ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন তামিম। অবশ্য সেঞ্চুরির পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি ড্যাশিং ওপেনার। ৯৩ বলে ১০২ রান করে শাদাব খানের বলে জুনায়েদ খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তার ইনিংসটি সাজানো ছিল ৪ ছক্কা ও ৯ চারে।

সঙ্গী হারিয়ে ক্রিজে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি মুশফিকও। দলীয় ২৪৭ রানে জুনায়েদ খানের বলে শোয়েব মালিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৩৫ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৬ রান করেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল।

এরপর দলের রানের চাকা সচল রাখেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। পঞ্চম উইকেট জুটিতে তারা যোগ করেন ৪৯ রান। দলীয় ২৯৬ রানে হাসান আলির বলে শোয়েব মালিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান মাহমুদুল্লাহ (২৯)। এর কিছুক্ষণ পরই একই বোলারের বলে শাদাব খানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার(২৩)।

সাকিবের বিদায়ের পর দলের রান বাড়িয়ে নেয়ার চেষ্টা করেন মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। তারা বেশ সফলও হন। সপ্তম জুটিতে তারা তোলেন ২৯ রান। দলীয় ৩৩১ রানে জুনায়েদ খানের বলে আজহার আলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক। তার আগে ১৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৪১ রান করে বাংলাদেশ। তবে রান আরো হতে পারতো। শেষদিকে জুনায়েদ খানের বলে ফাহিম আশরাফের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ৮ বল খেলে মাত্র ১ রান করেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজও তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেনি। শেষদিকে তিনি করেন ১৬ বলে ১৩ রান।

পাকিস্তানের হয়ে জুনায়েদ খান নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট। আর ২টি করে উইকেট নেন হাসান আলি ও শাদাব খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *