Main Menu

মুক্তিযোদ্ধা হারুনকে হত্যা করেছিল শিবির ক্যাডার নাছির- আদালতে মন্ত্রী মোশাররফ

 

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :

আদালতে আবেগঘন কণ্ঠে ১৯৯২ সালে ফটিকছড়িতে মুক্তিযোদ্ধা হারুন বশরকে হত্যার দৃশ্যের বর্ণনা দিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।

বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সপ্তম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ফেরদৌস আরার আদালতে সাক্ষ্য দেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য।

১৯৯২ সালের ৮ মে ফটিকছড়ির মোহাম্মদ তকিরহাট এলাকায় গাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল ভুজপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের তখনকার সাধারণ সম্পাদক হারুন বশরকে।

সেদিন ফটিকছড়ি আজাদী বাজার এলাকায় উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগ দিয়ে ফিরছিলেন তখনকার চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন। তার সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন হারুন।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘ক্যাডার’ হিসেবে পরিচিত মো. নাছির উদ্দিনের (শিবির নাছির) নেতৃত্বে ওই হামলা চালানো হয় বলেও আদালতে জানান মোশাররফ।

আদালতে মন্ত্রী মোশাররফ সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আসামির কাঠগড়ায় ছিলেন নাছির।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যার দিকে নিশান পেট্রোল গাড়িতে চড়ে শহরে ফেরার সময় তকিরহাট এলাকায় পৌঁছালে ৪০-৫০ জনের সশস্ত্র একটি দল গাড়িতে হামলা করে।

“গাড়ির সামনের আসনে ছিলেন হারুন বশর। মাঝখানে আমি ও আবু আহমেদ। পিছনের আসনে ইউনুস গণি চৌধুরী এবং জসিম উদ্দিন শাহ ও সাজ্জাদ।”

সশস্ত্র হামলাকারীরা হারুন বশরের বুকে অস্ত্র তাক করলে তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও জানান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ।

“হারুন বশরকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ফেললে আমি তাকে ছেড়ে দিতে বলি। এসময় আমার চোখের সামনে ব্রাশফায়ার করে বশরকে হত্যা করে। তারপর নাছির আমার বুকে অস্ত্র তাক করে।”

গাড়ির পেছনের আসনে বসা তিনজন নামলে তাদেরও ধাওয়া দেওয়া হয় বলে জানান ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ।

“আমি পাশের বেতের ঝোঁপে ঝাঁপ দিয়ে শুয়ে পড়ি। সন্ত্রাসীরা ঝোঁপ লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। গুলি আরেকটু নিচে দিয়ে গেলে আমি মারা পড়তাম।”

বাদীর আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ খালের পাশের মাঠ পেরিয়ে পাশের বাজারে গিয়েছিলেন, পরে হলুদিয়া গ্রামে এক ছাত্রলীগকর্মীর বাড়িতে চলে যান।

“শিবির নাছিরের নেতৃত্বে হামলা হয়। সেখানে মানুষ খুনের পর তারা মিছিল করে থানায় সামনে দিয়ে যায়। অথচ পুলিশ শুধু চেয়ে চেয়ে দেখল কিছুই করেনি,” বলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ।

ছাত্রলীগের ওই সম্মেলনের মধ্যাহ্ন বিরতিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই আওয়ামী লীগ নেতার জানাজা পড়তে মোশাররফ গিয়েছিলেন কলেজ মাঠে। জানাজা চলাকালে বিকাল ৩টায় শুরু হয় গোলাগুলি।

গুলির ঘটনার পর সেখান থেকে গিয়ে ফটিকছড়ি থানায় অবস্থান নেন বলে আদালতে জবানবন্দিতে জানান মোশাররফ।

তিনি বলেন, “তখন শুনি আমাদের কর্মী জমির উদ্দিন বাবুকে গুলি করে (আজাদী বাজার এলাকায়) খুন করা হয়েছে। পরে সন্ধ্যার দিকে গাড়িতে করে শহরে ফিরছিলাম। তখনই হামলা হয়।”

এ ঘটনায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের গাড়ির চালক ইদ্রিস মিয়া বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পিপি স্বরূপ পাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ১৯৯২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র দেওয়ার পর অভিযোগ গঠন হয় ২০০২ সালের ২৫ জুন।

তিনি বলেন, “যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করেছিলেন তিনি মারা গেছেন। তার সহকারী চিকিৎসকদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।

“দুজন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) মো. শাহজাহান ও জালাল উদ্দিনকে পাইনি। তাদের হাজির করতে সমন পাঠাচ্ছি।”

আইনজীবী স্বরূপ পাল জানান, মামলার ৩১ আসামির মধ্যে আটজন মারা গেছেন। একজন গ্রেপ্তার ও তিন জন জামিনে আছেন। অন্যরা পলাতক।

এমামলায় মোট সাতজন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

“বাদী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বিভিন্ন সময়ে বাধার কারণে সাক্ষ্য দিতে পারেননি। অনেক চেষ্টার পর মামলাটি আবার গতি পেল,” বলেন স্বরূপ লাল।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *