Main Menu

জামায়াতকে বাদ দিতে বিএনপির চূড়ান্ত পরিকল্পনা ফাঁস

 

ঢাকা :

রাজনীতিতে নতুন ধারা সৃষ্টির লক্ষ্যে যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে চিহ্নিত জামায়াতে ইসলামীকে ওই সরকারের অংশ করবে না বিএনপি। এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিএনপির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে বন্ধুপ্রতিম প্রভাবশালী দেশের কূটনীতিকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে জামায়াত নিয়ে দলের এমন অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে কৌশলগত কারণে এ মুহূর্তে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করছে না দলটি।

দলের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারে জামায়াতের দুইজন বিতর্কিত নেতাকে মন্ত্রী করায় দেশের ভেতর-বাইরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল দলটি। পরে বিরোধী দলে যাওয়ার পরও জামায়াতকে নিয়েই জোট অব্যাহত রাখে বিএনপি। এমন পরিস্থিতিতে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ করতে অদ্যাবধি নানা মহলের চাপ অব্যাহত রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আপাতত জোট থেকে জামায়াতকে বের করা না হলেও ক্ষমতায় গেলে তাদের সরকারের অংশীদার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।

সূত্র আরও জানায়, বিএনপি একটি নতুন ইমেজ (ভাবমূর্তি) গড়তে চাইছে। বর্তমান বাস্তবতায় চলমান রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে বড় ধরনের ছাড় দিতে প্রস্তুত দলটি। ঘোষিত ভিশন-২০৩০-এ বাংলাদেশের রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি নিয়ে বিএনপির ভিন্ন চিন্তাধারার ইঙ্গিত দিয়েছেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সবাইকে নিয়ে এক ‘রেইনবো নেশন’ বা রংধনু জাতি গড়ার কথা বলেছেন তিনি। তার এমন বক্তব্য নিয়ে সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক সচেতন মহলে চলছে নানা বিশ্লেষণ।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আগামীতে ক্ষমতায় গেলে জামায়াত সরকারে থাকবে কিনা, সেই প্রশ্ন আসছে কেন। দলটির সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আন্দোলনকেন্দ্রিক। এর সঙ্গে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনার কোনো সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে নানা মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। দলের চেয়ারপারসন ২০৩০ পর্যন্ত বিএনপির ভিশন তুলে ধরেছেন। সেই ভিশনের সঙ্গে জোট বা জামায়াত আসার প্রয়োজন আছে বলে আমরা মনে করি না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলের ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট বলা আছে, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের একনায়কতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডকে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠায় একটি আন্দোলন সৃষ্টির লক্ষ্যে ২০ দল গঠন করা হয়।’ সেটা কিন্তু বলবৎ আছে।

বিএনপি মনে করে, নতুন ধারা সৃষ্টির ক্ষেত্রে বড় বাধা জোটের শরিক জামায়াত। তাই দলের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এখন থেকেই জামায়াতকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত জামায়াতকে জোট থেকে সরিয়ে দেয়ার কোনো চিন্তাভাবনা এ মুহূর্তে দলটির নেই। আবার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলটির সঙ্গে নতুন করে গভীর সম্পর্ক করারও চিন্তাভাবনা নেই তাদের। ‘আছে ভালো, চলে গেলে আরও ভালো’- জামায়াতের ক্ষেত্রে এমন নীতি অনুসরণ করছে দলটি। তবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত জোটগতভাবেই থাকবে তারা।

জামায়াতকে নিয়ে ক্ষমতাসীনরা যাতে কোনো কৌশল নিতে না পারে, সে ব্যাপারেও পুরোপুরি সতর্ক বিএনপি।

সূত্র জানায়, বিএনপির হাইকমান্ডের এমন মনোভাব বুঝতে পেরে জামায়াতও তাদের করণীয় চূড়ান্ত করছে। নানা ইস্যুতে দূরত্ব সৃষ্টি বা তাদের অবমূল্যায়ন করা হলেও আপাতত নীরব থাকার কৌশল নিয়েছে দলটি। তবে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গেই থাকবে। জামায়াতের একজন নীতিনির্ধারক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাদের নিয়ে বিএনপির হাইকমান্ডের ভাবনা সম্পর্কে তারা অবগত আছেন। কিন্তু দলের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আপাতত সব মানিয়ে নেয়া হবে। বিএনপির সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্বে বা জোট ভেঙে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তারা সৃষ্টি করবে না।

ওই নেতা আরও বলেন, জোটগতভাবে নির্বাচন করতে চায় তারা। ওই নির্বাচনে জোট ক্ষমতায় আসার পর অনেক কিছুই হতে পারে। তাই এ মুহূর্তে তাদের লক্ষ্য বিএনপির সঙ্গে থেকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এবং ক্ষমতায় আসা। সরকারে তাদের অংশীদার করবে কিনা, তা নিয়ে আপাতত ভাবছেন না তারা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. তারেক শামসুর রেহমান বলেন, বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের বর্তমানে সখ্য আছে, কী নেই তা স্পষ্ট নয়। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এ বিষয়টি একটি ধোঁয়াশার মধ্যে রেখেছেন। তবে আমার বিশ্বাস, জামায়াতকে তারা সঙ্গী করে রাখবে। কারণ জামায়াতের একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাংক রয়েছে। প্রথমত, নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে জামায়াতের এ ভোটব্যাংককে কাজে লাগাতে চাইবেন খালেদা জিয়া। তবে বিএনপি যদি সরকার গঠন করে, সেখানে হয়তো সরাসরি জামায়াত বা ওই দলটির কোনো চিহ্নিত নেতাকে সরকারের অংশীদার করবেন না খালেদা জিয়া।

জানতে চাইলে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আমাদের জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। আমাদের শাসন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এজন্য রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। তিনি বলেন, কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বলে কিছু নেই। ক্ষমতায় যেতে যার সঙ্গে আঁতাতের প্রয়োজন তাই করছে। এ ধারা থেকে বের হতে হবে। আগামীতে ক্ষমতায় গেলে শুধু জামায়াত নয়, হেফাজতসহ ধর্মাশ্রয়ীদের কোনো দলই রাখবে না বলে প্রত্যাশা করেন ড. বদিউল।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *