Main Menu

অাপন জুয়েলার্স থেকে ৮৫ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার

ঢাকা : আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শাখার চারটি থেকে মোট ২৮৬ কেজি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৬১ গ্রাম হীরা উদ্ধার করা হয়েছে। এর সর্বমোট মূল্য ৮৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। রোববার রাতে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

আপন জুয়েলার্সের মালিকরা ‘ডার্টি মানি’ অর্জন করেছেন, যা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এসব পণ্যের কাগজপত্র গভীরভাবে যাচাই করা হবে, অনুসন্ধানে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হলে প্রতিষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে চোরাচালান ও মানি লন্ডারিং আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযানকারী দলের প্রাথমিক অনুসন্ধানে আপন জুয়েলার্সের সব শাখা কর্তৃক উপস্থাপিত দলিলাদির সঙ্গে পাওয়া সোনার গরমিল পাওয়া গেছে বলে শুল্ক গোয়েন্দারা জানান।

এরআগে দুপুরে অভিযানের পর গুলশানের সুবাস্তু টাওয়ারে আপন জুয়েলার্সের শোরুমটি বন্ধ করে দেওয়ার কথা জানান অধিদপ্তরের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ শাফিউর রহমান।

শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীতে আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি শোরুমে তারা অভিযান চালায়। এই সময় দোকান বন্ধ থাকায় গুলশানের শোরুম তারা সিলগালা করে দেয়া হয়।

স্বর্ণ ও রত্ন সংগ্রহের তথ্যে অস্বচ্ছতা এবং মালিকের ‘অবৈধ সম্পদের’ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই রোববার এই অভিযান চালানো হয় বলে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মইনুল খান জানান।

ব্যাংকের হিসাবে তথ্যের গড়মিলের কারণে আপন জুয়েলার্সের দোকানগুলোতে পর্যায়ক্রমে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি। শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ধারণা, নানা প্রক্রিয়ায় অবৈধভাবে হীরা ও স্বর্ণের ব্যবসা চালাচ্ছে আপন জুয়েলার্স।

এ বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দা, “বাংলাদেশ ফেসবুক পেজ থেকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে বলা হয়েছে, বনানীতে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ ও তার ছেলে সাফাত আহমেদের ‘ডার্টি মানি’র তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এরমধ্যে শুল্ক গোয়েন্দা বাংলাদেশ ব্যংককে তাদের আর্থিক লেনদেনের যাবতীয় তথ্যাদি তলব করেছে। আজকের অভিযানে স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের বৈধ উৎস ও পরিশোধেযোগ্য শুল্ক-কারাদি সম্পর্কে খোঁজ নেয়া হবে।”

“গত পাঁচ বছরে দেশে কোন বৈধ বাণিজ্যিক আমদানি না থাকায় প্রাথমিকভাবে শুল্ক গোয়েন্দার কাছে তাদের স্বর্ণ ও ডায়মন্ডের ব্যবসায় ‘অস্বচ্ছতা’ প্রতীয়মান হয়েছে।”

গত ২৮ মার্চ বনানীতে দ্য রেইনট্রি হোটেলে বন্ধুর মাধ্যমে এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী। এরপর ধর্ষকরা ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখে ধর্ষকরা।

যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে; তাদের একজন সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদ সেলিম।

প্রাণনাশসহ বিভিন্ন হুমকি উপেক্ষা করে ঘটনার একমাসের বেশি দিন পর ওই দুই তরুণী ৪ মে বনানী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করতে যান।

তবে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে তাদেরকে হয়রানী করে বলে অভিযোগ ওঠার ৪৮ ঘণ্টা পর ৬ মে ওই অভিযোগ লিপিবদ্ধ করে।

গত বৃহস্পতিবার সাফাত ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *