নিবন্ধনহীন সংগঠন এখন জেলা প্রশাসকের পিঠে বিষফোড়া!

 

নিয়াজ মো:  বরিশালের লোকজন সম্প্রতি ফেসবুক খুললেই যে তথাকথিত পরিস্কারের আলামতের সেলফি দেখছেন, আসলে তারা নিজেরাই পরিস্কার পরিচয় দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় বছর খানেক ধরে বরিশালের বেশ কিছু সেচ্ছাসেবী, সামাজিক কাজের মাধ্যমে যারা দেশবরেণ্য হতে চেয়েছিলেন, তারা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারন একটাই, সাংবাদিকদের ভয়। মিডিয়া আতংকে তারা আজ দিশেহারা।  তারা আর কেউ নন, আমাদের বরিশালের কৃতি সন্তানদের সেই সংগঠন “পিপিলিকা চ্যারেটি ক্লাব” ।  প্রায় এক বছর ধরে বরিশালের জেলা প্রশাসকের সাথে খোলামেলা চলাফেরা, এবং সমস্তরকম অনুষ্ঠানে নিয়মিত ছিল এই অনিবন্ধীত সংগঠনটি। বর্তমান জেলা প্রশাসক ড.গাজী সাইফ এর মাধ্যমে যে তথাকথিত উদ্ধার অভিযান, প্রকৃতপক্ষে পরিস্কার অভিযান, তার মূলেও এই পিপিলিকা চ্যারেটি ক্লাব।ক্লাবের নির্বাহী পরিচালক ইব্রাহিম মাসুমের সমন্ধে জানা যায়, তিনি প্রতারক সেই “ডেসটিনির ” একজন অফিসার ছিলেন। সরকারের হাতে ডেসটিনির কর্মকর্তাগন আটকের পর পথ বদল করে একই ধান্দায় ব্যাস্ত হয় সেই প্রতারকরা। মূলত, পিপিলিকা চ্যারেটির ৯৫% লোকই সেই জাতীয় প্রতারক ডেসটিনির সদস্য। এমনকি রাষ্ট্র বিরোধী কর্মকান্ডের সাথে জরিত রাজনৈতিক দল “জামাত ইসলাম” এর সদস্যরাও সদস্য এই সসংগঠনটির, এমনটা অঅভিযোগ রয়েছে।  এমন একটি সংগঠনক যারা জাতীয় বাটপার হিসেবে সুপরিচিত(ডেসটিনি) তাদের লোকজন দিয়ে পরিচালিত এই সংগঠনকে  কি সার্থে হাইলাইট করছেন জেলা প্রশাসক,  তা সবারই অজানা। ডেসটিনির সাবেক এক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা সবাই ডেসটিনির ধসের পর নতুন নামে নতুন কিছু সংগঠন করি, পিপিলিকা ও আমাদের সহকর্মীদের একটি সংগঠন।  ” অতি সম্প্রতি আর্নিং এন্ড লার্নিং নামে একটি কোর্স চালু করতে গিয়ে রোশানলে পড়ে অবৈধ সংগঠনটি। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ইব্রাহিম মাসুম সহ চার জন জেলা প্রশাসনের বি,পি,পি’র এডমিন। যারা, জেলা প্রশাসন কতৃক পরিচালিত অনলাইন সেবা ব্যাহত করছে। যে সমস্ত সাধারন সদস্য এদের বিরুদ্ধে পোষ্ট আকারে অভিযোগ দেন তাদেরই ব্লকের মাধ্যমে শায়েস্তা করেন ইব্রাহিম মাসুম গং। যেন অবৈধ সংগঠনের বৈধতা নিয়ে নিয়েছেন জেলা প্রশাসকের সাথে ছবি তুলে। অভিযোগ রয়েছে পেশাদার সাংবাদিকদের ব্লক করাই এডমিনদের কাজ। এর মধ্যে অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক,ব্লগার, টিভি চ্যানেল সাংবাদিক, কলামিস্ট কেউ বাদ যায়নি এ আক্রমণ থেকে। আন্চলিক পত্রিকার সাংবাদিকদের সম্প্রতি ব্লককে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন জেলা প্রশাসক।যেহেতু গ্রুপের মাই বাপ তিনিই,দায়ভার তারই। পিপিলিকা চ্যারেটি ক্লাবের বৈধতা নিয়ে চ্যালেন্জ করেন রিপোর্টার। বেরিয়ে আসে চান্চল্ল্যকর তথ্য। বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদফতর এর উপ পরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন ” পিপিলিকা চ্যারেটি ক্লাব নামে কোন সংগঠনের নিবন্ধন বা ছাড়পত্র দেয়নি সমাজসেবা অধিদফতর।  ” এবং এ নিয়ে একটি লিখিত প্রত্যয়ন দেন তিনি।     নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানায়,” ইব্রাহিম মাসুম যে সংগঠনটি র ঢাকঢোল পেটাচ্ছেন, তা অবৈধ। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক নিজেও ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরেছে। ” প্রায় একমাস আগে শেখ রিয়াদ নূর নামে এক বি,পি,পির সদস্য এই ক্লাবের বৈধতা ও কার্যক্রমের সমালোচনা করে। তাই তাকেও বহিস্কার সহ ব্লক করা হয়। পেশাদার সাংবাদিকরাও জেলা প্রশাসকের এমন অনিবন্ধীত  সংগঠনের সঙ্গ দেয়াকে নিয়ে সমালোচনার কথা স্বীকার করেন।সব মিলিয়ে জেলা প্রশাসকের পিঠের বিষফোড়া পিপিলিকা চ্যারেটি ক্লাব।   এ বিষয়ে ইব্রাহিম মাসুম,(০১৭১০০২১৯১৭) জেলা প্রশাসক গাজী সাইফ( ০১৮১৯২৩০৫৫০  )  ,  শ্রাবন, ( ০১৭১১৭৩২৭৬৬  ) ,  দিপু হাফিজুর রহমানকে( ০১৯১৯৩৫৮৫৯৯)  জানতে চাইলে নিরব ভূমিকা পালন করেন তারা। এমনকি জেলা প্রশাসকের সাক্ষাতকার নিতে গেলে জানা যায় তিনি মিটিংএ রয়েছেন, পড়ে যোগাযোগ করবেন। তবে পিপিলিকার এক সদস্য বলেন, আমাদের প্রথমদিকে আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকায় নিবন্ধনের কাজ করতে পারেনি পরিচালক সূর্য।  পরিচালক সূর্যকে (০১৬১১-১১৩৪৩১) নম্বরে কল দিলে তিনি তা রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *