হাটহাজারী প্রতিনিধি : চট্রগ্রামের হাটহাজারী মহাসড়কটি যেন, দূর্ঘটনার মরণ ফাঁদ! ড্রাইভারদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রধান কারণ হচ্ছে সড়ক দূর্ঘটনা। অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ ও অপেশাদার চালক দ্বারা গাড়ি চালানো,ট্রাফিক বিভাগের অবেহেলা, এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের দুর্নীতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে করে কেউ বাবা হারাচ্ছে, কেউ ভাই হারাচ্ছে, কেউ মা,বোন ও আত্মীয়স্বজন। রাস্তায় বের হলেই দেখা মিলে সড়ক দূর্ঘটনা। চারিদিকে যেন রক্তের ছড়াছড়ি। নিরাপদ সড়কের জন্য গণসচেতনতা বাড়ানো স্বাধীনতার পরে এখনও কোনো বিশেষ প্রকল্প চালু হয়নি। সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেই টনক নড়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। কিন্তু তা রোধে দীর্ঘ মেয়াদি কোনো স্থায়ী পরিকল্পনা ও প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে না। যা হচ্ছে তা গতানুগতিক। তাছাড়াও ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলছে দেদারছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটায় মিনি পিকআপ ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে মোঃ জাহেদ (২৫) এক মোটর সাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছে। এর পর বুধবার (২৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টায় হাটহাজারী রাঙ্গামাটি সড়ক ভাঞ্জন ব্রীজে মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত ও শনিবার (২৯ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় গহিরা এলাকায় দুই ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত ৫। জাহেদ এখন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ICU’তে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
হাটহাজারী মহাসড়কে লক্কড়-ঝক্কড় ট্রাক,বাস,তরী,টেম্পু ও চাঁদেরগাড়িগুলো দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। আর সিএনজির কথা বলেল সে রাস্তার পেতি গুন্ডা,সারা রাস্তা যে তার বাবার। বিভিন্ন সংস্থা, এনজিও ও সুশীল সমাজের কর্তা ব্যক্তিরা সভা-সেমিনারে বিভিন্ন কর্মপন্থা ও সুপারিশমালা প্রদান করলেও বাস্তবে তার প্রয়োগ হচ্ছে না। আর সড়ক দুর্ঘটনাও কমছে না। হাটহাজারী মহাসড়কে ৫০ শতাংশের বেশি ফিটনেসবিহীন গাড়িই এসব দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।
অপরদিকে অনুমোদন ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি, অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত ইউএনও এস আর আরমান শাকিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রাস্তায় অবৈধ গাড়ি পাকিং ও যানজটে আমি শনিবার হাটহাজারী কলেজ গেইট ফায়ার সার্ভিসের সামনে অভিযান চালিয়েছি এবং এই অভিযান অব্যহত থাকবে। এদিকে হাটহাজারী ট্রাফিক বিভাগের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা ট্রাফিক আইনে প্রতিদিন যানবাহনে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং অভিযান অব্যহত থাকবে।
হাটহাজারী থেকে মুরাদপুর পর্যন্ত রাস্তা ফোর লাইন ব্যবস্তা থাকলেও বিভিন্ন সমিতির নাম ভাঙ্গিয়ে এই সুবিধা ভোগ করেছে অবৈধ গাড়ি পার্কিং। হাটহাজারী থেকে চট্টগ্রাম মুরাদপুর পর্যন্ত গেলে দেখা মেলে রাস্তার দুই পাশে হাজারো অবৈধ গাড়ি পার্কিং। এতে করে বাড়ছে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট ও ভয়াবহ দূর্ঘটনা।