সোনাগাজীর এতিম কন্যার আর্তনাদ ও ন্যায়বিচারের আকুল আবেদন

ফেনী জেলা বিএনপি , সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের কাছে এতিমকন্যার আকুল আবেদন।

শ্রদ্ধাভাজন নেতৃবৃন্দ ও প্রিয় ভাই এবং বোনেরা,

আজ অত্যন্ত দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে আমি আপনাদের শরণাপন্ন হচ্ছি। আমার বিশ্বাস, সমাজে এখনো নীতিবান, হৃদয়বান ও মানবিক মানুষের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়নি। সেই বিশ্বাস থেকেই আজ আপনাদের সামনে আমার কষ্টের কথাগুলো তুলে ধরছি।

আমার নাম আসমা আনিকা পুষ্পা। আমার বাবার নাম মরহুম খোরশেদ আলম; যিনি ফেনী চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। একজন উদার ও মানবিক ব্যক্তি হিসেবে ফেনী জেলা ও সোনাগাজী উপজেলায় সুপরিচিত ছিলেন। শত শত মানুষকে চক্ষু সেবা, স্বাস্থ্য সেবা ও আর্থিক সহযোগিতা করে তিনি এক মানবতার ফেরিওয়ালা হিসাবে খ্যাতি লাভ করেন। আমি সেই গর্বিত পিতার এক এতিম কন্যা।

আমার দাদার নাম মরহুম ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক আহমেদ। আমাদের বাড়ির নাম মরহুম ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিক আহমেদ বাড়ি; যা সোনাগাজী উপজেলা ৫ নং চরদরবেশ ইউনিয়ন মধ্যে সেনের খিল গ্রামে অবস্থিত।

প্রিয় নেতৃবৃন্দ,
আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, গত দুই সপ্তাহ যাবত আমার একটি তীব্র অভিযোগ, নিন্দা, প্রতিবাদ ও বিচার প্রার্থনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। এই অভিযোগ সরাসরি আমার জার্মান প্রবাসী চাচা জামশেদ আলম রানার বিরুদ্ধে।

 

কেউ কেউ বলছেন এই অভিযোগ হঠাৎ উঠল কেন? তার উত্তরে আমি বলতে চাই যে, এটা কোন হঠাৎ উত্থিত অভিযোগ নয়। গত কয়েক যুগ যাবৎ পরিবারের সদস্যদের উপর তার অন্যায় -অত্যাচার ও আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে; যাকে ‘পারিবারিক সন্ত্রাস’ বলা হয়।

এই অন্যায়-অত্যাচারের নতুন মাত্রা সংযোজন হয় যখন আমার বাবা মরহুম খোরশেদ আলম ১১ এপ্রিল ২০১১ সালে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু বরণ করেন। আমরা তখন ছোট ছিলাম। আমার তখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী ছিলাম। আমরা অসহায় ও এতিম হয়ে পড়ি। আমার লন্ডনপ্রবাসী মেজ জ্যাঠা শ্রদ্ধেয় জাহাঙ্গীর ফিরোজ আমার বাবার মৃত্যু সংবাদ শুনার পর ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাংলাদেশে অবতরণ করেন এবং আমাদের পাশে দাঁড়ান।
যেটি একটি বিরল ঘটনা। তিনি বাড়িতে পৌঁছার সাথে সাথে আমার বাবার জানাজা, সমাধিস্থকরন, কুলখাননিসহ সমস্ত দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, সকল ফিউনারেল কার্যসম্পাদন করেন এবং পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন।

 

আপনারা অনেকেই উনার সম্পর্কে জানেন, যিনি পরিবারের অত্যন্ত মেধাবী, উচ্চ শিক্ষিত, দায়িত্বশীল ও মানবিক ব্যক্তিত্ব; যিনি প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করেন। তার কীর্তি ও মানবিক কাজের জন্য তিনি দেশে-বিদেশে সুপরিচিত।

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করে বলতে চাই যে, বর্তমানে আমার ব্যাপারে একটি কথা জামশেদ আলম রানা চাচা বারবার বলছেন- সেটা হচ্ছে আমি নাকি ছোট। অন্য কেউ আমাকে প্ররোচিত ও গাইড করছেন। তার আর উত্তরে আমি বলব- এটা ডাহা মিথ্যা ও অজুহাত মাত্র। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে কৌশলে নিজের অপকর্ম ও অপরাধ এড়িয়ে যাওয়ার চাতুর্য। তিনি যাতে এই কথা আর একবারও না বলেন।

 

আমি এখন একজন পরিপূর্ণ নারী, এক বাচ্চার মা ও একজন স্কুল শিক্ষিকা। আর আমি মরহুম খোরশেদ আলমের মেয়ে। আমাকে কেউ প্ররোচনা, বুদ্ধি পরামর্শ ও কোন কিছু শিখিয়ে দিয়ে পরিচালনা করার কোন প্রয়োজন নেই।

সম্প্রতি আমার বড় জ্যাঠা প্রফেসর শাহজাহান ফিরোজ ইন্তেকাল করেন। এবার লন্ডনে বসেও আমার মেজ জেঠা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সহিত মৃত্যুর পরবর্তী সকল কাজে আর্থিক সহযোগিতা করেন ও নেতৃত্ব দেন। অথচ অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, আমার জামশেদ আলম রানা চাচা পরিবারের কোন সদস্যকে একটি কল পর্যন্ত করেন নাই। এমন নিষ্ঠুর,নির্দয় ও মানবতাবর্জিত মানুষ সমাজে বিরল।

জামশেদ আলম রানা আট ভাই-বোনদের মধ্যে পরিবারের পঞ্চম সন্তান। অথচ দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর বড় থেকে ছোট সব ভাই -বোনের উপর তার কর্তৃত্ব, আধিপত্য, দুর্ব্যবহার, অত্যাচার ও জবর দখলের রোলার স্টিম চালিয়ে যাচ্ছেন। এই সকল অন্যায়- অত্যাচারের জন্য রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।

অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, আমার বাবার মৃত্যুর পর গত ১৫ বছর আমরা আমাদের দাদার বাড়িতে ঢুকতে পারি নাই। তার মূল কারণ হচ্ছে আমাদের বাড়িতে আমাদের জন্য নির্মিত আমার বাবার বিল্ডিংটি আমার চাচা জামশেদ আলম রানা জবরদখল করে নিয়েছেন এবং বিল্ডিংটির অভ্যন্তরীণ কাঠামো ভাঙচুর করত: নিজের মত করে তৈরি করে নেন; যার বৃত্তান্ত ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য যে, আমরা বিল্ডিংটি ফেরত নেওয়ার জন্য গত ১৫ বছরে অনেক চেষ্টা করেছি। আমার বড় জ্যাঠা ও মেজ জ্যাঠা পারিবারিকভাবে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু চোরে না শুনে ধর্মের কাহিনী। একজন বিবেকহীন ও বিকৃত মানসিকতার ব্যক্তির মনে বিবেক ও ন্যায়- নীতি কাজ করে না। তারা উভয়ই আপ্রাণ চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। অবশেষে আমরা অনন্যপায় হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হাজির হতে বাধ্য হয়েছে। ফেনী জেলা বিএনপি ও সোনাগাজী উপজেলা বিএনপিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের শরণাপন্ন হচ্ছি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি জোরালোভাবে আসার পর আমাদের বিশ্বাস ছিল আমরা আমাদের বিল্ডিংটি ফেরত পাব। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বিনিময়ে আমরা হুমকি-ধামকি ও জীবননাশের মত হুঁশিয়ারি পাচ্ছি।
তিনি একজন মেধাশূন্য আমতলা, জামতলা ও বটতলার রাজনৈতিক কর্মী। হাটে, মাঠে ও ঘাটে তিনি গত ৫০ বছর যাবত মুখস্ত রেকর্ডার এর মত একই জ্বালাময়ী বক্তব্য দিয়ে চলেছেন।

জনগণকে ধোঁকাবাজি, ভাঁওতাবাজি’ও প্রতারণা দিয়ে প্রভাবিত করে চলেছেন। বিএনপি ও জামাতকে এমন অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতো তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তার বক্তৃতায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুমা দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এর রেকর্ড এখনো খুঁজলে পাওয়া যাবে। তার বক্তব্যে তারেক জিয়া সম্পর্কে প্রতিনিয়ত উক্তি ছিল- তারেক জিয়া শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করলে লাশ হয়ে বাহির হবে এবং বাংলাদেশের তিন বারের প্রধানমন্ত্রী পরম শ্রদ্ধেয়া দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার একজন ঝা—–র হওয়ার যোগ্যতা নেই বলে প্রতিটি বক্তব্যে উল্লেখ করতেন ।

 

আওয়ামী সরকারের পতনের পর এই পল্টিবাজ, ধান্দাবাজ ও ধড়িবাজ জামশেদ আলম রানা তার নিজের গায়ের চামড়া বাঁচানো ও পারিবারিকভাবে এই বিল্ডিংটি দখলে রাখা ও পারিবারিক সদস্যদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার অব্যাহত রাখার জন্য খোলস পরিবর্তন করে বিএনপি দলের ছায়া তলে আশ্রয় নেয়।

এখন তাকে কোন এক উদার বিএনপি নেতা বিএনপিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি উনাকে বলবো- আঙ্কেল আপনি শুধু ভুল নয়, blunder করেছেন। যিনি এখন কেঁচো হয়ে আছেন, তিনি অচিরেই সাপ হয়ে সাপের বিষ বিএনপিতে ঢালবেন। ক্ষতিগ্রস্ত হবে দল, ক্ষতিগ্রস্ত হবে নেতাকর্মী। বর্তমানে তৃণমূলের স্থানীয় কর্মীদের জন্য তিনি দু’হাত খুলে টাকা -পয়সা ঢালছেন। অনেককে ডেকে ডেকে টাকা-পয়সা দিচ্ছেন; উদ্দেশ্য চামড়া রক্ষা ও অপরাজনীতির শক্তি সঞ্চয়।

 

আপনাদেরকে যখন ডেকে ডেকে টাকা-পয়সা দিচ্ছে, আপনারা যত পারেন টাকা-পয়সা নিন। আমাদের কোন আপত্তি নেই। আপনাদের বিরুদ্ধে আমাদের কোন অভিযোগ নেই। কিন্তু আপনাদের কাছে আমার করজোড়ে অনুরোধ আপনাদের যদি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া ও দলের আদর্শের প্রতি ন্যূনতম ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকে, তাহলে আপনারা এই ধড়িবাজ জামশেদ আলম রানাকে রাজনৈতিক শক্তি সঞ্চয় করতে কিংবা পারিবারিক সন্ত্রাস করার ব্যাপারে Backing করবেন না।

 

আমি ফেনী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সদস্য সচিবকে তার বিএনপি’র সদস্য পদ প্রত্যাহার করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।
তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে আমি আমার সারা জীবনের অর্জিত সম্পদ আমাদেরকে দিয়ে দেবেন ;যা সাধারণত মিথ্যাবাদী, প্রতারক, ধান্দাবাজ ও দখলদার ও হিপোক্রিট ব্যক্তিরাও বলে থাকেন। তার উত্তরে আমি চারটি মৌলিক অভিযোগ স্পষ্টভাবে সামাজিক মাধ্যমে উত্থাপন করি। অভিযোগ গুলি নিম্নরূপ:

১. শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রসঙ্গ
আপনি কি আমাদের বাবা, চাচা ও জ্যাঠাদের ওপর শারীরিকভাবে হাত তোলেননি? এটি কোনো গুজব নয়। বিষয়টি সমাজের বহু মানুষ জানেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীও রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে আপনি পরিবারের সদস্যদের অপমান, অপদস্থ ও হেনস্থা করেছেন—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

২. বিল্ডিংয়ের অভ্যন্তরীণ ভাঙচুর
আপনি কি আমাদের বিল্ডিংয়ের ভেতরের রুম ও ড্রয়িং রুম ভেঙে নিজের সুবিধামতো পরিবর্তন করেননি? আমাদের মালিকানাধীন বিল্ডিং আপনি কোন অধিকারবলে ভাঙচুর করেছেন? এ ধরনের কর্মকাণ্ড কি বেআইনি ও অনধিকার প্রবেশের শামিল নয়?

৩. চাবি আটকে রাখার বিষয়
গত প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা অসংখ্যবার বিল্ডিংয়ের চাবি চেয়েছি। প্রতিবারই বিভিন্ন অজুহাতে আমাদের তা দেওয়া হয়নি। বিল্ডিং আমাদের মালিকানাধীন হলে চাবি কেন আপনার কাছে থাকবে—এর যৌক্তিক ব্যাখ্যা কী?

৪. ছাদে নতুন কনস্ট্রাকশন
সম্প্রতি আপনি আমাদের বিল্ডিংয়ের ছাদে নিজের ইচ্ছামতো নতুন নির্মাণকাজ শুরু করেছেন। আমাদের সম্মতি ছাড়া আমাদের সম্পত্তির ওপর এ ধরনের কাজ করার অধিকার আপনি কোথায় পেলেন? আপনার যদি নতুন নির্মাণের প্রয়োজন থাকে, আপনার নিজস্ব জায়গায় তা করার সুযোগ রয়েছে।
সবশেষে বলতে চাই—জীবনের এই পর্যায়ে এসে অনুগ্রহ করে মিথ্যা বক্তব্য ও আগ্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন।

শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ,

এই সকল অভিযোগের কোন উত্তর তিনি দেননি। উনাকে আমি আবারো বলবো: আপনাকে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হওয়ার কোন দরকার নেই। আপনি আমাদের বিল্ডিংটি ফেরত দিন এবং এর অভ্যন্তরে ভাঙচুর করে যে ক্ষতি করেছেন, তার ক্ষতিপূরণ দিন।
এখানে আমি আরো উল্লেখ করতে চাই যে, এই ধরনের লোকের দু’টি চেহারা থাকে। একটি ঘরে ও একটি বাহিরে। এরা বাহিরে কিছু না। ঘর ও পরিবারে বীর। পরিবারের ছোট বড় সবাইকে ধমকের উপর রাখেন।এরা দুশ্চরিত্রের মানুষ। প্রকৃত অর্থে তারা কোন শক্তিশালী ব্যক্তি নয়। এরা বদরাগী, বেয়াদব ও অমানুষ। আমরা নিজেরাও দোষী আছি। কারণ অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে উভয়ই দোষী। আমরা ১৫ বছর চোখ বুজে তার অন্যায় -অত্যাচার ও দাম্ভিক আচরণ সহ্য করেছি। এখন আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। তাই আমরা এখন সোচ্চার,প্রতিবাদী ও বিচার প্রার্থী। এই ধরনের ধরিবাজ লোক সব সময় টাকা -পয়সার বিনিময়ে কিছু লোক আশেপাশে রাখেন। এদেরও দোষ নেই। টাকা-পয়সা ও হিপোক্রেসির কারণে তারা বিভ্রান্ত হয়ে যান। এই ধরনের লোক শক্তের ভক্ত এবং নরম ও ভদ্রলোকের যম। পরিবারের সদস্যদের জন্য সে একজন চরম নিলজ্জ ও বেপরোয়া অত্যাচারী। এরা পরিবারের মান, সম্মান ও ইজ্জতের তোয়াক্কা না করে পরিবারকে ভূলুণ্ঠিত করে। অকৃতজ্ঞ, বেইমান ও মুনাফেক হয়। আমার শ্রদ্ধেয় মেজ জ্যাঠা জাহাঙ্গীর ফিরোজ ১৯৯৪ সালে তাকে জার্মানিতে নিয়ে গিয়ে তার জীবন রক্ষা করে এবং প্রতিষ্ঠিত করে। তাকে একাধিকবার অপমান, অপদস্থ ও হেনস্থা করেছে। তার মূল কারণ তিনি কেন বিল্ডিংটি আমাদেরকে ছেড়ে দিতে বলছেন। তাকে পরিবারের প্রত্যেকটি কাজে পদে পদে বাধা- বিঘ্ন ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে মানসিক যন্ত্রণা, প্যারা ও পেইন দিয়ে থাকেন । আমার বড় জেঠা মরহুম প্রফেসর শাহজাহান ফিরোজ ও লন্ডন প্রবাসী মেজে জ্যাঠা জাহাঙ্গীর ফিরোজ আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। আমার মেজ জেঠা সম্প্রতি বাড়িতে একটি অত্যাধুনিক ডুপ্লেক্স বিল্ডিং করেছেন; আমাদের বিল্ডিং ছেড়ে দেওয়ার জন্য প্রেসার দেওয়ার কারণে তিনি আমার মেজ জ্যাঠার এই বিল্ডিংটি ভেঙ্গে চুরমার করে দেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। আমার বড় জেঠা ও মেজ জেঠার প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই। তারা গত পনেরো বছর যাবত আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন। অনেক হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। তার বেপরোয়া আচরণ, দম্ভ, বাহাদুরী, রোষানল ও আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য নিজেদেরকে গুটিয়ে ফেলতে হয়েছে। তাদের প্রতি আমাদের কোন অভিযোগ নেই। এখন সমাজের সচেতন, বিবেকবান, মানবিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিগুলো আমাদের একমাত্র শক্তি ও ভরসা। আমরা আপনাদের কাছে ন্যায় বিচার পাবো। ইনশাআল্লাহ।

ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক সর্ব জনাব শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাউদ্দিন আলাল, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক জয়নাল আবদীন বাবলু, সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঁইয়া , ৩নং মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার, ৫নং চর দরবেশ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ , ৩ নং বগাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হাবিব উল্লাহ পারভেজসহ স্থানীয় সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছে আমার আকুল আবেদন এই যে, আমি আপনাদের একজন অসহায় ও এতিম মেয়ে আসমা আনিকা পুস্পা।

 

আমাদের বাড়ির বিল্ডিং এর দখলকারী দুর্বৃত্ত জামশেদ আলম রানাকে আপনারা প্রতিহত করুন এবং আমাদের সম্পদ ফেরত পাওয়ার জন্য দয়া করে সহযোগিতা করুন। আমরা আপনাদের জন্য জন্য দু’হাত তুলে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দোয়া করব এবং আমাদের মত এতিমের আত্মনাদ ও দোয়া মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কবুল করবেন। ইনশাল্লাহ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *