ফেনী:
ফেনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো দ্বিতীয় কারাগারের কার্যক্রম। শনিবার (১ নভেম্বর) সকালে জেল সুপার দিদারুল আলম আনুষ্ঠানিকভাবে এ কারাগারের উদ্বোধন করেছেন।
এ সময় জেলার দ্বিতীয় এ কারাগারে চট্টগ্রাম বিভাগের পাচঁটি জেলা কারাগার থেকে সাজাপ্রাপ্ত মোট ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হয়। এর আগে পুরাতন জেলা কারাগার ভবনকেই ‘ফেনী কারাগার-২’ হিসেবে ঘোষণা করে সরকার।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগের সাতটি জেলা কারাগার থেকে মাদক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বন্দি ও জর্জকোর্টে বিচারাধীন মামলার বন্দিদের রাখা হবে।
শনিবার প্রাথমিকভাবে ফেনীর ২১ জন, চট্টগ্রামের ২৬ জন, কুমিল্লার ৭৪ জন, নোয়াখালীর ১৫ জন, লক্ষ্মীপুরের ১১ জন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৩ জন বন্দিকে ফেনী কারাগার-২ এ স্থানান্তর করা হয়।
ফেনী কারাগার-২ এ ১৯ পদে মোট ৮৮ জন জনবলের মধ্যে ৭০ জন নিয়োগ হয়েছেন। বাকিরা প্রশিক্ষণ শেষে যোগদান করবেন।
ফেনী জেল সুপার দিদারুল আলম বলেন, সাত জেলা কারাগার থেকে মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ১৮০ জন বন্দিকে স্থানান্তর করা হয়। বন্দিদের থাকার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। শুধু কারাগারের চারপাশের দেয়াল সাড়ে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু করা ও কাঁটাতার লাগানোসহ কিছু কাজ বরাদ্দ পেলে পরবর্তীতে সম্পন্ন করা হবে। এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের অধীনে সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯১৫ সালে ফেনী শহরের মাস্টারপাড়ায় দেড় একর জমির ওপর উপ-কারাগার হিসেবে প্রথম ফেনী কারাগার প্রতিষ্ঠিত হয়, যার বন্দি ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ১৭২ জন। ১৯৯৮ সালে এটি জেলা কারাগারে উন্নীত হলেও তেমন কোনো আধুনিক সুবিধা ছিল না।
২০১৯ সালের ১২ জানুয়ারি কাজীরবাগ মৌজায় সাড়ে সাত একর জায়গায় ৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত নতুন জেলা কারাগারে বন্দি স্থানান্তর করা হয়। সেখানে মোট ২৮টি ভবনে বন্দি ধারণক্ষমতা ৩৫০ জন।