নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম : টাকা না দেয়ায় চাকুরি মেলেনি

ফেনী প্রতিনিধি:
হিসাব সহকারি পদে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হওয়ার পরও সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিতে না পারায় চাকুরি পায়নি জহিরুল হক খাঁন।

সোনাগাজীর ভোরবাজার এডভোকেট বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা চেয়ারম্যান ও নিয়োগ কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে ফেনী সহকারী জজ আদালতে মামলা করেছেন জহিরুল হক খাঁন। সে উপজেলার সফরপুর গ্রামের আবদুল হক খাঁনের ছেলে।

এজাহার সুত্রে জানাযায়, গত ২৬ মে ২০২২ তারিখে একটি জাতীয় দৈনিকে হিসাব সহকারি সহ ৪টি পদে লোকবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ভোরবাজার এডভোকেট বেলায়েত হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। হিসাব সহকারি পদে জহিরুল হক খাঁনসহ ১৬ প্রার্থী আবেদন করেন। গত ৩১আগস্ট ২০২২ তারিখে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত পরীক্ষায় জহিরুল হক খাঁনসহ ৫জন পাস করেন এবং মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে প্রথম হন জহিরুল হক খাঁন।

এর পরদিন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ কমিটি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্যদের ম্যানেজ করার কথা বলে জহিরুল’র কাছে টাকা দাবি করেন। দাবীকৃত টাকা না দেয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল ও উক্ত নিয়োগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

এ ঘটনায় প্রথমে জেলা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অভিযোগ দিয়ে কোন প্রতিকার না পেয়ে গত ২২জুন(বৃহষ্পতিবার) ফেনী সহকারি জজ আদালতে মামলা করেন জহিরুল হক খাঁন।

তিনি বলেন, এক বছর আগে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে ফলাফল ভালো করেও শুধুমাত্র টাকা দিতে না পারায় আমার চাকুরি হয়নি। এই চাকুরির আশায় গত একটি বছর আমি বেকার হয়ে অর্থ কষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছি। ন্যায় বিচারের আশায় আমি আদালতের শরনাপন্ন হয়েছি।

জহিরুল বলেন, ওই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আয়া, পরিচ্ছন্নকর্মী ও নৈশপ্রহরী পদে নিয়োগ দিলেও আমার প্রত্যাশিত পদে (হিসাব সহকারি) নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা।

অর্থ দাবীর বিষয়টি অস্বীকার করে ভোরবাজার এডভোকেট বেলায়েত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, হিসাব সহকারি পদের বিজ্ঞপ্তিতে ত্রুটি থাকায় আমরা উক্ত পদে নিয়োগ স্থগিত করেছি । নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রটি থাকলে অন্যান্য পদে কিভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের সদোত্তর দিতে পারেননি প্রধানশিক্ষক।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সাহাব উদ্দিন বলেন, হিসাব সহকারি নিয়ে যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, এটা শীঘ্রই সমাধান হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *