সৈয়দ মনির আহমদ >>>
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার এবিএম তালেব আলী নৌকা প্রতিকে নির্বাচন করে পর পর তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
প্রথমবার পাকিস্তান সামরিক সরকার, দ্বিতীয় বার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র সরকার ও তৃতীয় বার দেশের প্রথম স্বৈরশাসক এর সরকার আমলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন । ৯১সালের জাতীয় নির্বাচনে জনতার ভোটে নির্বাচিত হয়েও ফেনীর তৎকালিন স্বার্থপর নেতাদের কারনে বিজয়ি হতে পারেন নি।
৭০ বছরের শিক্ষকতা ও রাজনৈতিক জীবনে অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মক্তব, সামাজিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রায় ৫০বছর আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। অসংখ্য নেতাকর্মী সৃষ্টি করেছেন। এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন ।
গুণী এই রাজনীতিবিদ, নিবেদিত সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ জীবনের শেষ কয়েকটি বছর বার্ধক্যজনিত রোগ নিয়ে ফেনীর নাজির রোডের বাসায় একাকি ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একবার চিকিৎসার খরচ দিয়েছিলেন। কখনো খবর নেয়নি সোনাগাজীসহ ফেনীর আওয়ামীলীগ।
মৃত্যুর পর চার বছর পেরিয়ে গেলো সোনাগাজীসহ ফেনীর আওয়ামীলীগ স্মরণসভা অথবা নুন্যতম স্মরন করেনি। তাঁর কবরেও কোনো দায়ীত্বশীল নেতা বা জনপ্রতিনিধিকে যেতে দেখা যায়নি। মৃত্যুর প্রথম সপ্তাহে সোনাগাজী প্রেসক্লাব সভাপতি সৈয়দ মনির আহমদ’র আয়োজনে ছোট পরিসরে একটি স্মরণসভা হয়। সে স্মরণ সভায় আমন্ত্রণ পেয়েও অজ্ঞাত কারনে আ’লীগ নেতারা অংশ নেয়নি।
প্রশ্ন হলো সোনাগাজীসহ ফেনীর আওয়ামীলীগ কেন তাঁকে অস্বীকার করতে চায়, কেন তাঁর প্রতি এমন বিরুপ আচরণ ? কেন তাঁর অবদান ও কর্মকান্ডের স্বীকৃতি দিতে চায়না ?
জনমত অনুযায়ী এসব প্রশ্নের উত্তর হলো, সোনাগাজীসহ ফেনীর বর্তমান আওয়ামীলীগ এবিএম তালেব আলী সম্পর্কে না জানারই কথা। কারন এদের অনেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরুর আগেই স্থানীয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
আবার তালেব আলীর যারা সহচর এবং কর্মী ছিলেন, যারা ছাত্রলীগ -যুবলীগ করে আওয়ামীলীগ করছেন, যারা দুঃসময়ে দীর্ঘ ত্যাগ তিতিক্ষার মাধ্যমে আওয়ামীলীগে সম্পৃক্ত ছিলেন, তারা কেউ বর্তমান সোনাগাজীসহ ফেনীর আওয়ামীলীগের চালকের আসনে নেই। কেউই দায়ীত্বশীল অবস্থানে নেই।
অপরদিকে, দলে বেশ জনপ্রিয় এই কিংবদন্তী নেতা একবার জেলা আ’লীগের নির্বাচনে সভাপতি পদে ফেনীর আরেক কিংবদন্তী নেতাকে পরাজিত করেছিলেন। তখন থেকে জেলার রাজনীতিতে এক ধরনের প্রতিহিংসা শুরু হয়। জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল হাজারী সবসময় তালেব আলী বিরোধি ছিলেন। কখনো এই নেতাকে তিনি সহ্য করতেন না
।
দলের সভানেত্রীর উপদেষ্টা হয়ে ফেনীতে আসলে সবসময় সন্ত্রাসি হামলার মাধ্যমে দমনের অপচেষ্টা করতেন। এভাবে জেলায় দুই পক্ষের সমর্থকদের চক্ষুশূল ছিলেন এবিএম তালেব আলী। আর তারাই এখন জেলা আ’লীগের মুল চালকের আসনে। এর পরিবর্তন হলে হয়তো এক সময় সোনাগাজীসহ ফেনীর আওয়ামীলীগ এই কালজয়ী নেতাকে স্মরণ করবেই।
প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক শ্রম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক- এবিএম তালেব আলী ২০১৯সালের ৭ মে সকাল ৯টায় ফেনী শহরের নাজির রোড়স্থ নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়ষ ছিল ৮৯বছর।ওইদিন (৭মে) সোনাগাজীর বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা শেষে চর মজলিশপুর গ্রামে তাঁর পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবিএম তালেব আলী ফেনী-৩ সংসদীয় আসন থেকে যথাক্রমে ১৯৭০ সাল(স্বৈরশাসন), ১৯৭৩ সাল ও ১৯৭৯ স্বৈরশাসন) সালে জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি সোনাগাজীর বিষ্ণুপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, ফেনী মহকুমা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলেন।
লেখক :
কোষাধ্যক্ষ – ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়ন।
সাবেক সভাপতি -সোনাগাজী প্রেসক্লাব
সহ সভাপতি – ফেনী’ প্রেসক্লাব।
০১৯১২-৭৭২৩৯১ ;