Main Menu

সোনাগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট

* প্রধান শিক্ষকসহ ১৪টি পদ শুন্য
* কর্মচারী ৫ টি পদ শূণ্য
* শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত
* অভিভাবকদের মাঝে হতাশা

সৈয়দ মনির আহমদ:
সোনাগাজী মোঃ ছাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৪৫সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৭সালের ৩০আগস্ট জাতীয়করণ করে আওয়ামীলীগ সরকার। ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার একমাত্র সরকারি মাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয় এটি। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ আছে ২২টি। প্রধান শিক্ষক, সহকারি প্রধান শিক্ষক সহ ১৪টি পদ শুন্য। শিক্ষক সংকটের কারনে শ্রেনী কার্যক্রম ব্যহত হওয়ায় চরম হতাশায় আছেন অভিভাবকরা। ঈর্ষনীয় ফলাফল, খেলাধুলা, স্কাউট, পরিবেশ সব মিলিয়ে এক সময়ের ঐতিহ্যবাহি এই বিদ্যালয় এখন সবদিক থেকেই পিছিয়ে যাচ্ছে শিক্ষক ও কর্মচারি সংকটের কারনে। কবে নাগাদ এ সংকটের সমাধান হবে তা বলতে পারেন না কেউ ।

জানা যায়, বর্তমানে সোনাগাজী মোঃ ছাবের সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ৯শ ৬০জন শিক্ষার্থী রয়েছে । এসব শিক্ষার্থীর বিপরীতে একজন প্রধান শিক্ষক, একজন সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ ২২জন শিক্ষকের পদ রয়েছে । ২২টি পদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, গণিত, ইংরেজি, পদার্থ বিজ্ঞান, জীব বিজ্ঞান,ধর্মসহ ১৪টি পদ শূণ্য । শিক্ষকের ২২টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮জন শিক্ষক । শূন্যপদ গুলো হচ্ছে প্রধান শিক্ষক একজন, সহকারি প্রধান শিক্ষক একজন, বাংলায় একজন, ইংরেজিতে দুইজন, গণিতে একজন, সামাজিক বিজ্ঞান একজন, পদার্থ বিজ্ঞান একজন, জীব বিজ্ঞান একজন, কৃষি শিক্ষায় একজন, হিন্দু ধর্ম একজন এবং কারিগরী দুইজন। এর কারনে রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের পড়ানো সম্ভব হয় না ।

নির্ভর করতে হয় প্রাইভেট টিউটরের উপর। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী ৭টি পদের মধ্যে ৫টি পদ শূণ্য। কম্পিউটার অপারেটর দুটি পদের মধ্যে দুটিই শূণ্য । এছাড়া চতুর্থ শ্রেণির চারটি পদের মধ্যে তিনটি পদই শূণ্য ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অস্টম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, জাতীয়করণ করার পরদিন থেকেই বিদ্যালয়ে এমন সংকট দেখা দিয়েছে। জিও হওয়ায় উপকৃত হয়েছেন কয়েকজন শিক্ষক কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা।

সপ্তম শ্রেনীর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ঐতিহ্যবাহি এই প্রতিষ্ঠানে আমরাও পড়ালেখা করেছি কখনো শিক্ষক সংকটের মত পরিস্থিতিতে পড়েনি এই বিদ্যাপিঠ। আমরা চরম হতাশায় ভুগছি। এ সংকট না কাটলে স্থানান্তর করা ছাড়া কোন উপায় নেই।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জয়নূল আবেদীন বলেন, শিক্ষক সংকটের কারনে শ্রেণী কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় শিক্ষক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বার বার অবহিত করা হয়েছে। আশাকরি শীঘ্রই শিক্ষক সংকট দুর হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এএসএম মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক সংকটের বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে শ্রেণী কার্যক্রম চালানোর জন্য বিজ্ঞান, গণিত ও ইংরেজি বিষয়ে চারজন খন্ডকালিন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *