Main Menu

পাগলীকে ধর্ষণ : ১০১ বেতে সমাধান !

নোয়াখালী :
সুবর্ণচরে একজন মানসিক ভারসাম্যহীন (পাগলী ৩৫) মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনায় আলতাব হোসেন নামে এক যুবককে স্থানীয় ইউপি সদস্য (প্যানেল চেয়ারম্যান) ১০১টি বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে৷

অভিযুক্ত আলতাব হোসেন সুবর্ণচর উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের চর বায়োজিদ গ্রামের আকতার হোসেনের পুত্র৷ আলতাব হোসেন স্থানীয় সোলেমান বাজারের বিসমিল্লাহ হোটেলে কাজ করেন৷

সরেজমিনে গিয়ে এবিষয়ে কথা হয় প্রত্যক্ষদর্শী নৈশপ্রহরী মো. সেলিম মিয়ার সাথে৷ তিনি জানান, গতকাল (২৯ আগস্ট) রাত ২টার সময় উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের সোলেমান বাজারের কেন্দ্রীয় মসজিদে একজন পাগলি মহিলাকে স্থানীয় যুবক আলতাব হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করছেন ৷

তিনি একা না গিয়ে এমতাবস্থায় তার আরেক সহকর্মী মো. সেলিম উদ্দিনকে অবহিত করেন ৷ দুজনে গোপনে এসে ঘটনা প্রত্যক্ষ করে এবং আলতাবকে ধরতে গেলে তাদের হাত থেকে সে মসজিদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়৷ পরে নৈশপ্রহরীরা সে রাতেই আলতাবের হোটেল মালিক জামাল হোসেনকে এ বিষয়ে অবিহিত করেন৷ সকালে মসজিদে পানি ডেলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করেন বলে তারা স্বীকার করেন নৈশপ্রহরীরা৷

অপর নৈশপ্রহরী মো. সেলিম উদ্দিন জানান, এবিষয়ে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শেখ সেলিম (সেলিম মেম্বার) কে জানান৷ তারা সকালে (২৯ আগস্ট) অভিযুক্ত আলতাবকে ধরে আনতে পাঠালে সে পালিয়ে যাওয়ার সময় লোকজন তাকে ধরে আনেন ইউপি সদস্যের অফিসে৷

শেখ সেলিম মেম্বার ও বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. হাসান আলতাবকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অভিযোগ স্বীকার করে৷ এবং ১০১ বেতের অর্ডার করে৷ এসময় নৈশপ্রহরী সেলিম উদ্দিন ১০১ বেত কার্যকর করেন৷ নৈশপ্রহরী সেলিম প্রতিবেদককে বেত্রাঘাতের সত্যতাও স্বীকার করেন৷

তবে বিষয়ে জানতে আলতাবের বাড়িতে গেলে আলতাব খবর পেয়ে সে পালিয়ে যায়৷ তার মা বিষয়ে প্রতিবেদককে জানান৷ তার ছেলে অপরাধ করলেও তাকে এমন অমানবিক নির্যাতন করা ঠিক হয়নি৷ তার মা জানান, বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিকের যোগসাজশে এমন ঘটনা করেছে সে ৷ আজকেও বিসমিল্লাহ হোটেলের মালিক তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে৷

তার মা আরও জানান, এ বিচারকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য তার ভাই (মালেক) থেকে টাকা নিয়েছেন৷ এবং বিচার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ৷ আলতাবের মুঠোফোন এসময় বন্ধ পাওয়া যায়৷

স্থানীয় সোলেমান বাজার জামে মসজিদের মুসুল্লিরা জানান, একজন পাগলি মহিলাকে আল্লাহর ঘর মসজিদের ভিতরে ধর্ষণের ঘটনায় সামান্য বেত্রাঘাত করে ছেড়ে দেয়া এটা বে আইনি৷ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মুসল্লী জানান, বাজার পরিচালনা কমিটি ও ইউপি সদস্য এ ঘটনা দামাচাপা দিতে তারা মসজিদে ঘটনার কথা অস্বীকার করে অন্যত্র ঘটেছে বলে প্রচার করছে৷

এদিকে বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসান জানান, তিনি এ বিচার করেছেন সন্দেহের ভিত্তিতে৷ অভিযুক্ত আলতাব ধর্ষণের বিষয়ে জনসম্মুখে স্বীকারের কথা প্রতিবেদককে স্বীকার করে মোবাইল ফোন কেটে দেন৷ পরে আবার কথা বলার চেষ্টা করলে মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়৷

ইউপি সদস্য শেখ সেলিম উদ্দিন (সেলিম মেম্বার) বলেন এধরনের কোন ঘটনা ঘটেনি।

এবিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এডভোকেট আবুল বাসার জানান, তাকে এবিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি।

অন্যদিকে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবপ্রিয় দাস জানান, এ বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ আসেনি।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *