Main Menu

সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের আংশিক টাকা ফেরত দিলেন অধ্যক্ষ

আর কে আকাশ, পাবনা :
গত ২৬ নভেম্বর “পাবনা টিটিসির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ বিভিন্ন দৈনিক ও অনলাইন
পত্রিকায় প্রকাশের পর পাবনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলাম আত্মসাতকৃত টাকা বিভিন্ন ট্রেডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুইং মেশিন অপারেশন ট্রেডের শিক্ষার্থীদের টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের অর্থ আত্মসাতের সংবাদ প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ট্রেডের শিক্ষার্থীরা টিটিসিতে এসে অধ্যক্ষের কাছে টাকা ফেরত চান এবং টাকা ফেরত না দিলে তারা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন। এছাড়া শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবকও অধ্যক্ষকে টাকা ফেরতের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে কোন উপায়ন্তর না দেখে তিনি টাকা ফেরতের ঘোষণা দেন এবং গত ২ ডিসেম্বর সুইং মেশিন অপারেশন ট্রেডের প্রতি শিক্ষার্থীদের (১০৫০) টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন।

টাকা ফেরত পাওয়ার পর সুইং মেশিন অপারেশন ট্রেডের কয়েকজন শিক্ষার্থী এই প্রতিবেদকে
মুঠোফোনে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সুইং মেশিন ট্রেডের অভিযোগকারী ছাত্রী এই
প্রতিবেদককে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন “ভাই আপনি রিপোর্ট না করলে আমরা টাকা ফেরত
পেতাম না। টাকা হাতে পেয়ে এখন অনেক ভালো লাগছে” সুইং মেশিন অপারেশন ট্রেডের
কয়েকজন ছাত্রী টাকা ফেরত দেওয়ার সময় তাদের সঙ্গে ট্রেডের শিক্ষক মোছা. শাহনাজের বিরুদ্ধে
দুর্ব্যবহারের অভিযোগ করেন।

কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (৭ ডিসেম্বর ২০২১ইং) ওয়েলন্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন, গ্রাফিক্স
ডিজাইন, ইলেকট্রিক্যাল ও মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেডের শিক্ষার্থীরা কোন টাকা ফেরত
পাননি।

এ ব্যাপারে ওয়েলন্ডিং ট্রেডের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, “আমরা এখনও কোন টাকা ফেরত
পাইনি। তবে স্যারেরা আশ্বাস দিয়েছেন যে আমরা টাকা ফেরত পাব।” মিডলেভেল ম্যানেজমেন্ট ও
ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান,
“আমরা শুনেছি সুইং মেশিন অপারেশন ট্রেডের শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত পেয়েছে কিন্তু আমরা
এখনও টাকা ফেরত পাইনি। তবে আশা করছি টাকাটা ফেরত দেবে।” গ্রাফিক্স ডিজাইন ট্রেডের
শিক্ষার্থীরা জানান, “আমাদের ট্রেডের স্যারেরা দায়িত্ব নিয়েছেন। স্যাররা বলেছেন প্রিন্সিপাল
স্যারের কাছ থেকে টাকা পেলেই তিনি আমাদেরকে টাকা ফেরত দিবেন।”

উল্লেখ্য পাবনা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বেকার ছাত্র-ছাত্রীদের দারিদ্র বিমোচন ও কর্মসংস্থানের
লক্ষ্যে বিনামূল্যে বিভিন্ন ট্রেডে স্বল্প মেয়াদী বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। পাবনা
টিটিসিতে সেইপ প্রজেক্টের মাধ্যমে গ্রাফিক্স ডিজাইন, সুইং মেশিন অপারেটর, মিডলেভেল
ম্যানেজমেন্ট, ইলেট্রিক্যাল, ওয়েলন্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন, প্লাবিং এন্ড পাইপ ফিটিং ও ড্রাইভিং-
এ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এখানে প্রতিটি ট্রেডে ৩০ জন করে মোট ২১০ জন ছাত্র-ছাত্রী
ভর্তি করা হয়। এই কোর্স সমূহে বিনামুল্যে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং প্রতিদিন
যাতায়াত ভাতা বাবদ ১০০ টাকা করে প্রদান করা হয়।

কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এনটিভিকিউএফ লেভেল-১
এসেসমেন্ট (ফাইনাল পরীক্ষা) করা হয়। এই ফাইনাল এসেসমেন্ট ফি ১০৫০ টাকা সেইপ প্রজেক্ট
থেকে পরিশোধ করার কথা থাকলেও এই টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করে অধ্যক্ষ প্রায় এক
লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

সেইপ প্রজেক্ট থেকে ইস্যুকৃত গত ২৮ সেপ্টেম্বর
২০২১ইং তারিখে সহকারী নির্বাহী প্রকল্প পরিচালক (উপ সচিব) রওনক জাহান স্বাক্ষরিত
চিঠিতে টিটিসির অধ্যক্ষদেরকে সেইপ প্রজেক্টের কন্টিজেন্সী খাত হতে এসেসমেন্ট ফি
জনপ্রতি ১০৫০ টাকা করে পরিশোধ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। কিন্তু অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম

উক্ত চিঠি গোপন করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা করে আদায় করে
আত্মসাত করেন।

এ ব্যাপারে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, দুর্নীতিবাজ চরিত্রহীন অধ্যক্ষের কারণে, সমগ্র শিক্ষকদের
সম্মানহানি হচ্ছে। তারা এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *