Main Menu

গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ক্যাব চট্টগ্রামের গণ অবস্থান কর্মসূচি

চট্টগ্রাম:
করোনা পরবর্তী লকডডাউন শেষে নিত্যপণ্য মূল্যের ক্রমাগত ঊর্ধ্বগতির মাঝে সরকার হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়ে বাজারের চলমান আগুনকে আরেক দফা উস্কে দিয়েছে। এর মধ্যে গণপরিবহন, পণ্য পরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি করে দাম নির্ধারণ করে দিলেও গণপরিবহন মালিক, শ্রমিকরা এই ভাড়া মানছে না। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পক্ষ থেকে ভাড়ার চার্ট বিভিন্ন গণপরিবহনে সাটানো ও পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলেও ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ হয় নি। অধিকন্তু ভাড়া কম দেয়ায় চলন্ত বাস থেকে যাত্রী ফেলে দেয়া, যাত্রীদের হয়রানিসহ নানা ভোগান্তিতে জনজীবন অতিষ্ঠ।

সাধারণ সীমিত আয়ের মানুষ একদিকে নিত্যপণ্য মূল্যের ভারে জর্জরিত অন্যদিকে গণপরিবহণের ভাড়া নৈরাজ্য “মরার ওপর খারার ঘাঁ” হিসাবে আর্বিভুত হয়েছে। এ অবস্থায় নিত্যপণ্যের বাজার ও গণপরিবহণে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সরকারের কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে সরকারের নির্ধারিত ভাড়া আদায় করা ও খাদ্য-পণ্যের অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারী অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ। ১৬ নভেম্বর নগরীর বহদ্দারহাট পুলিশ ফাঁড়ির সামনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চান্দগাঁও থানা কর্তৃক আয়োজিত নিত্যপণ্য মূল্যের ক্রমাগত উর্ধ্বগতি ও গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ক্যাব চট্টগ্রামের গণ অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত দাবি জানান।

ক্যাব চান্দগাঁও থানা সভাপতি মুহাম্মদ জানে আলমের সভাপতিত্বে ক্যাব সংগঠক ও প্রজন্ম চট্টগ্রামের প্রধান নির্বাহী চৌধুরী জসিমুল হকের সঞ্চালনায় গণঅবস্থান কর্মসুচিতে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বিশিষ্ঠ নারী নেত্রী ও ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা সভাপতি আলহাজ¦ আবদুল মান্নান, বিশিষ্ঠ সংগঠক ও ফুলকলির জিএম এম এ সবুর, ক্যাব পাঁচলাইশের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেলিম জাহাঙ্গীর, ক্যাব ৭নং ওয়ার্ড সভাপতি এবিএম হুমায়ুন কবির, ক্যাব ৬নং ওয়ার্ড সভাপতি অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, ক্যাব চান্দগাও থানা সহ-সভাপতি মনিরুজ্জমান, ক্যাব বন্দর-পতেঙ্গার সমন্বয়ক মোহাম্মদ আলী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন সরকার নিত্যপণ্য মূল্যের বাজার ব্যবসায়ীদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। সেকারনে সরকারের বাজার তদারিক এখন আর সেভাবে নেই। করোনায় প্রণোদনার নামে ব্যবসায়ীরা নানা সুবিধা গ্রহন করলেও অতিমুনাফা লাভের মনোবৃত্তি কমে নাই। আর্ন্তজাতিক বাজারে চাল, সয়াবিন তেল, গ্যাসের দাম কমলেও দেশের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। টিসিবির কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য রেশনিং সুবিধা বাড়ানোর দাবি করা হলেও সরকার বিভিন্ন সময় টিসিবির পণ্যেরও দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

বক্তাগন আরও অভিযোগ করে বলেন, সরকার আর্ন্তজাতিক বাজারে জ¦ালানী তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে দেশীয় বাজারে দাম বাড়ালেও দীর্ঘ ৩-৪ বছর আর্ন্তজাতিক বাজারে তেলের দাম তলানী গেলেও সরকার দেশীয় বাজারে সমন্বয় করেনি। করোনায় সাধারণ জনগনের জীবন জীবিকা নির্বাহে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থায় জ¦ালানি তেলের দাম বাড়িয়ে জনদুর্ভোগ তৈরী করেছে। ফলে গণপরিবহন ও পণ্যপরিবহনসহ রূপ্তানী পরিবহণে মারাত্মক বিরূপ পরিস্থিতি তৈরী হচ্ছে। সরকারের মাঠ পর্যায়ে নজরদারি না থাকায় আবার এ অজুহাতে নিত্যপণ্য ও গণপরিবহণের ব্যবসায়ীরা নতুন করে মূল্যবৃদ্ধি করে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। জনগন এ অবস্থার পরিত্রাণ চায়।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *