দাগনভূঞা থেকে ফিরে শাহেদ চেীধুরী: গজারিয়ার বহু অপকর্মের হোতা নুর নবীর খুটির জোর কোথায়? তার অত্যাচারে এলাকার ৩টি পরিবার গত প্রায় বছর খানেক ধরে গ্রাম ছাড়া।ক্ষতিগ্রস্থ আরও অনেকেই।সম্প্রতি সাংবাদিক এস এম ইউসুফ আলীর উপর হামলাকারী নুর নবীর এসব অপকর্মের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছে স্থানীয়রা।
সাংবাদিক ইউসুফের উপর হামলার পর সরে জমিনে দাগনভূঞা উপজেলার পূর্ব চন্দ্রপুর ইউনিয়নের গজারিয়া ও আশপাশের ২/৩ গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট হামলাকারী নুর নবীর বিষয়ে জানতে চাইলে এ প্রতিবেদককে
তারা জানান, স্থানীয় মৃত নুর আহম্মদে ছেলে নুর নবী ছোট থেকে পিতার ধান ভাঙ্গার মেশিন চালানোর পাশাপাশি পিতার দেখাদেখি আওয়ামী রাজনীতির সাথে (উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি)জড়িয়ে পড়ে।
৩ ভাই ৩ বোনের মধ্যে সে সকলের বড় হওয়ায় পরবর্তীতে স্থানীয় গজারিয়া বাজারে সংখ্যালগুদের জায়গা দখল ঘর নিমাণ করে মুদি দোকান আড়ালে তৎকালীন জয়নাল হাজারীর ক্যাড়ারে পরিনত হয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।পরবর্তীতে রাজনৈতিক পঠপরিবর্তনের আবাশ পেয়ে আ’লীগ ক্ষমতায় থাকলেও ৯৬ পরবর্তী দেশ ছেড়ে মরুর দেশ সৌদী আবর পাড়ি দেয় সে।
এর মাঝে ছুটিতে দু একবার দেশে এলেও দলীয় কর্মকান্ড ও পরিচয় এড়িয়ে স্থানীয় বিএনপি –জামায়াতের লোকদের সাথে শখ্যতা গড়ে তোলার চেষ্টা করে ,তবে পুনরায় প্রবাসে চলে যায়।কিন্তু ২০০৮ সালের পর দেশে আ’লীগের জয়যয়কার পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আবও দেশে ফিরে দলীয় কোন কমকান্ডে না জড়িয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন শুরু করে সে।
এর পর গত ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আ’লীগ পুন:রায় ক্ষতায় এলে ক্ষমতার স্বাদ জাগে তার।কখনও জয়নাল হাজারী,কখনও নিজাম হাজারী সমথকদের সাথে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা শুরু করে।কিন্তু বিএনপি-জামায়াত নেতাদের কখনও হাত ছাড়া করতে বিন্দুমাত্র লক্ষণ দেখায়নি সুচতুর এ নুর নবী।বিএনপি –জামায়াতের কয়েকজন শুবিধাবাদী ও গজারিয়া জুন শাখা ছাত্র শিবিরের সাবেক জনৈক সেক্রেটারীকে সঙ্গে নিয়ে পূর্বের ন্যায় আবারও নানা অপকম শুরু করে সে।রিক্সা চালকের ভাড়া,স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন দোকান থেকে বাকী করে টাকা চাইলে হুমকী দেয়া সহ ভূমি দখলসহ এলাকার ৩টি পরিবারকে বাড়ী ছাড়া করতেও তার সমস্যা হয়নি ।কারণ ওই কয়েক সুবিধাবাধী ব্যাক্তি তার সঙ্গী।
তার বিরুদ্ধে কথা বলার ও মামলা করা সাহস আছে কার? স্থানীয় দিন মজুর মোতালেব ,মজু ও মৃত: ছানু মিয়ার মত নিরিহ মানুষদের ভূমি দখলকারী এ নুর নবীর বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে দেওয়ানী মামলা করার অপরাধে ইতিপূর্বে তাদের বাড়ীতে গিয়ে দিন-দুপুরে হামালা করে এ নুর নবী ও তার সহযোগীদের অনেকেই ।যদিও ওই সময় সঙ্গবদ্ধ ভেড়ার পালের মত নিরীহ ওই দিনমজুর পরিবার গুলোর নারী-পুরুষ ,শিশু সকলের পাল্টা হামলায় পরনের লুঙ্গি রেখে রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে প্রণে রক্ষা পায় নুর নবী।যার ক্ষতছিহ্ন এখনও মাথায় টুপি পরে ঢেকে রাখতে হয় তাকে।
এর কয়েক দিন পরই রাতের আঁধারে নিজের বাড়ী ভাংচুর ও গাছের ডগা কেটে তার সহযোগীদের স্বাক্ষী বানিয়ে মজুর ছানুমিয়া,মোতালেব ও মজু মিয়ার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা ও নানা হুমকি দুমকি দিয়ে বসত বাড়ী ছাড়তে বাধ্য করে নুর নবী।নিজের বাড়ী ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে বেড়ালেও এখনও তার বিরুদ্ধে থানায় ভয়ে একটি অভিযোগও দায়ের করতে পারেনি তারা।আদালতের মামলা চালাতেও অর্থের অভাবে হিমশিম খাচ্ছে তারা।
একই অবস্থা স্থানীয় জালাল আহম্মদ,বাচ্চু ও সংখ্যালগু সহ অনেকেরই।এরাও তার হাত থেকে নিজেদের সম্পত্তি উদ্ধার ও ভয়ে মামলা করারও সাহস পাচ্ছে না।
তাছাড়া এলাকায় তার উপরে কে আছে? তৎকালীন আ’লীগ সমর্থিত স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন সোহেল তার ছোট ভাই!উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন,জায়নাল আবেদীন মামুনও তার ছোট ভাই আর তার হাত ধরেই রাজনৈতিতে এসেছে উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে দাম্বিকতা করে বেড়ায় ।
এ প্রতিবেদনে উল্লেখি প্রতিটি বিষয়ে সুষ্ঠ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়ে স্থানীয়রা জানান,এসব অপকর্মের হোতা নুর নবীকে গ্রেফতার করার পূবে তারা সরাসরি মূখ খোলার সাহস দেখাতে পারবে না।
এদিকে দলীয় কোন পদপদবীতে না থাকলেও দলের বাহিরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সে।সম্প্রতি স্থানীয় ইউনিয়ন আ’লীগের বর্ধিত সভা থেকে বেরিয়েই তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি মন্তব্য করে উর্দ্ধতন নেতাদের গালাগাল শুরু করেন সে।
পরদিন সোমবার নিজ এলাকা গজারিয়া বাজারের খাজা কুলিং কর্ণারে চা-পানের কথা বলে দলীয় কয়েকজন নেতাকে ডেকে গ্রুপ ছবি তুলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “৩নং পূর্ব চন্দ্রপুর মডেল ইউনিয়ান আওয়ামীলীগের রাজনীতিকে আরো গতিশীল করার লক্ষে নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি অতীব জরুরী বলে মনে করেন আওয়ামী পরিবারের সকল নেএীবৃন্দ,দাগন ভুঞা থানা আওয়ামী লীগের সকল নীতি নিন্ধারক বিষয়টা বিবেচনা করে সঠিক সিন্ধান্ত নিবেন বলে সবাই আশা প্রকাশ করেন”বলে ছড়িয়ে দেন।যা সম্পন্ন মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্যেশ্য প্রনোদিত বলে জানান, ওই এক ব্যক্তি ছাড়া সেখানে উপস্থিত বাকী প্রায় সকলেই।
এদিকে দলের বিরুদ্ধে এমন মিথ্যাচারে সর্বত্র দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।তবে ইউনিয়ন আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টি উপজেলা নের্তৃবৃন্দকে অবহৃত করেছেন বলে জানান তারা।)
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে সাংবাদিক ইউসুফকে গজারিয়া বাজারে একা পেয়ে পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা নবী ও তার ভাই নুরুল আমিন অজ্ঞাত সন্ত্রাসী নিয়ে তাকে অপহরণের চেষ্টা চালায়।এ সময় সে বাধা দিলে তার উপর ছড়্ওা হন তারা ।সাথে সাথে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপস্থিত লোকজন এগিয়ে এসে ইউসুফকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশ তাৎক্ষনিক ঘটনা¯’ল গজারিয়া বাজারে হাজির নবীকে আটক করে।এসময় তার ভাই নরুল আমিন পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদ রায়হান ঘটনাস্থলে এসে পরবর্তীতে তার নিজের জিম্মায় নুর নবীকে থানায় হাজির করার শর্তে ওই সময় পুলিশের হাত থেকে তাকে ছাড়িয়ে নেয় ।
এ ঘটনায় সাংবাদিক ইউসুফ আলী বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।দাগনভূঞা থানার অফিসার মুরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।এর দেখে নেয়া সহ সাংবাদিক ইউসুফকে জঙ্গী মদদদাতা উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগ সাধ্যামে নানা অপপ্রচার চালিয়ে এসব অপকম থেকে নিজেকে বাঁচানোর মিথ্যে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নুর নবী প্রকাশ কান বাঁকা নবী।