Main Menu

নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড ক্যাম্পে পুরাতন রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভের চেষ্টা

ফুড কার্ডে পুরাতন ও নতুন রোহিঙ্গা একাকার

 
জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, কক্সবাজার :
টেকনাফ নয়াপাড়া নিবন্ধিত ক্যাম্পের  রোহিঙ্গারা বিক্ষোভ দানা বাধছে। তারা রবিবার সকালে চেষ্টা চালায়। পরে এপিবিএন সদস্যরা তা ঠেকিয়ে দেয়। এতে অন্তত বিক্ষোভ চেষ্টাকারী চার জন রোহিঙ্গা আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়। তবে তাদের নাম পরিচয় বিস্তারিত জানা যায় নি। 

মূলত তাদের জন্য ইস্যু করা ফুড কার্ড নিয়ে এমন পরিস্থিতি চলছে। ২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য ইস্যু করা ফুড কার্ড হুবুহু মিল থাকায় পুরাতন রোহিঙ্গারা রেশন নেওয়া বন্ধ রেখেছে।  

জানা যায়, ফুড কার্ড হুবুহু হওয়ায় তারা জুলাই মাসের রেশন উত্তোলন করেনি নয়াপাড়া রেজিঃ ক্যাম্পে ১৯৯১-৯২ সালে আসা  পুরাতন রোহিঙ্গারা। এখানে ২০১৭ সালে আসা রোহিঙ্গারাও বসবাস করে। নতুনরা আসার পর থেকে  পুরাতন রোহিঙ্গাদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বও শুরু হয়।

পুরাতন রোহিঙ্গারা নিজেরা শরনার্থী মর্যাদায় বাংলাদেশে বসবাস করছে মনে করে। তাদের ধারণা ছিল সংখ্যা কম ও দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করায় বাংলাদেশ এদের নাগরিকত্ব দিয়ে রাখতে পারে  অথবা তৃতীয় দেশেও পাঠিয়ে দিতে পারে। কেউ কেউ কৌশলে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন তৈরী করেছে। এমন সময়ে ২০১৭ সালে

নতুন রোহিঙ্গার ঢল নামায় তাদের সেই স্বপ্ন তছনছ হয়ে যায়। এ ছাড়া পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড নতুন রোহিঙ্গাদের ফুডকার্ডের চেয়ে রেশনিং ভিন্নতা ছিল। 

  সব রোহিঙ্গাদের মাঝে সমপরিমাণ খাবার বিতরনের জন্য পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড ফেরত নিয়ে গত মাসে নতুন ফুড কার্ড ইস্যু করা হয়।

নতুন ফুড কার্ড অন্যান্য ক্যাম্পের সমসাময়িক (২০১৭ সালে)আগত নতুন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ডের অনুরূপ  হওয়ায় নয়াপাড়া রেজিস্ট্রাড  ক্যাম্পের পুরাতন রোহিঙ্গারা  এখনো নতুন ফুড কার্ড গ্রহণ করেনি। এরফলে গত জুলাই মাসের রেশন উত্তোলন করেনি তারা। 

ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা মোহাম্মদ ইসলাম জানান, ‘ নতুন  রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড এবং পুরাতন রোহিঙ্গাদের ফুড কার্ড একইরকম হওয়াতে রেজিঃ ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের সমান মর্যাদা দেয়া হয়েছে।  তারা কোন ভাবেই এটা মেনে নেবে না।” 

অন্য দিকে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন (আরআরআরসি) এবং জাতি সংঘ শরনার্থী সংস্থা  (UNHCR)  কর্তৃপক্ষ  ফুড কার্ড ইস্যুতে গৃহীত  সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। 

টেকনাফ  নয়াপাড়া রেজিস্ট্রাড” (ক্যাম্প-২৫) ক্যাম্পের ইনচার্জ (সিআাইসি) উপ-সচিব মোঃ আবদুল হান্নান জানান, ”  হয়তো ভূল ধারণা থেকে এমনটি করছে তারা। আমরা এদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি তারা রেশন নেওয়া শুরু করবে। ‘

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। 

কক্সবাজার ১৬ এপিবিএন অধিনায়ক (এসপি) তারিকুল ইসলাম তারিক  জানা, যায়, “বর্তমানে ক্যাম্পের পুরাতন  রোহিঙ্গাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তারা বিক্ষোভ দানা বাধার চেষ্টা করছে। 

গত কয়েকদিন তারা এ নিয়ে বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে তাদের এপিবিএন ক্যাম্পে ডেকে মোটিভেশনাল পরামর্শ দিয়ে শান্ত রাখেন এতদিন। এ বিষয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ ( CIC) এবং জাতি সংঘ শরনার্থী সংস্থা ( UNHCR) স্ব স্ব অবস্থান থেকে  আলোচনার মাধ্যমে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানের জন্য সব প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। 

তবে (১ আগস্ট) রবিবার  ভোর থেকেই পুরাতন রোহিঙ্গারা নয়াপাড়া ক্যাম্পে বিক্ষোভ প্রদর্শন করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ‘

সুশাসনের জন্য  নাগরিক (সুজন)  কক্সবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরাতন রোহিঙ্গারা অনেকে বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয় কার্ড তৈরী করেছে। 

নতুন ফুড কার্ড গুলো ডিজিটাল হয়ে যাওয়ার বড় ধরনের গড়মিল ধরে পড়তে পারে। এমন আশংকা থেকে নতুন ফুড কার্ড বব ত অনিহা প্রকাশ করছে তারা। ‘ এ বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ ও তদারকি দরকার বলেও মনে করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, ”  উখিয়ার কুতুপালং এবং টেকনাফের নয়াপাড়ায় দু”টি ক্যাম্পে প্রায় ৩৪ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে। তারা  ১৯৯২-৯২ সালে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা । ওই সময় আড়াই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা এসেছিল বাংলাদেশে।

অন্যরা  ফেরত গেলও মিয়ানমার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে রাখায় এরা তাদের দেশে ফেরত যেতে পারেনি। ওই সময়  থেকে বাংলাদেশের দুটি ক্যাম্পে অবস্থান করছে তারা।

শেয়ার করুনঃ





Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *