শিমুল হত্যা: মাথার গুলির লেটবলটি মিরুর শটগানের 

 

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: নিহত সাংবাদিক আবদুল হাকিম শিমুলের মাথায় পাওয়া গুলির লেটবলটি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের। আদালতে জমা দেয়া পৌরমেয়রের শটগান ও সাংবাদিকের মাথার গুলির লেটবলের ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত মাসে শাহজাদপুরে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শিমুল।

সোমবার শাহজাদপুর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত পুলিশের জেনারেল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (জিআরও) মো. আতাউর রহমান জানান, আদালতে ব্যালিস্টিক পরীক্ষার প্রতিবেদনটি ৬ মার্চ নথিভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) কার্যালয় থেকে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়। প্রতিবেদনে লেটবলটি পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরুর শটগানের বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাদপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের মাথা থেকে পাওয়া গুলির লেটবলটি মেয়রের ব্যবহৃত লাইসেন্স করা শটগানের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি আদালতের আইনজীবীদের কাছ থেকে জানা গেছে। পরে বিস্তারিত জানা যাবে।

ব্যালিস্টিক পরীক্ষার জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সিআইডিতে নমুনা পাঠানো হয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২ ফেব্রুয়ারি শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয় মাহমুদকে মেয়র মিরুর দুই ভাই মিন্টু ও পিন্টু অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে হাত-পা ভেঙে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মেয়রের বাড়ি ঘেরাও করে। এ সময় মেয়রের পক্ষে দুটি শটগান থেকে গুলি ছোড়ার খবর আসে গণমাধ্যমে।

সংঘর্ষের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আবদুল হাকিম গুলিবিদ্ধ হন। পরদিন দুপুরে বগুড়া থেকে ঢাকা নেয়ার পথে তিনি মারা যান।

শিমুল হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী নুরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে মেয়রসহ ১৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন। আর বিজয়কে মারধরের অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন তার চাচা। এই মামলায় ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার শ্যামলী এলাকা থেকে ঢাকা মেট্টোপলিটন পুলিশের সহায়তায় মেয়র হালিমুল হক মীরুকে গ্রেফতার করে সিরাজগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *