শহীদরা আমাদের প্রেরণার বাতিঘর – গোলাম ফারুক

অসংখ্য শহীদের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতা। শহীদের রক্ত পিচ্ছিল পথ ধরে আমরা শুধু একটি স্বাধীন মানচিত্রই পাইনি, পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা, পেয়েছি একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বের কাছে মর্যাদাপূর্ণ পরিচিতি, পেয়েছি মায়ের ভাষায় কথা বলার অধিকার।

শ্রান্ত কৃষকের ঘর্মাক্ত অবয়বে, কৃষানীর স্বপ্নাতুর চোখে, শিশুর হাসিমাখা নিষ্পাপ চাহনিতে, অবারিত সবুজের পেলবতায়, দিগন্ত ছোঁয়া মাঠের শরীরে, মাটির সোঁদা গন্ধে মিশে আছে শহীদের রক্ত মাখা ইতিহাস।

 

তাই শহীদরা আমাদের প্রেরণার বাতিঘর। আর শহীদদের অমূল্য অবদানকে অস্বীকার করা মানে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্ত্বিত্বকেই অস্বীকার করা। একটি জাতি তখনই জাতি হিসেবে সম্মানের আসনে আসীন হয় যখন সে তার জন্ম ইতিহাস কখনো বিস্মৃতির আড়ালে হারাতে দেয় না। তাই শহীদদের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শনে আমাদের কার্পণ্যতা মুক্ত হতে হবে, বের হয়ে আসতে হবে দীনতার গন্ডি হতে।

কিন্তু মাঝে মাঝে আহতবোধ করি যখন দেখি শহীদদের অমর্যাদা করা হচ্ছে,বঞ্চিত করা হচ্ছে প্রাপ্য সম্মান হতে। এমনি এক ভাগ্যাহত মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শহীদ নুরুল আফছার।  যিনি মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার এফ এফ ফোর্সের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত প্রথম মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ছিলেন। নিজের তারুণ্যের সমস্ত প্রাণশক্তিকে শুধু দেশের জন্য বাজিই রাখেননি বরং প্রাণপ্রিয় জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে স্বাধীনতার মাত্র ৫দিন আগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়ে ছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার এত সূদীর্ঘ সময় পেরিয়েও আজ অবধি তাকে একজন জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে আমরা অক্ষমতার তিমিরেই রয়ে গেলাম।

 

তাই আমি সকল শহীদের প্রতি যথার্থ সম্মান প্রদর্শনসহ শহীদের পরিবারের পক্ষ হতে  শহীদের মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সাথে শহীদের পরিবারের পক্ষ প্রত্যাশা রইল। শহীদরা বেঁচে থাক আমাদের হৃদয়ের অলিন্দে,ভালোবাসার অনুভবে ও সম্মানে স্মরণে এই হোক আমাদের প্রতিদিনকার প্রত্যাশা।

 

 

লেখক : গোলাম ফারুক,

সহ-সভাপতি,  সর্ব ইউরোপীয়ান আওয়ামী সোসাইটি, যুক্তরাজ্য।

শহীদ কমান্ডার নুরুল আবছার এর ছোট ভাই।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *