মাননীয় প্রধানমন্ত্রী :
বৃটিশ আমলে নোয়াখালী শহর ছিল কলকাতার পর এতদঅঞ্চলের দর্শনীয় স্থানের মধ্যে অন্যতম। নদী ভাঙ্গার পূর্বে নোয়াখালীতে সোনার পাত মোড়ানো সাত গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ ছিল। বিশাল কোর্ট বিল্ডিং ছিল, ঘোড় দৌড় ময়দান ছিল, পার্ক ছিল, ঐতিহ্য মন্ডিত দর্শনীয় উন্নত শহর ছিল। (উল্লেখ্য, মস্কো, রাশিয়া, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের একটি গম্বুজ সোনার পাত মোড়ানো। তাও তুরস্কসহ তিনটি মুসলিম দেশ সংস্কার করে দিয়েছে। ২০১৯ সালে ঈদ-উল-ফিতরের নামাজে ২ লক্ষ ৩০ হাজার থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মুসলমান মস্কো মসজিদে ও রাস্তায় নামাজ পড়েছিল। অথচ নোয়াখালীর পূর্ব পুরুষ জনগণ তাদের নিজেদের অর্থে সোনার পাত মোড়ানো সাত গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন)। নোয়াখালীতে আওলাদে রাসুল (সঃ) হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর ছেলে হযরত আজাল্লা শাহ ও তিন নাতি বসবাস করতেন। এক নাতি শাহ মখদুম (রঃ) পরবর্তীতে রাজশাহীতে চলে গিয়েছিলেন রাজশাহীর রাজা গৌড় গবিন্দের নির্যাতনকে প্রতিহত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করার জন্য ও ইসলাম প্রচারের জন্য। পরবর্তী সময়ে বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর ছেলে হযরত আজাল্লা শাহ বাগদাদ, ইরাক ফেরৎ চলে গিয়েছিলেন। বড় পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর দুই নাতি এর মাঝার নোয়াখালীর চাটখিল শ্যামপুরে আছে।
ওনাদেরই বংশধর পরবর্তীতে বৃটিশ আমলে বেগমগঞ্জ -এর এমপি ছিলেন। বৃটিশ আমলে ভারত ভাগের পূর্বে কলকাতায় রায়ট এর সময় যখন মহত্মাগান্ধী নোয়াখালী বেগমগঞ্জ-এ এসেছিলেন তখন বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর বংশধর এমপি নোয়াখালীতে মহত্মাগান্ধীকে বলেছিলেন “নোয়াখালীতে আপনার নিরাপত্তা আমি দিতে পারবো না। আপনার নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারবো না। আপনার জীবনও নাশ হতে পারে। আপনি নিহত হতে পারেন এই নোয়াখালীতে। আপনি সারা ভারতে হিন্দু-মুসলমান দাঙ্গা বন্ধ করেন। বন্ধ করার নির্দেশ দেন।” তার সিগনাল হিসেবে মহত্মাগান্ধী’র ছাগল নিয়ে জবাই করে খেয়ে ফেলেছিল নোয়াখালীর জনগণ। তখন মহত্মাগান্ধী বুজতে পেরেছে। নোয়াখালীর জনগণের সাহস, মেধা, প্রজ্ঞা ও যোগ্যতা এবং ঐতিহ্য। মহত্মাগান্ধী বলেছিল- “নোয়াখালীর পরিস্থিতি জটিল। এ ব্যাপারে আমি কোন মন্তব্য করতে পারবো না। পরবর্তীতে মহত্মাগান্ধী ভারতে যাওয়ার পর রায়ট বন্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন এবং হিন্দু-মুসলিম রায়ট বন্ধ হয়েছিল।
সেই ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালীকে। নোয়াখালীবাসীকে চট্টগ্রাম রাজাকার ফজলুল কাদের চৌধুরী নিম্নোক্তভাবে আজকে তৃতীয় বিশ্বের ন্যায় তৃতীয় অনুন্নত জেলা বানিয়ে দিয়েছিল, স্বৈরাচার প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সহায়তায়। বৃহত্তর নোয়াখালীর জনগণ তথা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণ সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানের মধ্যে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়েছিল মিসেস ফাতেমা জিন্নাকে সামরিক জেনারেল আইয়ুব খানকে ভোট না দিয়ে, মৌলিক গণতন্ত্রের ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ভোটার সদস্যগণ জেনারেল আইয়ুব খান থেকে জ্বাল ৫০০ টাকার নোট নির্বাচনী ভোটঘুষ না খেয়ে।
আর এই কারণেই চট্টগ্রাম রাজাকার ফজলুল কাদের চৌধুরী, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা কোম্পানীগঞ্জ নোয়াখালী সমুদ্র বন্দর বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম সমূদ্র বন্দর উন্নত করে। ফেনীর বিমান বন্দর বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দর উন্নত করে। কুমিল্লার পরিকল্পিত বিশ্ববিদ্যালয় একদিনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরী ক্ষমতার অপব্যবহার করে চট্টগ্রাম নাজির হাটে স্থাপন করে। আজকের পশ্চিম বঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ন্যায় পূর্ব বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেধাবী নোয়াখালী জেলাকে তৃতীয় অনুন্নত জেলা করতে সক্ষম হয়েছে/বানিয়েছে।
নোয়াখালীবাসী সারাজীবন মেধাবী ছিল। তাই নোয়াখালীর মেধাকে দিয়ে আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্ব উন্নত করতে কাজ করবে। ভিশন-২০২১-২০৪১ বিশ্ব উন্নত বাংলাদেশ সফল করবে ইনশাআল্লাহ। তাই নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজীতে সমুদ্র বন্দর ও সোনাগাজী বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী প্রতিষ্ঠার জন্য আবেদন জানাইতেছি।
নোয়াখালীর কৃতি সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর মূখ্য সচিব জনাব আব্দুল কুদ্দুস সাহেব বর্তমান স্পীকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর পিতা উপ-সচিব থাকাকালীন সময়ে পূর্ব পাকিস্তানের নেতা শেখ মুজিবর রহমানকে পশ্চিম পাকিস্তানে মিটিংয়ে যাওয়ার সময় বিমান বন্দরে একটি কাগজে ৬ দফা লিখে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক সেই ৬ দফা পাকিস্তানের মিটিংয়ের বক্তব্যে উপস্থাপন করেছিলেন। যেখানে ১টি দফা পূর্ব পাকিস্তানের টাকার রং এবং পশ্চিম পাকিস্তানের টাকা দুইটি আলাদা থাকবে। বঙ্গবন্ধুসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী নোয়াখালীর কৃতী সন্তান সার্জেন্ট জহুরুল হক কে পাকিস্তানীরা কর্তৃক নিহত করার মাধ্যমে ৬৯ এর গণ অভ্যুত্থান শক্তিশালী হয় এবং বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৭১ পূর্ব আদমজী জুট মিল, টঙ্গী মুন্নু টেক্সটাইল, নিশাত জুট মিল সহ, চট্টগ্রাম পাহাড়তলী টেক্সটাইল, এ কে খান জুটমিল, শীতাকুন্ড, বাড়বকুন্ড গুল আহাম্মদ জুট মিল, হাফিজ জুট মিল প্রভৃতি ইন্ডাস্ট্রিতে নোয়াখালীর হাজার হাজার, লক্ষ শ্রমিকরা আন্দোলন সংগ্রাম করে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ভূমিকা রেখেছিল, যাহা বাংলাদেশের ২য় কোন জেলার শ্রমিক সংখ্যার দিক থেকে শ্রমিক আন্দোলনে এত বিশাল অবদান নাই।
পূর্ব প্রসঙ্গে আর একটু বলতে হয় যে, রাজাকার সিলেট স্বৈরাচার প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সহায়তায় রাজাকার সিলেটের মুসলিম লীগ মন্ত্রী অন্য জেলা থেকে কেটে নিয়ে সিলেট মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেছিল। রাজাকার রাজশাহী স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সহায়তায় মুসলিম লীগের রাজাকার মন্ত্রী রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও মেডিকেল কলেজ স্থাপন করেন স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সহায়তায়।
অথচ এই রাজাকারের মুসলিম লীগার দলেরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ তারা কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেনি। তিনি পূর্ব পাকিস্তানের মন্ত্রী (সাবেক) থাকার পরও।
এমনকি অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী এবং পূর্ব পাকিস্তানের মূখ্য মন্ত্রী শের-এ-বাংলা এ কে ফজলুল হকের বরিশাল জেলায়ও কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও সমুদ্র বন্দর করেনি, এই রাজাকার মুসলিম লীগার দলের স্বৈরাচার আইয়ুব খানের সহচরগণ। যেখানে আপনি বর্তমানে পায়রা সমূদ্র বন্দর করেছেন। পটুয়াখালীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন। ফরিদপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন, ১০০ মেগাওয়াট ও ৫০ মেগাওয়াট পাওয়ার স্টেশনসহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজ করেছেন/করতেছেন। ফরিদপুর বিভাগ করেছেন।
শেখ হাসিনার মূলমন্ত্র উন্নয়নের গণতন্ত্র। আপনি সারাদেশে উন্নয়ন করতেছেন সমভাবে। আপনি ১৯৯৯ সালের ৫ জুন আমাদের ইউনাইটিং বাংলাদেশ সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে নোয়াখালীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজীতে সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা, ফেনীতে ঊচত প্রতিষ্ঠা দাবী করার সাংবাদিক সম্মেলনের পর ২৪ জুলাই ১৯৯৯ রংপুর কারমাইকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তব্যে বলেছিলেন ১২টি পুরাতন জেলায় ১২টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় করবেন। গেজেট করেছিলেন। বর্তমানে ১টি জেলা ছাড়া ১১টি জেলায় ১১টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা হচ্ছে। জেলা সমূহ উন্নত হয়েছে। ভিশন-২০২১-২০৪১ উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ।
১৯২২ সালে ফেনী কলেজ প্রতিষ্ঠা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠার পর ফেনীর কৃতি সন্তানগণ ঃ
বৃহত্তর নোয়াখালীর মধ্যে প্রথম কলেজ ফেনী (বর্তমান সরকারি) কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯২২ সালে। ১৯২৪ সালে ফেনী কলেজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়ে ডিগ্রী কোর্স চালু করে। ফেনী কলেজের প্রাক্তন ছাত্রগণই ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিসহ সচিবালয়ের অসংখ্য সচিবের পদ অলংকিত করে দেশ সেবা ও দেশের উন্নতি করেছিলেন/করতেছেন। ফেনী কলেজের প্রাক্তন ছাত্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, বিচারপতি, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, চলচিত্র নির্মাতা ও অসংখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতা ভাষা সৈনিক ছিলেন। যখন বাংলাদেশে ১৯টি জেলা ছিল তখন ১৭টি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাহেবগণের বাড়ী ছিল বৃহত্তর নোয়াখালীতে। ১৯২২ সালে বাংলাদেশের অনেক জেলাতেই কলেজ ছিল না। প্রাক্তন ছাত্রগণ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ছিল না। অসংখ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভাষা সৈনিক ছিল না। অসংখ্য সচিব বা অসংখ্য জেলা প্রশাসক ছিল না। এখন তাদের জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অথচ ফেনী জেলায় এখনও কোন বিশ্ববিদ্যালয় হয় নাই। অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ফেনীবাসী প্রবাসীদের দেশে আনার পরও। অনেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতির বাড়ী ফেনী জেলাতে থাকার পরও।
সুতরাং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজাকার চট্টগ্রামে ২টি (মিরশ্বরাই সহ) সমুদ্র বন্দর দিবেন না বা করবেন না অনুরোধ করছি। রাজাকার চট্টগ্রামে ২টি বিশ্ববিদ্যালয় (মিরশ্বরাই সহ) প্রতিষ্ঠা করবেন না। সারাদেশের উন্নয়নের জন্য মেধাবী বৃহত্তর নোয়াখালীবাসীর মেধাকে কাজে লাগানোর জন্য, বিশ্ব উন্নত বাংলাদেশ করার জন্য, ওআইসিতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশ স্থায়ী সদস্য হওয়ার জন্য, বাংলাদেশে হেলিকপ্টার তৈরি করার বিজ্ঞানী ভারতের রাষ্ট্রপতি আব্দুল কালামের ন্যায় বিজ্ঞানী বঙ্গবন্ধুর সৈনিক তৈরির জন্য, কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজীতে (জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবের নির্বাচনী এলাকায়) সমুদ্র বন্দর নির্মান/প্রতিষ্ঠা করুন।
সোনাগাজী বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী প্রতিষ্ঠা করুন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ওআইসি ও জাতিসংঘে নেতৃত্ব দিবে ইনশাআল্লাহ। যাহা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনও পারেনি। তথাপি ফেনীতে মেধাবী এমপি নির্বাচিত হবে।
নোয়াখালী সমূদ্র বন্দর ঐতিহ্য ইতিহাস :
বৃটিশ আমলে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ বামনী সমুদ্র বন্দরের নিকট বামনী দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা লগ্নে জমি নিয়ে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান কল্পে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তথা নোয়াখালীর ডিসি এর সাথে বামনী রামপুর মুছাপুর এর ১৫/২০ জন প্রতিনিধির সাথে মিটিং হয়েছিল ডিসি অফিসে। উক্ত মিটিং এ জেলা প্রশাসক তথা ডিসি সাহেব বলেছিলেন “আজকের এই মিটিং-এ যে লোকটির হাতে হাত ঘড়ি নেই সেই লোকটি হলাম আমি ডিসি (জেলা প্রশাসক)। উপস্থিত আপনাদের সকলের হাতে হাত ঘড়ি আছে।” সেই বৃটিশ যুগে পূর্ব বাংলায় কোথাও হাত ঘড়ি ক্রয় করতে পাওয়া যেত না কোন দোকানে। তখন বামনী সমুদ্র বন্দরের সুবাদে বামনী এলাকার জনগণ বিদেশী জাহাজে চাকুরী নিয়ে বিদেশে যেত এবং বিদেশ থেকে বিদেশী পন্য হাত ঘড়ি সহ অন্যান্য আধুনিক উন্নত জিনিসপত্র ক্রয় করে বিদেশ থেকে জাহাজে/বাড়ীতে আসার সময় নিয়ে আসতো। আত্মীয় স্বজনকে ব্যবহার করতে উপহার দিতো এবং নিজেরা সকলে ব্যবহার করত। এটা ছিল ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ বামনী সমুদ্র বন্দর সংশ্লিষ্ট ইতিহাস।
নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ-এর (যুগিদিয়ে, সিরাজপুর জনাব ওবায়দুল কাদের সাহেবের ইউনিয়নে গ্রামে) সমুদ্র বন্দরে আন্তর্জাতিক পর্যটক ইবনে বতুতা এসেছিল। অনেক বৃটিশ ব্যবসায়ীরা এখানে যুগিদিয়েতে ব্যবসা করতেন। নোয়াখালী শহর নদী ভাংগার পূর্বে বিশাল নোয়াখালী কোর্ট বিল্ডিং ও ফুটবল ইতিহাস পরবর্তীতে …।
ভবিষ্যতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে :
সোনাগাজী বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী থেকে পাশ করা ছাত্ররা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক উন্নত প্রযুক্তিতে স্বদেশী বাস, ট্রাক, কার, হেলিকপ্টার, বিমান, কম টাকায় তৈরি করে দিবে। আন্তর্জাতিক প্রযুক্তির সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মূল্যে রপ্তানীযোগ্য। এই সোনাগাজী বিশ্ববিদ্যালয়, ফেনী এর পাশ করা ছাত্রগণ ওআইসি ও জাতিসংঘে নেতৃত্ব দিবে, ওআইসি এবং জাতিসংঘ বিভাগে অধ্যয়ন করার মাধ্যমে। এখানে জার্মানী হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্প ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা কোর্স / বিভাগ থাকবে। রাশিয়ার মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়, মস্কো স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষা কোর্স বিভাগ, আমেরিকার টেক্সার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কোর্স (বুয়েট ঊচটঊঞ ১৯৬২ সালে আমেরিকার টেক্সাস কলেজের শিক্ষাকোর্সে ৬টি বিভাগ ও ৬ জন টেক্সাস অধ্যাপকের নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠার ন্যায়), বৃটেনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর (১৯২১ সালে ইংল্যান্ডের শিক্ষা কোর্সের আলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয় প্রতিষ্ঠার ন্যায়) ও ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের, সৌদি আরবের মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কোর্স ও শিক্ষক থাকবেন। দক্ষিণ কোরিয়ার ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয় এর বিজনেস ইনকিউবিশন শিক্ষা কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা, পরবর্তীতে আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কে সি কিম এর শিক্ষা কোর্স থাকবে। যেখানে ১০ বৎসরে সদ্য পাশ করা ছাত্ররা/প্রকৌশলীগণ ১০ মিলিয়ন / বিলিয়ন ডলারের মালিক হবে ইনশাআল্লাহ।
ইরান টেকনলোজী সম্মেলন থেকে ফেরার পথে অধ্যাপক কে সি কিম বিমানে ও ইরানে মাননীয় শিল্প মন্ত্রী দিলিপ বড়ুয়া এবং মন্ত্রীর পিআরও জনাব আব্দুল জলিল ভাইকে বলেছিলেন- “দক্ষিণ কোরিয়ায় আমার কয়েক শত ছাত্র আছে। যাহারা সদ্য প্রকৌশল পাশ করে ১০ বৎসরে ১০ মিলিয়ন/বিলিয়ন ডলারের মালিক হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীগণ তাদের দেশে দাওয়াত দিয়ে আমার বিজসেন ইনকিউবেশন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের ও সাফল্যের তথ্য এবং বক্তব্য শুনেন।” আমরা এ দেশবাসীকে অধ্যাপক কে সি কিম কে দাওয়াত দিয়ে এনে সেই বক্তব্য শুনাবো ইনশাল্লাহ।
এরকম আধুনিক উন্নত বিশ্ববিদ্যালয় এটাই বাংলাদেশে প্রথম হবে আপনার নির্দেশে ও পরামর্শে আশা করছি ইনশাল্লাহ।
বাংলাদেশের ম্যাপসহ ইওডঞঅ কর্তৃক সার্ভেকৃত উপরোক্ত ৪টি ম্যাপ বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাই যে, বঙ্গপসাগর থেকে সন্দ্বিপ চ্যানেল হয়ে ফেনী নদীর তীরে কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজীতে সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করা সুবিধা জনক ও সল্প খরচে সম্ভব। (ইওডঞঅ নদী সার্ভে প্রতিনিধি দলের বক্তব্যমত)।
চট্টগ্রাম কর্নফুলী নদীর পাহাড়ি ঢলের বালির কারণে প্রত্যেক বছর ব্যয়বহুল নদী ড্রেজিং করার ন্যায় এখানে ব্যায়বহুল নদী ড্রেজিং করতে হবে না।
কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজী অঞ্চলে নদীর গভীরতা ৮ মিটির, কোন অংশে ১০ মিটার আবার কোন অংশে ১২ মিটার এবং ১৪ মিটার (পানি)। এখানে নদী ছওড়া ১৫০০ (পনেরশত) মিটার থেকে ২০০০ (দুই হাজার) মিটার পর্যন্ত। এখানে নদী সরাসরি বঙ্গপসাগর থেকে চট্টগ্রামের পাশ দিয়ে সন্দ্বিপ চ্যানেল হয়ে কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজী হয়ে হাতিয়া প্রনালী দিয়ে ভোলা গিয়েছে। নদী সোজা সহজ ও বেশী চওড়া বিধায় এখানে ৫০০/৬০০ মিটার লম্বা জাহাজ সহজে আসা-যাওয়া করতে পারবে। বৃটিশ আমলের কোম্পানীগঞ্জ যুগিদিয়ে সমুদ্র বন্দর এলাকা চর দিতে দিতে এখন এটা কোম্পানীগঞ্জ চর এলাহী ও সোনাগাজী অঞ্চল দিয়ে সন্দ্বীপ চ্যানেলের মাধ্যমে বঙ্গপসাগরের সাথে সংযুক্ত। বৃটিশ আমলে কোম্পানীগঞ্জ যুগিদিয়ে পরবর্তীতে বামনী তালেব মোহাম্মদ হাটের সমুদ্র বন্দরে অনেক বিদেশী বড় বড় জাহাজ এখানে আসতো। ফলশ্রুতিতে বামনী রামপুর, মুছাপুর তথা কোম্পানীগঞ্জ ও সোনাগাজীর প্রচুর লোক বিদেশী জাহাজে নাবিক, সুকানী, সারেং হিসেবে চকুরী নিয়ে বিদেশী জাহাজে চাকুরীরত এবং এখন তার ধারাবাহিকতায় চাকুরী করতেছে। তাদেরই অনেকে বর্তমানে ইংল্যান্ড আমেরিকা প্রবাসী।
দিলকুশা, ঢাকায় ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় মনির ম্যানশন এর মালিক বামনীর মনির সাহেবের ন্যায় (সাবেক জাহাজের নাবিক)। একইভাবে চট্টগ্রাম আনোয়ারা পতেঙ্গাতেও কোম্পানীগঞ্জ বামনীর ন্যায় একই ধরনের সমুদ্র বন্দর ছিল। বৃটিশ ভারত পরবর্তী পাকিস্তান সৃষ্টির পর তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ফাতেমা জিন্নাহ প্রতিদন্দ্বি সামরিক জেনারেল আইয়ুব খানের নির্বাচনের সময় বৃহত্তর নোয়াখালীর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণ সারা বাংলাদেশর মধ্যে সবচেয়ে বেশী ভোট দিয়েছিল তৎকালীন গণতন্ত্রের জন্য মিসেস ফাতেমা জিন্নাহকে সামরিক জেনারেল আইয়ুব খানকে ভোট না দিয়ে। অপর পক্ষে চট্টগ্রামের ফজলুল কাদের চৌধুরী (সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা) সহ সাবেক পূর্ব পাকিস্তানের অনেক জেলার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের টাকা দিয়ে ভোট ক্রয় করে সামরিক জেনারেল আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়। ফলে ফজলুল কাদের চৌধুরী নোয়াখালীর সমুদ্র বন্দর বাদ দিয়ে একমাত্র চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠায় কাজ করে, ফেনীর বিমান বন্দর বাদ দিয়ে চট্টগ্রাম বিমান বন্দর উন্নত করে এবং কুমিল্লার পরিকল্পিত বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম নাজির হাটে স্থাপন করে একদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত, স্পীকার ফজলুল কাদের চৌধুরী। ফলশ্রুতিতে ঐতিহ্যবাহী নোয়াখালী জেলা উন্নতিতে পিছিয়ে পড়ে। অথচ নোয়াখালী শহর নদী ভাঙ্গার পূর্বে কলকাতার পর নোয়াখালী শহর ছিল পূর্ব বাংলার দর্শনীয় স্থান। এখানে সোনার পাত মোড়ানো সাত গম্ভুজ বিশিষ্ট মসজিদ ছিল। আওলাদে রাসুল (সাঃ) বড় পীর আব্দুল কাদের জিলানী (রঃ) এর দুই নাতি নোয়াখালী বসবাস করতেন, শ্যমপুর চাটখিল এখনও তাদের মাজার আছে। নোয়াখালী শহরে ঘোড় দৌড় ময়দান ছিল। পার্ক ছিল। কোর্ট বিল্ডিংটা এত বড় ছিল যে কেহ সেই দিনের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল কিক দিয়ে কোর্ট বিল্ডিংয়ের ওপারে নিতে পারে নাই। তৎকালীন (বৃটিশ আমলে) নোয়াখালী জেলা প্রশাসক (ডিসি) কর্তৃক আয়োজিত ফুটবল প্রতিযোগিতায় একমাত্র জনাব ওবায়দুর কাদের ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকার সুন্দলপুর আব্দুল্লামিয়ার হাটের ‘জনাব গিরিসান’ ফুটবল কিক দিয়ে নোয়াখালীর কোর্ট বিল্ডিংয়ের ওপারে নিতে পেরেছিল। কোর্ট বিল্ডিংটা এত উচু ছিল যে বলটা নীচে পরে ফেটে গিয়েছিল। এই কৃতিত্বের জন্য বৃটিশ সরকারের নোয়াখালীর ডিসি জেলা প্রশাসক কলকাতার জাতীয় ফুলবল খেলোয়াড় ‘জনাব গিরিসান’ কে সেইদিন ২০ (বিশ) কানি জমি উপহার দিয়েছিল।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী :
কেবলমাত্র আপনিই উন্নত সমৃদ্ধ দৃষ্টিনন্দন পূর্বেকার নোয়াখালীর ঐতিহ্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। কেননা সোনাগাজীতে ১৯৮১ সাল থেকে ৩৯ বৎসর যাবৎ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় এমপি নাই। এই সুযোগটাই মিরশ্বরাইর এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন সাহেব মিরশ্বরাই এর কাজে লাগাচ্ছেন সোনাগাজী কোম্পানীগঞ্জকে বঞ্চিত করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী :
সবিনয় আবেদন করতেছি, জনাব ওবায়দুর কাদের ভাইয়ের সাথে আলোচনা করে কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজীতে সমুদ্র বন্দর প্রতিষ্ঠা করুন। সোনাগাজীতে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করুন (মিরশ্বরাইতে নয়)। তখন কোম্পানীগঞ্জ সোনাগাজী তথা ফেনী নোয়াখালী হবে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বাণিজ্যিক রাজধানী ইনশাল্লাহ। আমরা তথা বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী কম টাকায় সোনাগাজী কোম্পানীগঞ্জে বাস, ট্রাক, হেলিকপ্টার তৈরি করে দেবে ইনশাল্লাহ । যাহা অদ্যাবধি চট্টগ্রামবাসী পারে নাই তাদের সমুদ্র বন্দর থাকার পরও। বাংলাদেশ হবে বিশ্ব উন্নত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১-২০৪১ উন্নত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় মেধাবী বৃহত্তর নোয়াখালীবাসী সমুজ্জল অবদান রাখতে সক্ষম হবে ইনশাল্লাহ। পাকিস্তান আমলে সচিবালয়ের অসংখ্য নোয়াখালীর কৃতি সন্তান সচিবদের ন্যায়। বাংলাদেশে যখন ১৯টি জেলা ছিল তখন ১৭টি জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এর বাড়ি বৃহত্তর নোয়াখালীর কৃতি সন্তানদের ন্যায়। ভাষা সৈনিকদের ন্যায়, মুক্তিযোদ্ধা ও রাজনীতিবিদদের ন্যায়।
আপনার সু-স্বাস্থ্য, দীঘায়ু কামনা করছি ।
বিনীত নিবেদক :
ইঞ্জিনিয়ার গিয়াস উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী,
চেয়ারম্যান,বাংলাদেশ শিল্প ও উন্নয়ন পরিষদ।