মোঃ আফজাল হােসেন, দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে মাইক্রােবাস করে এক মাদ্রাসা ছাত্রী (১৬) কে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় ¯স্থানীয় জনতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনের নেতা ওমর ফারুকসহ সাত অপহরকারিকে আটক করে গনধােলাই দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করেছে।
আটকৃতরা হলেন বিরামপুর বিজুল এলাকার আবু সাইদের ছেলে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন বিরামপুর শাখার অর্থ সচিব উমর ফারুক (২৭) ও তাঁর ছোট ভাই নুর উন নবী (২৫) মির্জাপুর মহল্লার শাহজামাল মন্ডলের ছেলে রায়হান কবির (২৭), রংপুরের কামার পাড়া মহল্লার মৃত আ. ওহাবের ছেলে কৌশিক আলম (২৮), শালবন মহল্লার মৃত নূর মোহাম্মদের ছেলে মো. রাসূল (২৯), মৃত শরিফুল হোসেনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৩০) এবং মিঠাপুকুর থানার মাসুদার পাড়া মহল্লার মৃত মােশারফ হােসেনের ছেলে ছােটন মিয়া (২৩) ।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বিজুল বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ওই দিন রাতে ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে।
বিরামপুর থানায় ওই ছাত্রী জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে প্রতিদিনের মতো বিরামপুর শহর কোচিং সেন্টার যাওয়ার জন্য বাস ধরতে বিজুল বাজার আসে। বিজুল বাজারে আসামাত্র ওই ছাত্রীর কােচিং শিক্ষক বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন বিরামপুর শাখার অর্থ সচিব উমর ফারুকের (২৭) নেতৃত্বে একটি মাইক্রােবাস নিয়ে এসে ছয় অপহরনকারি ওই ছাত্রীকে উঠে নিয়ে ঘােড়াঘাটের দিকে যেতে থাকে। মাইক্রােবাস উঠে নিয়ে ফারুকের নির্দেশ কৌশিক আলম তাঁর পায়ে একটি ইনজেকশন দেয়। নবাবগঞ্জের বাজিতপুর এলাকায় ¯স্থানীয়রা সড়ক বেরিকেড দিলে অপহরণকারিরা ওই ছাত্রীকে নেমে দিয়ে পালাতে থাকে।
ওই ছাত্রীর বাবা জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তাঁর মেয়েকে বিজুল বাজারে পাঞ্জেরী নামক একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি করান। উমর ফারুক ওই কােচিং সেন্টারের শিক্ষক ছিলেন। সে সময় থেকে উমর ফারুক তাঁর মেয়েকে উত্যক্ত করতাে।
ছাত্রলীগ নেতা বাজিতপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াদুদ শাহ জানান, বিজুল এলাকা থেকে¯স্থানীয়রা মুঠোফানে এক ছাত্রীকে অপহরন করে নিয়ে যাওয়ার খবর দেন তাঁকে। খবর পেয়ে ¯স্থানীয় লােকজনকে নিয়ে সড়ক বেরিকেড দেন তাঁরা। এসময় অপহরনকারিরা ওই ছাত্রীকে ফেলে দিয়ে অন্য রাস্তা দিয়ে পালাতে থাকে। এসময় তাঁরা মটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করে অপহরনকারিদের ধরে ফেলে। এসময় গ্রামবাসী অপহরনকারিদের গনধালাই দিয়ে নবাবগঞ্জ থানার পুলিশের কাছ সোপর্দ করে।
নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হােসেন জানান, ঘটনা যেহেতু বিরামপুর থানায় হয়েছে তাই আটককৃতদের বিরামপুর থানার পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।
বিরামপুর থানায় আটক উমর ফারুক জানায়, ঘটনার সাথে সে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। কৌশিক আলম জানায় সে বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন রংপুর জেলা শাখার সভাপতি। উমর ফারুক তাঁদের পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করেছে।
বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিরুজ্জামান জানান, আটককৃতদের শুক্রবার সকাল আদালাতে পাঠালে আদালতের বিচারক আটকৃতদের জেলহাজতে পাঠিয়ে দেয় বলে ওসি আমিরুজ্জামান জানান।