রায়ে সন্তুষ্ট তবে নিরাপত্তার আশংকা করছে নুসরাতের পরিবার

সোনাগাজী ( ফেনী) প্রতিনিধি :
তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিক ও বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট । এ রায় দৃষ্ট্রান্ত হয়ে থাকবে। পরিবারের নিরাপত্তার আশংকা করে দ্রুত রায় কার্যকর করার দাবি জানান বাদী নোমান। বহুল আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলা রায় ঘোষণার পর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিক, মা শিরিন আক্তার, মামলার বাদি ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান, এবং ছোটভাই রাশেদুল হাসান রায়হান।

এছাড়াও নুসরাতের স্বজন, সহপাঠি ও সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার শিক্ষকরাও এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রায় কার্যকরের দাবী জানান। প্রতিক্রিয়া জানাতে আদালতে উপস্থিত নুসরাতের বাবা একেএম মুসা মানিক কেঁদে ওঠেন। অল্প সময়ের মধ্যে বিচার কাজ শেষ করে রায় ঘোষণা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ মামলার কার্যক্রম শেষ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এসময় রায় দ্রুত কার্যকরের দাবী জানান তিনি। মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান মামলার ১৬ আসামীকে মৃত্যুদন্ড প্রদানে সন্তুষ্ঠি প্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অল্প সময়ের মধ্যে নুসরাত হত্যা মামলার নিষ্পত্তির কথা দিয়েছিলেন, সে কথা তিনি রেখেছেন। রায়টি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবী করছি। আসামী পক্ষ প্রভাবশালী উল্লেখ করে নোমান বলেন, আমাদের পরিবার নিরাপত্তা ঝুঁকিতে আছে । তবে পুলিশি পাহারার জন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষনার আগে ও পরে আসামীর স্বজনরা নানানভাবে হুমকি দেয়।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি(তদন্ত) খালেদ দাইয়ান বলেন, প্রয়োজনে রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত নুসরাত পরিবারের নিরাপত্তা দেবে সরকার। নুসরাতের মাদরাসার বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ হোসাইন গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। এ রায়ের মধ্যদিয়ে যাতে অন্যকোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয় তার জন্য অল্প সময়ের মধ্যে কার্যকরের দাবী জানান। নুসরাত হত্যা মামলার রায়কে ঐতিহাসিক রায় বলেও আখ্যায়িত করেন। নুসরাতের নিকটাত্মীয় আবদুল বাতেন, ওমর ফারুক, তার সহপাঠি নিশাত সুলতানা, নাসরিত সুলতানা ফূর্তি, কায়সার মাহমুদ, আলা উদ্দিন, জামসেদ আলমসহ অনেকে রায় শুনতে আদালত চত্ত্বরে ছুটে আসেন। কাঙ্খির রায়ের সংবাদ শুনে তারাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

আদালত চত্বরে আনন্দ মিছিল করে মিস্টি বিতরন করেন তারা। এরআগে বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে এগারোটায় বহুল আলোচিত মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামালায় অভিযুক্ত ১৬ আসামীর মৃতুন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মামুনুর রশিদ একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমান করেন। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামীরা নি:স্তব্দ হয়ে রায় শোনেন। পরে তারা অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলাসহ আসামী হাউমাউ করে কেদে নিজেদের নির্দোষ দাবী করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *