সোনাগাজী প্রতিনিধি :
২০০১ সালের ১ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনের দিন ভোট গ্রহন ও গননা চলাকালে সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের তৎকালিন সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিনের সাহসি ভূমিকা চির স্মরনীয় । আগেরদিন রাত (৩০সেপ্টেম্বর) থেকে সেনা পাহারায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সংখ্যালঘুদের বাড়ী ঘরে হামলা ও ভাংচুর করে এবং হুমকি দেয় যুবদল -ছাত্রদল ক্যাডাররা। সকালে ভোট গ্রহন শুরুর পর থেকে থানায় আসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হাজার হাজার লোকজন এবং আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে আসতে থাকে বিভিন্ন কেন্দ্রের নৌকার এজেন্ট। হাসপাতালে আওয়ামীলীগ সমর্থীত পরিবার গুলোর কান্নার রোল।
এসব একাই দেখাশুনা করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন। সকাল ১১টায় ১নং মজলিশপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি মাহবুব মেম্বারকে আটক করে কলেজস্থ ক্যাম্পে নেয়ার সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে রাস্তায় দাড়ানো ছিলেন জসিম উদ্দিন। মাহবুব মেম্বারের চিৎকার শুনে থানায় ছুটে যান কর্মীবান্ধব আওয়ামীলীগ নেতা জসিম উদ্দিন। তৎকালিন ওসি মনসুর আলী মন্ডল কে অনুরোধ করে অাহতাবস্থায় মাহবুবকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দিয়ে ছাড়ানোর ব্যাবস্থা করেন। ওসি বলেছিলেন, ভোট গ্রহন শেষে ছেড়ে দেয়া হবে মাহবুবকে। সন্ধায় মাহবুবকে ছাড়াতে গেলে হাজতে বন্দি মাহবুব মেম্বার বলেন, জসিম ভাই আপনি পালিয়ে যান। থানায় বিএনপির ক্যাডাররা -পুলিশের সঙ্গে বৈঠক করেছে । আপনাকে খুন করবে অথবা বহু মামলায় ফাঁসাবে আপনি নিজেকে বাঁচান। আমি থানায় আছি আমাকে মারতে পারবেনা। এদিকে উত্তর চর ছান্দিয়া ভোটকেন্দ্রে মা ও স্ত্রীর উপর বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা করেছ শুনে বাড়ীতে চলে যান আওয়ামীলীগ জসিম উদ্দিন । ঠিক এক ঘন্টা পর বিএনপি- যুবদল ক্যাডাররা থানায় এসে আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি জসিম উদ্দিনকে খুঁজতে থাকে এবং না পেয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ৪ টি হত্যা সহ ১৫টি মামলায় আসামী দেয়।
একই ভাবে দায়ীত্ব পালনকালে তৃনমুল নেতাকর্মীর বিপদে ছুটে যেতেন তিনি।
আসন্ন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে আওয়ামী রাজনীতির দুঃসময়ের কাণ্ডারী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, উচ্চ শিক্ষিত, সৎ সাহসী ও আপোষহীন নেতা জসিম উদ্দিনকে সভাপতি পদে দেখতে চায় সকল নেতাকর্মীরা।
সোনাগাজী পৌরসভাধীন ২নং ওয়ার্ড, উত্তর চরছান্দিয়ায় মৌলভী মফিজ উদ্দিনের সুযোগ্য সন্তান জসিম উদ্দিন, রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে উঠা, তিনি ফেনী জেলার সর্ব নন্দিত আওয়ামীলীগ নেতা মরহুম মরহুম খাজা আহমদের হাতধরে ১৯৬৯ সনে রাজনীতিতে আসেন । ১৯৬৯এর গণঅভ্যুত্থান ও ৬দফা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ছাত্র জনতাকে সংগঠিত করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে সর্ব মহলে প্রশংসিত হন ।
অতি অল্প বয়সে তার সাংগঠনিক দক্ষতা দেখে মরহুম খাজা আহমেদ তাকে শ্রেষ্ঠ সংগঠক ঘোষনা করেন । তিনি ১৯৭০ সনের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন । বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে যুবসমাজকে আগ্রহী করে তোলেন ।
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে তিনি উপজেলা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের সহ সাধারণ সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে সহ সভাপতিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় তিনি মরহুম রেজাউল করিম রাজ্জাক চেয়ারম্যান ও আওরঙ্গজেব আরুমিয়া চেয়ারম্যানের আস্থাভাজন ছিলেন ।
মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ সংগঠক ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের নিবেদিতপ্রাণ ত্যাগী এই নেতা, আসন্ন সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সভাপতি পদে প্রার্থী হিসেবে, ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী নিজাম উদ্দিন হাজারীর নেতৃত্বে, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীকে সুসংগঠিত করতে সর্বসাধারনের দোয়া ও আন্তরিক সমর্থন কামনা করেন ।