ওমর ফারুক, সোনাগাজী :
ভুমি বিরোধের জেরে ফেনীর সোনাগাজীর মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের ছয় ভাইয়া বাড়ীর প্রবাসী জামাল উদ্দিনের স্ত্রী আয়েশা আক্তারকে ২০০৯ সালে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা ।এবার জামাল উদ্দিন (৫৫) কে ও নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে ।

নিহত দম্পতির তিন ছেলে এক মেয়ে রয়েছে । বড় ছেলে মহিউদ্দিন প্রবাসে থাকেন ,একমাত্র মেয়ে লায়লা আক্তার শ্বশুরালয়ে ,ঘরে বাকি দুই ছেলে মাঈন উদ্দিন রুমেন (২০)ও নাছির উদ্দিন রায়হান (১৭)দুইজনে প্রতিবন্ধী, হাটা চলা করতে পারেন না এমনকি হাত ও নড়াছড়া করতে পারেন না।প্রতিবন্ধু দুই সন্তানের আহাজারিতে প্রকম্পিত আকশ বাতাস।
পুলিশ ,এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে জানাযায়, জামাল উদ্দিনের সাথে তার চাচাতো ভাই শাহ আলামের ভুমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে ,বিরোধকে কেন্দ্র করে ২০০৯ সালে প্রথমে জামাল উদ্দিনের স্ত্রী আয়শা আক্তার (৪০) কে ঘরে ডুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শাহ আলম গংরা। এ ঘটনায় জামালের মেয়ে লায়লী আক্তার বাদী হয়ে মামলা করলে শাহ আলম ও তার স্ত্রী কারাভোগ করে জামিনে বের হন।সেই থেকে দুই পরিবারের মাঝে ঝগড়া বিবাদ নিত্য নৈমত্তিক ঘটনা । নতুন করে ২০১৫ সাল থেকে জামাল উদ্দিন ও শাহ আলমের পরিবারের সাথে বাড়ীর আঙ্গীনায় এক শতক জায়গা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়।বিরোধের জেরে মামলা-মোকদ্দমা এমনকি মারামারির ঘটনাও ঘটেছে ।এ নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। সমাজের পঞ্চায়েত ও ইউপি চেয়ারম্যান সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের অনেকবার উদ্যোগ নিয়েও ব্যর্থ হন। এ নিয়ে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলার পর পুলিশের মধ্যস্থতায় ওই জায়গা মেপে বণ্টনও করা হয়। কিন্তু দু’পক্ষের নেতিবাচক ভূমিকার কারণে তাতেও সমাধান হয়নি।
জামাল উদ্দিন কিছুদিন আগে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেন। তখন আদালত ওই ভূমি দখলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শাহ আলমের পরিবার জায়গাটি ব্যবহার শুরু করলে গত ২৪ জুলাই দু’পক্ষের মারামারি হয়। এ ঘটনায় জামালের পুত্রবধূ জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে শাহ আলমসহ ছয়জনের নামে মামলা করেন। এ মামলায় শাহ আলমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই জায়গাকে কেন্দ্র করেই বুধবার রাতে প্রতিপক্ষের হামলায় জামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেলে মৃত্যু হয় তার। শুক্রবার ওই বিরোধপূর্ণ জায়গায়ই তাকে দাফন করা হয়েছে।
জামাল উদ্দিনের পুত্রবধু জাকিয়া আক্তার জানান, শাহ আলম গ্রেফতার হওয়ার পর তার পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। বুধবার রাতে তার চার ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা জামাল উদ্দিনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে জামাল ও তার শারীরিক প্রতিবন্ধী দুই ছেলেকে পিটিয়ে আহত করে এবং আহত জামাল উদ্দিনের মুখে বিষ ঢুকিয়ে দেয়। ওই সময় ঘর থেকে টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুটও করে তারা। আহত জামাল উদ্দিনকে প্রথমে ফেনী আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
জাকিয়া আক্তার আরও জানান, মারা যাওয়ার পর বিরোধের জায়গায়ই দাফন করা হয়েছে জামাল উদ্দিনকে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতে শাহ আলমের স্ত্রী আজিমা আক্তারকে আটক করে পুলিশ। পরে শুক্রবার জাকিয়া আক্তার বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন।
মতিগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান রবিউজ্জামান বাবু জানান, জায়গা নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বিরোধের পিছনে ইন্ধনদাতা, জামাল উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে নিঃশ্বংসভাবে যারা হত্যা করেছে ,প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য যাদের হাত রয়েছে সকলের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি তাদের।
এদিকে মা বাবা দুই জনকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ অসহায় প্রতিবন্ধি দুই ভাই বাড়ীর আঙ্গীনায় বাবার কবরের পাশে বসে বসে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছে ,এসময় আমাদের সময় প্রতিবেদককে দেখে তারা মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন মিড়িয়ার মাধ্যমে ,দাবী করেন তাদের মা বাবা হত্যার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির অভিযোগ করেন তাদেরকে যেকোন মহুর্তে হত্যা করতে পারে এমন হুমকি আসছে তাদের কাছে ,এজন্য তারা নিরাপত্তা চান সরকারের কাছে ।পাশাপাশি প্রতিবন্ধি দুই ভাইয়ের জন্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহব্বান জানান।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মইন উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি আজিম (৫০) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।