Main Menu

বাহারাইন বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই ফিরে যাচ্ছে বাংলাদেশিরা

মোঃস্বাপন মজুমদার বাহারাইন: ভিসা বাতিল হওয়ায় বাহারাইনের বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই গড়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি চালু হওয়া ভিসা বাতিলের নতুন নিয়মে অনেক বৈধ বাংলাদেশিই অবৈধ হয়ে গেছে। তাই দেশ থেকে ছুটি কাটিয়ে বাহারাইেন ফিরে, অনেককেই এমন বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। বাংলাদেশিদের বাইরেও অন্য দেশের নাগরিকদেরও ফিরে যেতে হচ্ছে বাহারাইন বিমানবন্দর থেকেই।
সম্প্রতি চালু হওয়া নিয়মে সিআরের অনুকূলে কোন অফিস না থাকলে গোসি (ইন্সুরেন্স) বিল ও এল এম আরের বিল বাকি এবং সিআর এর উপর কোন জরিমানা থাকা যাবে না। এমন হলে সয়ংক্রিয় ভাবে নিবন্ধন বাতিল হচ্ছে। আর নিবন্ধনের আওতায় সব বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল হয়ে যাচ্ছে। নতুন এই নিয়মের গ্যারাকলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দ্বীপ দেশটিতে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশি অবৈধ হয়ে গেছে।

 


গেল শনিবার পরিস্থিতি দেখতে বাহারাইন বিমানবন্দরে যান, সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের জনকল্যাণ প্রতিনিধি তাজউদ্দিন সিকান্দার। বিমানবন্দরে গিয়ে তিনি দেখেন শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ থেকে ফেরা ১০জনের মধ্যে ৭জনকে ঐদিনই আবার দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায় বাকি ৩জনকে শনিবার রাতে ফেরত পাঠানো হবে। এমনই এক জন জানান তিনি কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ঘোষের কান্দি গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ৩মাস আগে ছুটিতে দেশে যান। বাহারাইন বিমানবন্দরে পৌঁছে জানতে পারেন তার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে। বন্ধের দিন থাকায় মালিকের সাথে যোগাযোগ করেও কোন সুরাহা করতে পারেননি পরে মালিক তাকে নতুন ভিসা দিয়ে বাহারাইন নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দেন। আশ্বাস পেয়ে দেশে ফিরে আসে শরিফুল।
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার গোলাম রব্বানী জানান, ৪মাস আগে তিনি ছুটিতে বাহরাইন থেকে দেশে যান।  ফিরে দেখেন, তার ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।  মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে কোম্পানি থেকে তাকে বলা হয়,  আবার ভিসা দিয়ে তাকে নিয়ে আসা হবে।  এছাড়া, পাসপোর্টের নাম ও জন্মতারিখ পরিবর্তন করায় মজিদুল ইসলাম নামের একজনকে বাহারাইন বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠনো হয়।
বাহরাইনে যারা অবস্থান করছে, তাদের অনেকেই মালিকের সাথে কথা বলে ভিসার সমস্যা মেটাতে পারছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পরছে দেশে ছুটি কাটাতে আসা প্রবাসী শ্রমিকরা। তারা জানতেও পারছেনা যে তাদের ভিসা বাতিল হয়ে গেছে।
এ ব্যাপরে বাহারাইন বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা তাজউদ্দিন সিকান্দার জানান এলএমআর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী যেসব কোম্পানির ২মাসের বিল বকেয়া রয়েছে তাদের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ঐ কোম্পানির অধীনে সব প্রবাসী শ্রমিকের ভিসা ছিল বাতিল হয়ে যাচ্ছে। তাই ফ্রি ভিসার যেসব  শ্রমিক ছুটিতে দেশ গিয়েছেন তাদেরকে আগে থেকে খোঁজ খবর নিয়ে বাহারাইনে ফেরার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তনে সতর্ক থাকার কথা বলেন তিনি।  এছাড়া বাহারাইনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন-শুক্রবার বাংলাদেশ থেকে কাউকে সেখানে না যাওয়ারও পরামর্শ দেন তাজউদ্দিন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে নতুন এই সিদ্ধান্ত নেয় বাহারাইন সরকার। ১ মার্চ থেকে আইনটি কার্যকর হয় । অধিকাংশ ছোট  কোম্পানির নিবন্ধন এরই মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যারা বেশি মুনাফার আশায় সিআর বের করে ফ্রি ভিসায় শ্রমিক নিয়েছিলো কেবল তাদের  নিবন্ধনই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। কারন ওইসব কোম্পনি ফ্রি ভিসা বিক্রি করেই তাদের মুনাফা তুলে নিয়েছে। আইনের পরোয়া না করে এবং শ্রমিকদের কথা না ভেবে শুধু নিজেদের স্বার্থে তারা এটা করেছে।   এমন অনেক কোম্পানিই এখন অফিসও বন্ধ রেখেছে। তাই  ফ্রি ভিসায় বাহারাইনে যাওয়া প্রবাসী শ্রমিকরাই  অবৈধ হয়ে পড়ছে বেশি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *