সাতক্ষীরায় পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:

সাতক্ষীরার মাছখোলায় নিঃস্বর্ত দেখিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক ভোগদখল ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানীর হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন শহরের পুরাতন সাতক্ষীরার ফরমান আলীর স্ত্রী হাসিনা খাতুন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার নানা মৃত আহম্মদ কারিকর ও তার ভাই মৃত আপ্তাব কারিকর ওরফে পুটে কারিকর মাছখোলা মৌজায় তিনটি দাগে যথাক্রমে জেএল নং-১০২, খতিয়ান নং-১৬৪ (এসএ) ৮৫ শতক, ১৫১ খতিয়ান ৮৩ শতক ও ১৪৫ খতিয়ান ৪২ শতক সম্পত্তির মালিক। আমার নানা আহম্মদ কারিকরের একমাত্র কন্যা আমার মাতা আছিরন বিবি। অন্যদিকে, আমার অন্য নানা আপ্তাব কাকিকরের দুই সন্তান জেলেখা ও করিম গুমা (বাকপ্রতিবন্ধী)। খালা জেলেখার আবার দুই সন্তান হায়দার ও ফজিলা। এদিকে, আমার মার ৭ ভাই বোন। বড়ভাই মৃত ছলেমান, মেঝ ভাই নুরুল, ছোট ভাই আজহারুল, বড় বোন ছকিনা,  মেঝ বোন হাসিনা (আমি) সেঝ বোন সায়রা ও ছোট বোন আলেয়া। সে অনুযায়ী ওই সম্পত্তির অর্ধেক অংশের ওয়ারেশ মালিক আমরা। বাকী অর্ধকের মালিক হায়দার ও ফজিলা।

 

কিন্তু আমার মা একা এবং মহিলা হওয়ার কারনে চিহ্নিত ভুমিদস্যু, পর সম্পদ লোভী মাখখোলা এল্লারচর শিবতলা গ্রামের বাবুর আলী সরদারের ছেলে জহর আলী, নুর আলী, কওসার, আবুল কাশেম, মুজিদ, হাবিবর, রফিকুলের স্ত্রী সালেহা, বাবুল সরদারের স্ত্রী ফিরোজা, মৃত মাদার আলীর ছেলে আব্দুর রহিম, আব্দুল আলিম,নাইম হোসেন, ছাবিনা ইয়াছমিন, জেসসিন আক্তার,খাদিজা বেগম ভুমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাদের মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে আহম্মদ ও পুটে কারিকরের ওয়ারেশদের বাদ দিয়ে নিঃস্বর্ত দেখিয়ে ভোগ দখল করে আসছে। তাদের সম্পত্তি পাশে এই সম্পত্তি হওয়ায় সহজে তারা ওইসম্পত্তি অবৈধভাবে ভোগ দখল করে যাচ্ছে। এ ঘটনায় বিগত ২০১৩ সালে সাতক্ষীরা সহকারী জজ আদালতে আমার বড় বোন বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।

আদালতে তারা হাজির হয়ে আহম্মদ ও আপ্তাব কারিকরের সম্পত্তি তারা ভোগ দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তাদের কোন ওয়ারেশ নেই। অথচ ব্রহ্মরাজপুর ইউপির চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত ওয়ারেশ কায়েম সনদ পত্র আহম্মদ আলীর একমাত্র ওয়ারেশ হিসেবে আমার মায়ের নাম আছে। এছাড়া আপ্তাব কারিকরের ওয়ারেশদেরও ওয়ারেশ কায়েম সনদ রয়েছে। আর এ ওয়ারেশ কায়েম সনদ দেয়ায় অবৈধ দখলদাররা তৎকালিন ইউপি চেয়ারম্যানকে অপমানিত করার চেষ্টা করে। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে মাছখোলা ক্লাবে নেতৃবৃন্দ মিমাংশার করার কথা বলে আমাদের সেখানে নিয়ে গেলে দখলদার বাহিনীর সদস্যরা আমার গলায় গামছা পেচিয়ে জোর পূর্বক আমার কাছ থেকে কাগজপত্র ছিনিয়ে নেয়। ক্লাব সেক্রেটারী আসমাতুল্লাহ বিষয়টি থানা পুলিশ না করে সে উদ্ধার করে দেবে বলে টালবাহানা করে এড়িয়ে যায়। বর্তমানে তারা আমার দুই ছেলে ও আমার ভাইদের নামে মিথ্যা নাশকতার মামলায় ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। তারা প্রকাশ্য বলছে সম্পত্তি উদ্ধারের চেষ্টা করলে তারা পুলিশকে ম্যানেজ করে আমার সন্তান ও ভাইদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেল খাটাবো। এমতাবস্থায় আমি একজন অসহায় নারী হিসেবে আমার মাতার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার এবং আমার সন্তানদের যাত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করতে না পারে সে জন্য পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, হাসিনা খাতুনের বোনের মেয়ে খাদিজা খাতুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *