Main Menu

অাওয়ামীলীগে মৌসুমী পাখীর প্রয়োজন নেই – ওবায়দুল কাদের

বাংলার দর্পণ ডেস্ক : প্রকাশ- ১৩ নভেম্বর ১৬। চট্টগ্রামে সংবর্ধনা নিতে গিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সুসময়ের বন্ধু হিসেবে যারা দলে এসেছেন তাদের তিনি চেনেন এবং এই ‘মৌসুমী পাখিদের’ আওয়ামী লীগে দরকার নেই। কেউ অপকর্ম করলে ছাড় হবে না বলেও নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করেছেন ক্ষমতাসীন দলের নতুন সাধারণ সম্পাদক।
তিনি বলেছেন, বসন্তের কোকিল কারা কারা দলে অনুপ্রবেশ করেছেন, ‍আপনাদের বলছি- আওয়ামী লীগে বসন্তের কোকিল আর মৌসুমি পাখির কোন স্থান নেই। চলে যান, আমার মৌসুমি পাখির দরকার নেই। শেখ হাসিনার বসন্তের কোকিলের দরকার নেই। যখন দু:সময় আসবে তখন হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও বসন্তের কোকিলদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শনিবার (১২ নভেম্বর) নগরীর লালদিঘি ময়দানে এমন বক্তব্য দিয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের কাছে আঞ্চলিক ভাষায় নোয়াখালীর সন্তান কাদের জানতে চান, ‘হাছা কইলাম নাকি মিছা কইলাম। ’
কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া চট্টগ্রামের নেতাদের সংবর্ধনা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি কাদের বলেন, কাউকে ছাড়ব না। দল করলে দলের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। যারা মানবে না তাদের দলে থাকার কোন অধিকার নেই। গুটিকয়েকের জন্য গোটা দলের বদনাম হতে পারে না।
‘ওই গুটিকয়েক কারা, তাদের দল থেকে বের করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে না। এভাবে দল চলতে পারেনা। ’ বলেন কাদের।
মঞ্চে থাকা চট্টগ্রামের নেতাদের দাঁড়িয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথও করিয়েছেন দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ওবায়দুল কাদের।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মঞ্চের দিকে তাকিয়ে দেখুন। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ, অভিন্ন। আপনারা ওখান থেকে টুকটাক এটা-সেটা করবেন, ওইদিন চলে গেছে। এটা আর করতে দেয়া হবেনা।
‘ঠিক হয়ে যান, অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে। কাউকে ছাড়া হবে না। শেখ হাসিনার অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ’ বলেন ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামে ব্যানারে-বিলবোর্ডে আমার ছবি দেখতে আসিনি। আমি এই চট্টগ্রামে আমার নামে তোরণের শোভা দেখতে আসিনি। কারণ আমি জানি ফুলের মালা শুকিয়ে যাবে, আমি জানি এই ফুল শুকিয়ে যাবে। আমি জানি কাগজের ফুল ছিঁড়ে যাবে। আমি জানি পোস্টারের ছবি ছিঁড়ে যাবে। আমি জানি তোরণের ছবি ভেঙে যাবে। আমি জানি পাথরের ছবি ক্ষয়ে যাবে।
কিন্তু হৃদয়ের কথা রয়ে যাবে।
‘আমার রাজনৈতিক পিতা বঙ্গবন্ধু জনগণের হৃদয়ে নাম লিখেছেন। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা জনগণের হৃদয়ে নাম লিখেছেন। এই নাম কোনদিন মুছে যাবে না। ফুল নয়, বিলবোর্ডের ছবি নয়, ওই ছবি দেখিয়ে লাভ নেই, তোরণে ছবি দেখিয়ে লাভ নেই। হৃদয়ে ছবি দেখান, এই নাম রয়ে যাবে। ’ বলেন কাদের।
তিনি বলেন, আমি বাংলার অজগাঁ, তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন সৈনিক। আমি শেখ হাসিনার হাতে গড়া দলের কর্মী। আমি আপনাদের কাছে আজ নেতাগিরি করতে আসিনি। আমার নামে শ্লোগান বন্ধ করুন।
কাদের বলেন, আমাকে খুশি করার দরকার নেই। আমাকে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা খুশি করেছেন। আমার দায়িত্ব জনগণকে খুশি করা। নেতাদের খুশি করে লাভ নেই, জনগণকে খুশি করুন। জনগণের কাছে যান। যদি অপকর্ম কিছু করে থাকেন, ক্ষমা চান। জনগণের কাছে গিয়ে ক্ষমা চান, জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কোন লজ্জা নেই।
‘ঈদের সময় দেখেন না, রাস্তাঘাটে যেসব দুর্ভোগ হয়, আমি সেজন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চাই। এতে কি আমি ছোট হয়। জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে কি লজ্জা আছে ?’
সমাবেশে চট্টগ্রাম থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাওয়া নেতাদের মধ্যে সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপ দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ প্রচার সম্পাদক ব্যরিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রাঙামাটির সাবেক সাংসদ দীপংকর তালুকদার বক্তব্য রাখেন।
কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামন্ডলীতে স্থান পাওয়া সাবেক সাংসদ ইছহাক মিঞা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য শিক্ষাবিদ ড.অনুপম সেন এবং প্রণব কুমার বড়ুয়া।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ ও ডা.দীপু মণি, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম ও খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ‍সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ এবং চট্টগ্রামের মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।
সমাবেশ পরিচালনা করেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম এবং দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *