সড়ক মন্ত্রীর এলাকায় সড়ক নির্মাণে অনিয়ম, কাজ বন্ধ করলো এলাকাবাসী | বাংলারদর্পন

নোয়াখালী থেকে, গিয়াস আহমেদ রনি |

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারী ইউনিয়নে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু প্রকল্পের ও স্থানীয় সরকার বিভাগের তত্ত্বাবধানে একটি সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্মাণাধীন এই সড়কের পিচ ঢালাই করার প্রথম দিনেই তা উঠে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নির্মাণ কাজে অনিয়মের প্রতিবাদে এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্যদিকে, উপজেলা প্রকৌশলী দাবি করেন,অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন তিনি। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, উন্নয়নমূলক কাজের সঠিক মান সঠিকভাবে নিশ্চত করনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা যেন প্রশ্নবিদ্ধ। উপজেলা প্রকৌশলী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ৪৫ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে, চরহাজারী ৭নং ওয়ার্ডের হাফেজিয়া পাড়া থেকে মাচুয়াদোনা পর্যন্ত এক কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মাণে ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়, ওই কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। মেসার্স মোতালেব ট্রেডাস নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পান। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিদাদারী প্রতিষ্ঠান সড়ক নির্মাণের শুরু থেকেই এ সড়কে নিম্নমানের বালু, ইট, ইটের খোয়া, ক্রংকিট, নিম্নমানের বিটুমিন, পাথর ব্যবহার করে।

 

সড়কের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে কিন্তু পিচঢালাইয়ের প্রথম দিন থেকেই তা উঠতে শুরু করেছে। পিচঢালাইয়ে শিডিউল অনুযায়ী পুরু করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এ কারণে পায়ের জুতার ঘষাইও পিচঢালাই উঠে যাচ্ছে। স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল খায়েল সবুজ অভিযোগ করেন, এ পর্যন্ত কাজ প্রায় একেবারেই শেষ পর্যায়ে। নির্মাণের প্রথম দিন থেকেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। শক্ত কিছু অথবা পায়ের সু দিয়ে গুঁতা দিলেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ অনিয়মের কারণে এলাকাবাসী ক্ষুদ্ধ হয়ে গত শনিবার (১২ই জানুয়ারি) থেকে কাজ বন্ধ করে দেন। তারা রাস্তার কাজের এ অনিয়মের কথা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলীকে জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত করেননি। এ দুর্নীতির সঙ্গে অফিসের কিছু অসৎ কর্মকর্তা জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ বিষয়ে ঠিকাদার আবদুল মোতালেব’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কিছু সিল কোট এবং ফিনিশিংয়ের মাল গাড়ির চাকায় উঠেছে, আমি কাজ নিয়ে ১০০ শত ভাগ চ্যালেঞ্জ করছি না, তবে আমি মোটামুটি মানসম্পন্ন কাজ করছি। আমার আর ১ ঘণ্টার কাজ বাকি আছে, তবে স্থানীয় কিছু লোককে আমার আর্থিক সম্মান করার ওয়াদা ছিল, আর্থিক সম্মান না করায় তারা আমার কাজ বন্ধ করেছে। এ সময় ঠিকাদার আরও দাবি করেন, কিছু স্থানীয়রা কোদাল-ছাবল দিয়ে রাস্তার কার্পেটিং তুলে ফেলে। এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল’র মুঠোফোনে আলাপ করা হলে তিনি জানান, নিম্নমানের কাজ করায় কাজ বর্তমানে বন্ধ আছে। এখন যে পিচ ঢালাই করা হয়েছে তার উপর দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে পুনরায় কার্পেটিং করে দিতে হবে। এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *