কলারোয়ায়  ৫ম শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নকারী শিক্ষক আটক

শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফ: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রধান শিক্ষক কর্তৃক ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসী যৌন নিপীড়নকারি প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে। শত শত এলাকাবাসী ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচ ধানঘোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

স্থানীয়রা জানান, ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের কাছে তার বাড়িতে সন্ধ্যার পরে প্রাইভেট পড়তো ৫ম শ্রেণির ওই ছাত্রী। প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক জাকির গত ৪দিন যাবত ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ণ চালিয়ে আসছিলো। কিন্তু লোক লজ্জার ভয়ে ছাত্রী বিষয়টি কাউকে বলতে পারেনি। একপর্যায়ে গত রবিবার (৪নভেম্বর) সন্ধ্যায় অন্য আরেকটি ছাত্রী শিক্ষক জাকিরের কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে ঘটনাটি তার চোখে পড়ে। এরপর বিষয়টি গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় সোমবার সকালে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্কুলে গিয়ে লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শেষে শিক্ষককে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। স্থানীয়রা বিষয়টি সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামালকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে    সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেরিনা আক্তার ও কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)কে ঘটনাস্থলে পাঠান। বিকেলে তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আটক শিক্ষককে পুলিশে সোপর্দ করে।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান,‘বিষয়টি আমি জানতে পেরে তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ সুপার ও কলারোয়ার ইউএনও’কে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার জানান, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। নিপীড়িত মেয়েটির পিতা বাদি হয়ে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করায় তাকে কলারোয়া থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আর.এম সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ‘ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী-শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের  করা হয়েছে।’

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মারুফ আহম্মদ জানান ‘আটক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *