নিউজ ডেস্ক: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে রাজনৈতিক জোট গঠন করে সরকার বিরোধী আন্দোলনের নামে বিএনপির সাথে প্রতারণা করার অভিযোগে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের ওপর চরমভাবে ক্ষেপেছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমান। সরকার বিরোধী জোট গঠন করে লোক দেখিয়ে, নিজেদের অজনপ্রিয়তা ও অগ্রহণযোগ্য বিবেচনা করে শেষপর্যন্ত সরকারি দলের সাথে গোপনে হাত মেলানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্তে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের বিএনপির ইমোশনের সাথে খেলার কারণে চরম বিরক্ত হয়েছেন তারেক। এমপি পদ পাওয়ার জন্য শেষ বয়সে ড. কামাল, বি. চৌধুরী, আ স ম রব, মাহমুদুর রহমান মান্নাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন তারেক রহমান। এছাড়া সরকারের পাঁতানো ফাঁদে পা না দিয়ে কোমর শক্ত করে বিএনপির সাথে রাজপথে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের আন্দোলন করারও পরামর্শ দিয়েছেন তারেক রহমান।
লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করার নামে বিদেশি দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় বেশ কিছুদিন লাফঝাপ করেন ড. কামাল, বি. চৌধুরী, রব, মান্নার মতো কয়েকজন নামসর্বস্ব দলের মালিকরা। এ লক্ষ্যে তারা জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া নামের একটি রাজনৈতিক জোটও গঠন করে। সেই জোট নাম সর্বস্ব এবং কাগজের বাঘ সেটি বুঝতে দেরি হয়নি দেশবাসীর। লন্ডনে বসে বসে জাতীয় ঐক্যের নেতাদের খেলা দেখছিলেন তারেক। অবশেষে তাদের পেছনের শক্তি ও অর্থ দেখে তারেক রহমান সিদ্ধান্ত বদল করে মির্জা ফখরুলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় বিএনপির আনুষ্ঠানিক সমর্থনের বিষয়ে বার্তা পাঠান। কথা ছিল সরকার পতনের আন্দোলনে বিএনপিকে রাজপথে সমর্থন ও লোকবল দিয়ে সাহায্য করবে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। কিন্তু ৩০ সেপ্টেম্বর বিএনপির সমাবেশে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের অনুপস্থিত দেখে সব বুঝতে পারেন তারেক। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নামে মূলত বিএনপিকে রাজনৈতিক ফাঁদে ফেলে শেষ পর্যন্ত বিএনপিকে বাদ দিয়ে সরকারের সাথে হাত মিলিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য পদ চান জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। এই কারণে কৌশলে জাতীয় ঐক্যের নেতারা বিএনপির সমাবেশ প্রত্যাখ্যান করে। বিএনপিকে চোরাবালিতে ফেলে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্য রওনা হন ড. কামাল। রব, মান্না, বি. চৌধুরীর মতো নেতারা অসুস্থতার অজুহাত দিয়ে বিএনপির সমাবেশ বর্জন করেন। ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের এমন বেইমানীর রাজনীতিতে হতাশ ও হতবাক হয়েছেন তারেক। মানুষ সারাজীবন বেইমানি করলেও শেষ বয়সে ভালো হয়ে যায়। কিন্তু বি. চৌধুরী, ড. কামাল, রব, মান্নার মতো বুড়ো নেতারা শেষ বয়সে এসেও চরিত্র ঠিক করতে না পারায় বিস্মিত হয়েছেন তারেক।
সূত্র বলছে, জাতীয় ঐক্যের নেতারা শুধু তারেক রহমানের সাথেই বেইমানী করেননি বরং বিদেশি একাধিক দূতাবাসের টাকা খেয়ে তাদের সাথেও প্রতারণা করেছেন। বিদেশি দূতাবাসগুলো কোমর ভাঙ্গা এই নেতাদের দুধ-কলা দিয়ে পুষে ক্ষতিতে পড়েছে। বাংলাদেশকে ইচ্ছামত শোষণ করার ষড়যন্ত্রে এবারও ব্যর্থ হলো তারেক রহমান ও দূতাবাসগুলো।
যদি সরকারের সাথেই আঁতাত করার পরিকল্পনা ছিল তাহলে দূতাবাস ও তারেক রহমানের সাথে প্রতারণা করলো কেন জাতীয় ঐক্যের নেতারা, সেটি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। অবাঞ্ছিত এসব নেতারা কোনো কালেই জনগণের রাজনীতি করেননি এবং এরা সব সময় পয়সার কাছে ইমান বিক্রি করার কারণে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ঘৃণিত থাকবেন বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অসুস্থতার ভান করে, পালিয়ে থেকে বিএনপিকে দিনের বেলা তারা দেখালেন জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা। তাদের এমন প্রতারণার কারণে বিএনপি দিনের বেলা চোখে সরষে ফুল দেখছে।