নিউজ ডেস্ক: বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে হট্টগোল, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, দোকানপাট ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সমাবেশে যোগদানের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, ভাঙচুরের ঘটনায় পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দলে দলে সাধারণ নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান বলে জানা গেছে। আর এর মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের অভিমুখে এমন ঘটনা বিএনপির অনৈক্যকে জনসাধারণের কাছে আরও কিছু স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নয়াপল্টন বিএনপির পার্টি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন পর সমাবেশের নামে এক জায়গা জড়ো হওয়ার সুযোগ পাওয়ায় খুশি হন নেতা-কর্মীরা। নেতা-কর্মীদের আশা ছিল সমাবেশে সিনিয়র নেতারা দিক নির্দেশনা দেবেন। কিন্তু সমাবেশস্থলের পরিস্থিতি ছিল ভিন্নরকম। যাত্রবাড়ী ও মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিছিল করা এবং সামনের সারিতে জায়গা করা নিয়ে তর্কের এক পর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া নিয়ে ছোটখাট সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় দুই পক্ষের নেতা-কর্মীরা একে অপরকে গালমন্দ করেন। এসময় ধাওয়ার ঘটনায় ফুটপাতের একাধিক দোকান ভাঙচুর করেন উপস্থিত নেতারা। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা বিএনপির কর্মীরা তারেক রহমানকে নিয়ে স্লোগান দিলে সমাবেশের মূল মঞ্চের সিনিয়র নেতারা কিছুটা বিরক্ত হন এবং স্লোগন বন্ধ করার আহ্বান জানালে পরিস্থিতি কিছুটা বিগড়ে যায়।
এছাড়া সমাবেশস্থলে বিএনপির কর্মীরা বিড়ি-সিগারেট, পান খেয়ে পরিবেশ নোংরা করে ফেলেন। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পোস্টার ছিড়ে তাতে বসে পড়েন কর্মীরা। বক্তব্য শোনা বাদ দিয়ে কর্মীরা সেলফিতে মেতে উঠেন। নির্দেশনা শোনা বাদ দিয়ে কর্মীরা বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য চেষ্টা-তদবির করার চেষ্টা করতে থাকেন। এসময় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে ঠেলাঠেলি লেগে যায় কর্মীদের মাঝে।
এই বিষয়ে যাত্রাবাড়ী থানা বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা অভিযোগের সুরে বলেন, সমাবেশের নামে পিকনিক পার্টি করছে বিএনপি। নেতা-কর্মীরা যত্রতত্র বসে আড্ডা দিচ্ছেন, পান-বিড়ি খাচ্ছেন। সেলফি তোলা নিয়ে মারামারি করছেন। নেতাদের কথা শোনা বাদ দিয়ে বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য মারামারি করছেন। একটা দল এভাবে চলতে পারে না। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোন লাভ হবে না। কর্মীদের অবহেলা আর হেয়ালির জন্য বিএনপি আজ মৃতপ্রায়। সবমিলে একটি আশাব্যঞ্জক সমাবেশের প্রাপ্তির খাতা হলো শূন্য। এত অর্থ খরচ করে কোন লাভ হলো না। এই ধরণের বিশৃঙ্খলাই বিএনপি অধঃপতনের মূল কারণ বলে দুঃখ প্রকাশ করেন এই নেতা।