Main Menu

তৃতীয় শক্তির দিকে ঝুঁকছেন ফখরুল গংরা ! বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক: রাজনীতিতে এখন নতুন একটি গুঞ্জন হলো, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও তার অনুসারীরা কি বিএনপি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন? তিনি কি ড. কামাল হোসেন ও বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে সম্ভাব্য তৃতীয় শক্তির উত্থান ঘটানোর কাজ করবেন? গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক ঘটনা প্রবাহ যারা পর্যবেক্ষণ করছেন, তারা এসব প্রশ্ন তুলছেন।

মূলত এই গুঞ্জনের সূত্রপাত হয়, গত ১৯ মে বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত রাজনীতিবিদদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব এবং অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বক্তব্য থেকে। সেখানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অধ্যাপক চৌধুরীকে জাতির অভিভাবক এবং ‘উজ্জ্বল নক্ষত্র’বলে অভিহিত করলেও অধ্যাপক বি. চৌধুরী তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগ আর বিএনপির সমালোচনা করে এর বাইরে তৃতীয় কোনো শক্তির উত্থানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেদিন বিএনপি ও শরিক দলের অনেক নেতাই এর তীব্র প্রতিবাদ করলেও বিএনপি মহাসচিব ও তার অনুসারী কয়েকজন সিনিয়র নেতা প্রতিবাদকারীদের থামিয়ে দেন। সমালোচকরা বলছেন, বিএনপি আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির সমালোচনা করা ও তাদের বাদ দিয়ে তৃতীয় শক্তি উত্থানের আহবান জানানোর পরও বিএনপি মহাসচিবের প্রতিবাদ না করা বা চুপ থাকা স্বাভাবিক নয়। তার চুপ থাকার অর্থ হলো নিরব সমর্থন।

পরবর্তীতে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি পরিস্কারভাবেই আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির বাইরে রাজনীতিতে একটি তৃতীয় শক্তির কথা বলেছি।’কারণ বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিএনপির পক্ষে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আমার কথায় কয়েকদিন বিএনপিতে ক্ষোভ ও অসন্তোষ থাকলেও সিনিয়র নেতারা আমার বক্তব্য বুঝতে পেরে তা সমর্থনও করেছেন।

এছাড়া এরপর গত কয়েকদিন অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একাধিক টেলি আলাপ এবং সাক্ষাতের ঘটনায় এই গুঞ্জন আরও বেড়েছে। শুধু মির্জা ফখরুলই নয় সূত্রমতে, বিএনপির আরো কয়েকজন সিনিয়র নেতাও বি. চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলছেন, ‘আমি এবং ড. কামাল হোসেন একটি যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছি, যেখানে আমরা জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছি। আমরা সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের আহবান জানিয়েছি। বাংলাদেশে এখন একটি জাতীয় শক্তি অত্যন্ত জরুরি। আর এই জাতীয় শক্তিতে আওয়ামী লীগ বিএনপি যে কেউই আসতে পারে।’বিএনপি মহাসচিবসহ অনেক সিনিয়র নেতাই এর প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা অনুভব করে এই তৃতীয় শক্তিকে সমর্থন করেছেন।’

বিএনপির একাধিক নেতার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে মির্জা ফখরুলের সম্পর্ক পুরনো। মির্জা ফখরুল যে তৃতীয় ধারায় যেতে পারেন তার অনেকগুলো ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে। বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার পর মির্জা ফখরুল বেগম জিয়ার মামলার রায় নিয়ে কথা বলার উসিলায় ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাত করার কথা বললেও ড. কামাল হোসেন এখন পর্যন্ত মামলার সাথে সম্পৃক্ত না হওয়ায় তার সাক্ষাতের কারণ নিয়ে বিএনপিতে প্রশ্ন উঠেছিল।

এছাড়া বেগম জিয়া গ্রেপ্তার হবার পর ২০ দলীয় জোটের ব্যাপারে বিএনপি মহাসচিবের অনাগ্রহ দৃশ্যমান। তিনি নিজেই সমন্বয়কের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বললেন, বেগম জিয়া দণ্ডিত হবার পর দলের দায়িত্ব নিয়েই তিনি সংস্কারপন্থীদের সামনে আনেন। লে. জে. অবসরপ্রাপ্ত মাহবুব কিংবা মেজর (অব.) হাফিজের মতো সংস্কারপন্থীদের তিনি কাছে টেনে নিয়েছেন।

ঘটনার পরম্পরায় এইসব কিছু যোগ করলে দেখা যায়, বিএনপিতে থেকেও মির্জা ফখরুল ইসলাম ও তার কিছু অনুসারীরা যেন আলাদা। তার কথাবার্তাও ড. কামাল হোসেনদের ঘরানার। তিনি নিজেও জানেন, বিএনপি পাল্টে ফেলার ক্ষমতা তার নেই। আর বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির বিবেচনায় রাজনৈতিক অবস্থা নিজেদের অনুকূলে আনার বাস্তব পরিস্থিতিও নেই। তাই হয়তো তিনি তার অনুসারীদের নিয়ে তৃতীয় কোনো শক্তির ছায়ায় যাবার অপেক্ষায় আছেন বলেই মনে করছেন অনেকেই।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *