Main Menu

ছাগলনাইয়ায় হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক | বাংলারদর্পন 

জাকের হায়দার সুমন :

সীমান্তবর্তী উপজেলা ফেনীর ছাগলনাইয়াকে মাদকে গ্রাস করে ফেলার জনশ্রুতি রয়েছে। হাত বাড়ালেই যত্রতত্র মিলছে মাদক। এই ছোট্ট উপজেলায় ১ পৌরসভা এবং ৫ ইউনিয়নের ৫৪টি ওয়ার্ডের প্রতিটি যেন এক-একটি মাদকের হাট। রাত থেকে ভোর হলেই শুরু হয় মাদক বিক্রেতাদের আনাগোনা। তাদের তৎপরতায় অনেকের রাতের ঘুম হারাম, আবার অনেকের ঘুম ভাঙে। সস্তায় কিনে চড়া দামে বিক্রি করায় এটি এখন ‘লাভজনক ব্যবসায়’ পরিণত হওয়ায় অনেক নিঃস্ব পরিবারও গড়ে তুলে বহুতল ভবন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাড়ি ও বাহারি দামি মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকারের মালিক বনে গেছেন এই মাদক ব্যবসা করে। ভারতের ত্রিপুরা বাংলাদেশের ছাগলনাইয়া অংশে স্থাপিত প্রতি মঙ্গলবারে বসা বর্ডারহাটে দুই দেশের চোরাকারবারি, মাদক ব্যবসায়ীরা প্রয়োজনীয় আলাপ সারে। হাটের দিন বাংলাদেশ অংশে বিলাসবহুল গাড়ি নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় আলাপ সেরে সুযোগ পেলে এই চোরাকারবারিরা মাদকসহ আমদানি নিষিদ্ধ পণ্যগুলো পাচার করে।

থানা পুলিশ এই রকম কয়েকটি গাড়ি থেকে ফেনসিডিল উদ্ধারও করে। উপজেলার ৫ ইউনিয়ন- শুভপুর, ঘোপাল, রাধানগর, মহামায়া, পাঠাননগর ও ১ পৌরসভায় রয়েছে ৫৪টি ওয়ার্ড। প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট-বড় মাদকের হাট বসার অভিযোগ রয়েছে গভীর রাত ও ভরদুপুরে। প্রতিদিন পুলিশ ও বিজিবি মাদকসহ আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য উদ্ধার করছে। আটক করছে শত শত মাদকসেবী ও বিক্রেতাকে। এর মধ্যে গত ২২ দিনে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ আটক করেছে ২১ জন মাদক বিক্রেতাসহ চোরাকারবারিকে। উদ্ধার করেছে ২০০ বোতল ফেনসিডিল, ৬২৭ পিস ইয়াবা, ১১ কেজি গাঁজা, ৬০ লিটার বাংলা মদসহ বিভিন্ন পণ্য। অন্যদিকে সীমান্তে নিয়োজিত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আটক করেছে ১ হাজার ১২৫ বোতল ফেনসিডিলসহ দেড় কোটি টাকার আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য। আবার র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্প ১ হাজার ৩৭৯ বোতল ফেনসিডিল, ৪টি বাংলা মদসহ আটক করেছে আটজনকে। এগুলো বহন করার দায়ে জব্দ করা হয়েছে ৩টি মাইক্রোবাস। উপজেলার মাদকপ্রবণ এলাকা হিসেবে খ্যাত শুভপুর, মহামায়া ও পাঠাননগর ইউনিয়নের ২৭টি ওয়ার্ডই যেন এক একটি মাদকের হাট। এই তিন ইউনিয়নের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে ফুলগাজী, পরশুরাম, ফেনী সদর, মিরসরাই উপজেলার। ওই সব উপজেলার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতাদের সঙ্গে ছাগলনাইয়া ও ভারতের ত্রিপুরার মাদক বিক্রেতা ও চোরাকারবারিরা সিন্ডিকেট করে পাচার করছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

বিজিবির ব্যর্থতায় মাদক বাংলাদেশে আসছে কি-না এবং বিজিবির মাদক আটকে কোনো দুর্বলতা কাজ করে কি-না ফেনীর-০৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সিও লে. কর্নেল শহিদুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিজিবির কোনো ব্যর্থতা নেই। গত কয়েক দিনে ২০ মাদক বিক্রেতাকে আটক ও কয়েক কোটি টাকার মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। বিজিবির ইউনিফর্ম ছাড়া দায়িত্ব পালন করার বিধান নেই বিধায় ক্যাম্প থেকে বিজিবি বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খবর পৌঁছে যায় চোরাকারবারিদের কাছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *