Main Menu

শীর্ষ নেতাদের গ্রুপিংয়ে বিধ্বস্ত বিএনপি | বাংলারদর্পন 

নিউজ ডেস্ক: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রাপ্তি ও দলের নেতৃত্ব হস্তান্তর ও প্রত্যাশার প্রশ্নে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রেক্ষিতে কয়েকভাগে বিভক্ত হয়েছে বিএনপি। তারই ধারাবাহিকতায় সময় যতো গড়িয়েছে বিএনপির গ্রুপিং ততই ভয়াবহতায় রূপ নিয়েছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের মাধ্যমে দলের অভ্যন্তরীণ সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানা গেছে, নেতৃত্ব ও ক্ষমতা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের জেরে বিএনপির অবস্থা এতই নাজুক যে, যেকোন সময় তা একেবারে ভেঙে পড়তে পারে। মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীর মধ্যকার শুরু হওয়া গ্রুপিং এখন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন থেকে শুরু করে বিভিন্ন নেতাদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু দিকে বিএনপিতে বিভক্তি গুঞ্জনের প্রথম পর্যায়ে বেগম জিয়ার অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব কে দেবে তা নিয়ে সংশয়ের মুখে দলের ঐক্য কিছুটা চিড় ধরতে শুরু করে। পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের পর তার পুত্র তারেক রহমানের দায়িত্ব প্রাপ্তি ও তার সহযোগী হিসেবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বদলে যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে দায়িত্ব দেয়া নিয়ে প্রথমে দুইভাগে বিভক্ত হয় বিএনপি। নীরব দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে ফখরুল ও রিজভীপন্থীরা। এমনকি সেসময় তারেক রহমান ও রিজভীর নেতৃত্ব মানতে দলের পক্ষ থেকে অস্বীকৃতিও জানায় অনেক নেতা।

অন্যদিকে, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়েও আইজীবীদের সঙ্গে তারেক রহমানের বাক-বিতণ্ডামূলক ফোনালাপের পর ফখরুল-রিজভীর দ্বন্দ্ব আইনজীবীদেরও স্পর্শ করে। সর্বশেষ দলীয় আইনজীবীদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করে ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইলকে নিয়োগ দিয়ে তারেক রহমান দলীয় আইনজীবীদের একহাত দেখিয়েছেন বলেও আলোচনা উঠে।

বিএনপির একাধিক সূত্রের মারফত জানা গেছে, বেগম জিয়া জেলে যাওয়ার পর থেকে যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিএনপিতে তৈরি হয়েছিলো তা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যেখান থেকে ফিরে আসার কোনো পথ আর খোলা নেই।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা বলেন, দ্বন্দ্ব ও অনৈক্য দলকে শেষ করে দিতে পারে। এর সত্যতা হারে হারে টের পাচ্ছি। কিন্তু কেউ কাউকে কিছু বলতে পারছি না। ফখরুল ভাই ও রিজভী ভাইয়ের মধ্যে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব এখন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, খন্দকার মোশাররফ হোসেন পর্যন্ত গাড়িয়েছে। একদিকে, গয়েশ্বর চন্দ্র ও মির্জা আব্বাস ভাইয়ের সঙ্গে নতুন করে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচন প্রশ্নে তারা ভিন্নমত পোষণ করতে শুরু করেছেন। এভাবে দলীয় অনৈক্য, সমন্বয়হীনতা ও ক্ষমতার লোভ নেতাদের যেদিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে তা থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ নেই বলেই মনে করছেন তিনি।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *