Main Menu

তারাবীহ ২০ রাকায়াত: শরীয়তের মানদন্ডে বিভ্রান্তির মিমাংসা | বাংলারদর্পন

নিউজ ডেস্ক :

 

ভারতীয় উপমহাদেশে ২০ রাকাত তারাবীহ অস্বীকার করার প্রেক্ষাপট :- ইংরেজ শাসনের আগে তৎকালীন কোন আলেম পাওয়া যাবেনা, যারা খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলের ২০ রাকাত তারাবীহ পড়াকে অস্বীকার করেছেন। সে কেউ আট রাকাত তারাবীহ পড়ে মসজিদ থেকে বেরিয়ে যেতেন-এমন কোন নজীর নেই।

* কিন্তু ১২৮৪ হিজরীতে ভারতের আকবরাবাদ থেকে সর্ব প্রথম এক মৌলভী সাহেব আট রাকাত তারাবির ফতোয়া প্রদান করেন। এরপর ১২৮৫ হিজরীতে পাঞ্জাব সীমান্তে মাওলানা মুহাম্মদ হুসাইন বাটালবী আট রাকাত তারাবি নামাজ পড়া সুন্নত হওয়ার দাবি করেন।

* ১৩৭৭ হিজরীতে আরবের শায়েখ নসীব রেফায়ী ও শায়েখ নাসীর উদ্দীন আলবানী সাহেব সর্ব প্রথম আট রাকাত তারাবির মত প্রকাশ করেন। তখন শায়েখ আতিয়্যা সালিমসহ আরবের জমহুর উলামায়ে কেরাম তাদের উক্ত রায়কে প্রত্যাখ্যান করেন এবং সাহাবায়ে কিরাম (রা.) যুগ থেকে চলে আসা হারামাইন শরীফাইন তথা বাইতুল্লাহ শরীফ ও মসজিদে নববীতে বিশ রাকাত তারাবির আমলকে অব্যাহত রাখেন, যা আজো অব্যাহত রয়েছে।]

তারাবীহ এর শাব্দিক অর্থ :

التَّرَاوِيحُ : جمع ترويحة ، وهي في الأصل اسم للجلسة مطلقا – * আত তারাবীহ শব্দটি তারবিয়াহ শব্দের বহুবচন। মূলত শব্দটি মাসদার। যার অর্থ বিশ্রাম নেয়া। প্রতি চার রাকাত নামাযের পর সম পরিমাণ সময় আরাম বা বিশ্রাম নেয়া হয় বলে একে সালাতুত তারাবীহ বলা হয়। এ সময় টুকু বিশ্রাম নেয়া বা বিরতি দিয়ে পড়া সুন্নাত।

سميت بها الجلسة التي بعد أربع ركعات في ليالي رمضان ، لاستراحة الناس بها ، ثم سميت كل أربع ركعات ترويحة مجازا ، وأَصلها المصدر   অভিধানে  আরো কতিপয়  অর্থ  পাওয়া যায়। যথা-ধীরে ধীরে, আরাম, অবসর, বিশ্রাম, বিরতি ইত্যাদি।(আল বাহরুর বায়েক শরহু কানযুদ দাকায়েক; খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৭১)

পারিভাষিক অর্থ :

هي الصلاة التي تصلى جماعة في ليالي رمضان، والتراويح جمع ترويحة، سميت بذلك لأنهم كانوا أول ما اجتمعوا عليها يستريحون بين كل تسليمتين، كما قال الحافظ ابن حجر، وتعرف كذلك بقيام رمضان

রমজানুল মোবারক রাতে এশার নামাজের পর যে নামাজ পড়া হয় তাকে তারাবীহ এর নামাজ বলা হয়।( ইবন হাজার ২/১২৫) ইহা কিয়ামুল লাইল হিসাবে ও ব্যাবহার হয়।

 

তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত এর দলীল:-

*

عن جابر بن عبد الله قال خرج النبى صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فى رمضان فصلى الناس اربعة وعشرون ركعة واوتر بثلاثة

 

১. হযরত জাবের রাঃ বলেনঃ রমজান মাসের এক রাতে রাসূল সাঃ বাহিরে থেকে আসলেন। আর সাহাবায়ে কেরামকে ২৪ রাকাত [৪ রাকাত ঈশার, আর ২০ রাকাত তারাবীহের] নামায পড়ালেন। আর তিন রাকাত বিতির পড়ালেন। [তারীখে জুরজান-২৭}

২. হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) রমজান মাসে ২০ রাকাত এবং বেতের পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৯৪; আল মুজামুল কাবীর লিত তবরানী, হাদীস নং ১২১০২, খন্ড ১১, পৃষ্ঠা ৩৯৩;  মাজমাউজ যাওয়াইদ, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪০২; সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং ৪৩৯১)

৩.

عن يحيى بن سعيد ان عمر بن الخطاب امر رجلا يصلى بهم عشرين ركعة

হযরত ইয়াহইয়া বিন সাঈদ থেকে বর্ণিত। নিশ্চয় ওমর বিন খাত্তাব রাঃ এক ব্যক্তিকে বিশ রাকাত পড়ার হুকুম দিলেন। {মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩} (তারীখে জুরজান, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩১৬)

৪.

وروى مالك من طريق يزيد بن خصيفة عن السائب بن يزيد عشرين ركعة

হযরত সায়েব বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ এর সময়কালে বিশ রাকাত তারাবীহ ছিল। {ফাতহুল বারী-৪/৪৩৬} যার সনদ বুখারীতে দুই স্থানে আছে।

৫.

عن السائب بن يزيد ، قال : كنا نقوم في زمان عُمَر بن الخطاب رضي الله عنه بعشرين ركعة والوتر

হযরত সায়েব বিন ইয়াজিদ রাঃ বলেনঃ আমরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ ও বিতির পড়তাম। {সুনানে সুগরা লিল বায়হাকী, হাদীস নং-৮৩৩, মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩,

ইমাম নববী (রহ.) (শরহুল মিনহাজ), মোল্লা আলী কারী (রহ.) (শরহুল মুয়াত্তা) ও সুয়ুতী (রহ.) এ বর্ণনাকে সহীহ বলেছেন।

৬. محمد بن كعب القرظى كان الناس يصلون فى زمان عمر بن الخطاب فى رمضان عشرين ركعة ويوترون بثلاث

 

মুহাম্মদ বিন কাব কুরজী বলেনঃ ওমর ফারুক রাঃ এর শাসনামলে লোকেরা রমজান মাসে বিশ রাকাত তারাবীহ ও তিন রাকাত বিতির পড়তো। [মুসাান্নাফ ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৩]

৭. عن يزيد بن رومان ، أنه قال : ্র كان الناس يقومون في زمان عمر بن الخطاب في رمضان بثلاث وعشرين ركعة গ্ধ

হযরত ইয়াজিদ বিন রূমান বলেনঃ লোকেরা হযরত ওমর রাঃ এর শাসনামলে বিশ রাকাত তারাবীহ এবং তিন রাকাত বিতির রমজান মাসে আদায় করতো। {মারিফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদীস নং-১৪৪৩, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৩৮০, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৪৩৯৪} (মা’রেফাতুস সুনান ওয়াল আসার, হাদিস নং ১৪৪৩, খÐ ৪, পৃষ্ঠা ২০৭; আল মুয়াত্তা লিল মালেক, হাদিস নং ৩৮০, খÐ ২, পৃষ্ঠা ১৫৯; আস সুনানে কাবীর লিল বায়হাকী, হাদিস নং ৪৮০২, খÐ ২, পৃষ্ঠা ৪৯৬)

৮. عن الحسن ان عمر بن الخطاب جمع الناس على ابى بن كعب فكان يصلى بهم عشرين ركعة

হযরত হাসান রাঃ থেকে বর্ণিত। হযরত ওমর রাঃ লোকদেরকে হযরত উবায় বিন কাব রাঃ এর কাছে একত্র করে দিলেন। আর তিনি লোকদের বিশ রাকাত তারাবীহ পড়াতেন। {সুনানে আবু দাউদ-১/২০২, সিয়ারু আলামিন নুবালা-১/৪০০} (সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খÐ ১, পৃষ্ঠা ৩৫০; সুনানে আবু দাউদ, খÐ ১, পৃষ্ঠা ৫৩৮ হাদিস নং: ১৪৩১)

৯.

عن ابى بن كعب ان عمر بن الخطاب امره ان يصلى باليل فى رمضان فصلى بهم عشرين ركعة

হযরত উবায় বিন কাব রাঃ বলেনঃ হযরত ওমর রাঃ আমাকে এই মর্মে আদেশ দিলেন যে, আমি যেন লোকদেরকে তারাবীহ পড়াই। তখন বিশ রাকাত পড়া হতো। {কানযুল উম্মাল-৮/২৬৪}

১০) হজরত উমার (রা.) ও উসমান (রা.) এর শাসনামলে তারাবীহ ছিল ২০ রাকাত :-

 

عن ابن عباس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يصلى فى رمضان عشرين ركعة والوتر

 

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ রমজান মাসে বিশ রাকাত এবং বিতির পড়তেন।

{মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা-৫/২২৫, হাদীস নং- ৭৬৯২, মুসনাদে আব্দ বিন হুমাইদ-২১৮, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং-১২১০২, মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, হা






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *