Main Menu

মাঈদুল ইসলাম মুকুল এমপি’র দাফন সম্পন্ন | বাংলারদর্পন 

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিজ গ্রামে সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য মাঈদুল ইসলাম মুকুল’র দ্বিতীয় জানাযায় হাজারো মানুষের ঢল নামে ।

 

এর আগে সকাল সোয়া ১১টায় এমপি’র মরদেহ হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে উলিপুরে নিয়ে আসা হয়। হেলিকপ্টারটি উলিপুর হ্যালিপ্যাডে অবতরণ করে। মাঈদুল ইসলামের ফুফাত ভাই মো: আমিনুল ইসলাম যাদু নামাজে জানাজায় ইমামতি করেন।

জানাযা শেষে দুপুর সোয়া ১টায় তার মরদেহ হেলিকপ্টারে আসাদ গেটে অবস্থিত ঢাকাস্থ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।এরআগে তার প্রথম নামাজে জানাজা ঢাকায় শুক্রবার (১১ মে) বাদজুমা আসাদ গেইট নিউ কলোনী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। রোববার (১৩ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে ও গুলশান আজাদ মসজিদে বাদ আছর ৪র্থ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১০ মে) দিবাগত রাত ১১টা ৪০ মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বৎসর। ফুসফুসের সমস্যাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে তিনি গত ১৫ এপ্রিল ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২২ এপ্রিল থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এ.কে.এম মাঈদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম ৩ নির্বাচনী আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। মৃতুকালে তিনি এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানসহ নাতি-নাতনী, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান।

সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় সংসদ সদস্য এ.কে.এম মাঈদুল ইসলাম ১৯৪৩ সালের ১লা মে ভারতের আসামের কোকরা ডাঙ্গার সুখের চরে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম আবুল কাশেম মিয়া পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের ডেপুটি স্পীকার ছিলেন। তার শিক্ষা জীবনের হাতে খড়ি হয় উলিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি উলিপুর স্বর্নময়ী হাই স্কুলে কিছুদিন পড়াশুনা করার পর পাকিস্তানের বিখ্যাত সারগোদা এয়ারফোর্স স্কুলে লেখাপড়া করেন। পরে তদানিন্তন কুমিল্লা জেলার বিখ্যাত মতলব হাইস্কুল থেকে ১৯৫৯ সালে ম্যাট্রিক পাশ করেন। ১৯৬১ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে আই.এ পাশ করেন। করাচী বিশ্ববিদ্যাল থেকে ১৯৬৫ সালে ইতিহাসে অনার্সসহ বিএ এবং ১৯৬৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ ডিগ্রী লাভ করেন।

বিশিষ্ট শিল্পপতি মাঈদুল ইসলাম তার বাবার নামে নির্বাচনী এলাকায় জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান কাশেম ফাউন্ডেশন গড়ে তোলেন। এর আওতায় রয়েছে কুড়িগ্রামের উলিপুরে তার মায়ের নামে ১০০ শয্যার মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল ও আলেকজান মাতৃমঙ্গল এবং শিশু সেবা কেন্দ্র রয়েছে।

তিনি ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৎকালীন রংপুর-১৬ থেকে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন এবং প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মন্ত্রী পরিষদের ডাক, তার ও টেলিফোন মন্ত্রী হন। ওই সময় তিনি ছিলেন দেশের সর্বকনিষ্ঠ মন্ত্রী। এ সময় তিনি ১৯৭৯ ও ১৯৮১ সালে ডাক, তার ও টেলিফোন মন্ত্রনালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনালয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী মন্ত্রণালয়, ১৯৮৫-৮৬ এবং ১৯৮৬-৮৭ সময়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, ১৯৮৬ সালে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ১৯৮৮-৮৯ সালে পাট মন্ত্রণালয় এবং ১৯৮৯ সালে পরিবেশ ও বন বন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পাটির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও জাতীয় পাটির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি কুড়িগ্রাম-৩ নির্বাচনী আসন থেকে ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমান সংসদে তিনি সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির এক নম্বর সদস্য এবং ভূমি মন্ত্রনালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *