নিউজ ডেস্ক :
মায়ের প্রতি ভালোবাসা কখনো দিবস দিয়ে পূরণ করা যায় না। মায়ের জন্য ভালোবাসা প্রতিদিনের। মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার পালিত হয় ‘বিশ্ব মা দিবস’। পৃথিবীর সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্কের নাম ‘মা’। সবচেয়ে পবিত্র ও মধুর শব্দের নাম ‘মা’।
‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু যেন ভাই /
ইহার চেয়ে নাম যে মধুর, ত্রিভুবনে নাই।’
বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্ব মা দিবস পালনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কালে কালে একটি কথাই চিরায়ত সত্যিতে পরিণত হয়েছে, আর সেটি হচ্ছে- পৃথিবীতে মা শব্দের চেয়ে অতি আপন শব্দ আর দ্বিতীয়টি নেই। সন্তানের কাছে সবচেয়ে আপন, সবচেয়ে প্রিয় হচ্ছেন তার মা।
মা বেঁচে থাকতেই যেনো বলতে পারি ‘তোমাকে অনেক ভালোবাসি মা’। যাদের মা চলে গেছেন পরপারে; তারাই গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারেন মাকে; মা আসলে সন্তানের জীবনে কি! কোটি টাকা থাকার পরেও আজ মায়ের জন্য সামান্য টাকার আগরবাতি ছাড়া কিছুই কিনতে পারলাম না; আজ চোখের জলে স্মরণ করবো মাকে…’—দুইমাস আগে না ফেরার দেশে চলে যাওয়া মাকে নিয়ে ব্যবসায়ী পারভেজ সাজ্জাদ এভাবেই তার অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
কীভাবে এলো এই মা দিবস? কারো কারো মতে, এই দিনটির সূত্রপাত প্রাচীন গ্রিসের মাতৃ আরাধনার প্রথা থেকে, যেখানে গ্রিক দেবতাদের মধ্যে এক বিশিষ্ট দেবী সিবেলের উদ্দেশে পালন করা হতো একটি উৎসব। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুবের সময়ে এবং তার পর রোমে ১৫ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হতো। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এই যে বর্ণাঢ্য ‘মা দিবস’-এর উদযাপন, এটি আসে মূলত আমেরিকানদের থেকে। ১৮৭০ সালে সমাজসেবী জুলিয়া ওয়ার্ড হো আমেরিকার নারীদের যুদ্ধের বিরুদ্ধে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান, সঙ্গে এই দিবসটিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রের কাছে প্রচুর লেখালেখি করেন।
১৯১২ সালে সর্বপ্রথম এই দিনকে স্বীকৃতি দিয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় আমেরিকার কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে। ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকভাবে মা দিবসের যাত্রা। ১৯৬২ সালে এই দিবসটি আন্তর্জাতিক দিবসের স্বীকৃতি পায়।
আদতে অপরিশোধ্য মাতৃঋণের বদলে মাকে ক্ষণিকের আনন্দ দিয়ে খুশি হয় সন্তানরা। দূরে থাকায় মায়ের স্পর্শ যারা সব সময় পান না, তারা দ্বারস্থ হন সেলফোনের।
মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসা অটুট থাকুক, যেমন আমাদের উপর থাকে আমাদের মায়েদের। সবাইকে মা দিবসের শুভেচ্ছা। ভাল থাকুক প্রতি মা সবসময়, সর্বত্র।