Main Menu

শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে শীর্ষ পাঁচ এ বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক: পহেলা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। এই দিনকে স্মরণ রেখে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদানে বর্তমান সরকার বদ্ধ পরিকর। শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রদানের জন্যই আজ অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ ৫টি দেশের একটি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন প্রায় ৮ লাখ কোটি টাকারও বেশি। যা জিডিপির ভিত্তিতে বিশ্বে ৪৪তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম।

বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় প্রত্যক্ষ অংশীদার বাংলাদেশের সকল শ্রেণি পেশার শ্রমজীবী মানুষ। যারা সরকার কর্তৃক ন্যায্য অধিকার প্রাপ্তির ফলে প্রাণপনে এগিয়ে নিতে বদ্ধ পরিকর। শ্রমজীবীর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার বদৌলতেই বাংলাদেশের এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। যে অর্জন গোটা দেশ ও মানুষের।

বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় ও সর্বস্তরের শ্রমজীবী মানুষের সহযোগীতায় যেসব অর্জন সম্ভব হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।

ধারাবাহিকভাবে ৬.৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.১১ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে যা ছিলো ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ।

জনগণের মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আজ ১ হাজার ৬১০ ডলার হয়েছে।

দারিদ্র্যের হার ২০০৫-০৬ সালে ছিল ৪১.৫ শতাংশ। এখন তা হ্রাস পেয়ে হয়েছে ২২.৪ শতাংশ। অতি দারিদ্র্যের হার ২৪.২৩ থেকে ১২ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫-১৬ শতাংশে এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৭-৮ শতাংশে নামিয়ে আনাই এখন প্রধান লক্ষ্য।

৫ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতি আজ শক্তভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল মাত্র ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমানে ৩৩.০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও উপরে।

বিগত আট বছরে দেশ-বিদেশে প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মোট ৯ লাখ ৭৩ হাজার কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। নারী কর্মীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার।

গার্মেন্টসে কর্মরত নারীদের সুবিধায় আশুলিয়া ও সাভারে ১৬ তলাবিশিষ্ট হোস্টেল নির্মাণ। নারী-পুরুষ বৈষম্য দূরীকরণে ৪০টি মন্ত্রণালয়ে জেন্ডার বাজেট প্রণয়ন।

যুবসমাজের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতকল্পে দেশের ৬৪টি জেলা ও ৪৯৬টি উপজেলায় বেকার যুবদের উদ্বুদ্ধকরণ, প্রশিক্ষণ প্রদান, প্রশিক্ষণোত্তর আত্মকর্মসংস্থান প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে স্বাবলম্বীকরণ, যুব ঋণ প্রদান, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি কর্মসূচি চালু রয়েছে।

বর্তমান সরকারের মেয়াদে ১৮ লাখ ৮৬ হাজার ২৮৪ যুবক ও যুব মহিলা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৩০০ জন আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত হয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি সরকারের একটি অগ্রাধিকামূলক কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় ডিসেম্বর ২০১৬ মাস পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৬৮৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং ১ লাখ ১০ হাজার ৩৫১ জনের অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

যুবসমাজের জন্য ১১টি নতুন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এসব পূর্ণ বাস্তবায়িত হলে সারাদেশে ১৪ লাখ ৩২ হাজার ১০৪ বেকার যুবক ও যুব মহিলা উপকৃত এবং ৩১ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপিত হবে।

১১টি জেলায় আবাসিক যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুতই শেষ হবে এবং ২৯টি যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গার্মেন্ট শ্রমিকদের ন্যূনতম বেতন বাড়িয়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়াত্ত্ব কল-কারখানার শ্রমিকদের মজুরি ও ভাতা প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৬০ বছরে উন্নীত করা হয়েছে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *