Main Menu

বিলোনিয়া স্থল বন্দরের জমি অধিগ্রহণে বাধার কারণে অবকাঠামো উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত 

আবু ইউসুফ মিন্টু :

ফেনীর পরশুরামে বিলোনিয়া স্থল বন্দরের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ভুমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারনে অবকাঠামো উন্ন্য়নে বাধার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। সর্বশেষ গত ২০ এপ্রিল পরশুরাম উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারের নেতৃত্বে ভূমি কর্মকর্তারা অধিগ্রহনকৃত জমির সীমানা নির্ধারন ও লাল পতাকা টাঙ্গানোর জন্য বাউর খুমা গ্রামে গেলে স্থানীয়দের বাধার কারণে ভূমি কর্মকর্তারা ফিরে যায়।

এর আগে জেলা প্রশাসনের ভূমি কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে জমি অধিগ্রহনের সীমানা নির্ধারনের জন্য একাধিক বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে বলে উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে এর আগে ২০০৯ সালের বিলোনিয়া স্থল বন্দর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলেও দীর্ঘ ৮ বছর পরও অবকাঠামো উন্নয়ন বলতে কোন কিছুই হয়নি। ওই সময় বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বন্দর এলাকার খাস জমি ও ভিপি সম্পত্তির প্রায় ১৫ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রক্রিয়া শুরু করলে খাস জমি ও ভিপি সম্পত্তি বর্তমান দখলদার স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাঈন উদ্দিন সেলিম উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করলে আদালত জমি অধিগ্রহন কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত করেন।

পরে বিভিন্ন তদবির ও মামলা জটিলতার কারনে ভূমি কর্মকর্তারা জমি অধিগ্রহন স্থান পরিবর্তন করেন, ৫ একর কমিয়ে বর্তমানে ১০ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য স্থান নির্ধারন করেন। যা বন্দরের পূর্ব দিকের জমি ও বসত ভিটা।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন সরকার খাস জমি ও ভিপি সম্পত্তি অধিগ্রহন না করে বসত ভিটার জমি অধিগ্রহন করার উদ্যোগে নিচ্ছেন, তাই প্রশাসনকে স্থানীয় জনগন বাধা দিচ্ছেন।

তারা অভিযোগ করেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা একটি পরিবার খুশি রাখতে ২৮টি পরিবারকে উচ্ছেদের পাঁয়তারা করছেন।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করেন বর্তমানে ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা যে স্থান বন্দরের জন্য অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শুরু করেছে ওই স্থানে ২৮ পরিবার সর্বশান্ত হবে। তাদের বাপ-দাদার আমলের পৈত্রিক বসতভিটা ছেড়ে নিঃস্ব হবে। তাই জীবন দিয়ে হলেও ওই জমি অধিগ্রহনে তারা বাধা দিয়ে যাবেন। গ্রামবাসী গত ২০ এপ্রিল ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

পরশুরাম ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মো কবির হোসেন জানান, একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে অধিগ্রহনকৃত ভূমির সীমানা নির্ধারণ অধিগ্রহন কার্যক্রমে স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় তারা অফিসে ফিরে এসেছেন। বিষয়টি তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসিল্যান্ড কে জানিয়েছেন। বর্তমানে নির্ধারিত স্থানে ২৮টি পরিবার রয়েছে। পূর্বের নির্ধারিত স্থানে মামলা জটিলতার কারনে অধিগ্রহণ সম্ভব হয়নি বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

স্থল বন্দরের প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে । জমি অধিগ্রহন প্রক্রিয়া শেষ হলেই অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি জানান, বন্দরের ভবন নির্মান, অভ্যন্তরীন রাস্তা, ওপেন ষ্ট্যাক ইয়ার্ড, পার্কিং,ওয়ার হাউজ, টান্সশিফটমেন্টশেড, ড্রেন, টয়লেট কমপ্লেক্স, ওয়েব্রীজ স্কেল,পানি সরবরাহ, বৈদ্যুতিকরন, ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের জন্য সাড়ে ৩৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু জানান, জমি অধিগ্রহন নীতিমালা অনুযায়ী বন্দরের অধিগ্রহন প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হলে বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু হবে।

উল্লেখ্য; নৌ-পরিবহন মন্ত্রী মো শাজাহান খান গত ২০ এপ্রিল বিলোনিয়া স্থল বন্দরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *