Main Menu

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপানের বড় ভূমিকা আশা করছে বাংলাদেশ

 

বাসস :

সোমবার গণভবনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের সামনে বাংলাদেশের এই প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

 

জাতিসংঘের সবচেয়ে ক্ষমতাধর পর্ষদ হিসেবে বিবেচিত নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ দেশের প্রতিনিধিসহ ৪০ সদস্যের এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোববার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখে সোমবার বিদায় নেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

 

তাদের এই প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নিরাপত্তা পরিষদের চলতি মাসের সভাপতি গুস্তাবো আদোলফো মেসা কুয়াদ্রা ভেলাসকাস। রোহিঙ্গা সঙ্কটের গভীরতা বুঝতে বাংলাদেশ থেকে সোমবার তারা মিয়ানমারে যাচ্ছেন।

 

গণভবনের বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের বলেছেন, ‘চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান এই সঙ্কট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা প্রত্যাশা করি’।”

 

এ সমস্যার সমাধান নিয়ে চীন, ভারত, থাইল্যান্ড, লাওসসহ মিয়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার কথাও বৈঠকে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

 

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর জোরালো চাপ সৃষ্টির জন্যও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।”

 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যে চুক্তি করেছে সে অনুযায়ী মিয়ারমারের কাজ করা উচিৎ বলেও বৈঠকে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

 

গত বছরের অগাস্টে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সেনা অভিযান শুরুর পর দলে দলে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে বাংলাদেশ সীমান্তে। মানবিক কারণে সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ সরকার।

 

পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মুখে মিয়ানমারের সৈন্যদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে দেওয়া ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠে আসে। জাতিসংঘ কর্মকর্তারা একে জাতিগত দমন অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন।

 

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে মিয়ানমার সরকার এই শরণার্থীদের ফেরত নিতে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও তাতে কোনো অগ্রগতি নেই।

 

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে সহযোহিতা এবং তাদের কাছে জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যে ভূমিকা রেখেছে বৈঠকে তার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

 

নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের উপ স্থায়ী প্রতিনিধি কেলি কারি বৈঠকে বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার মাধ্যমে মানবিক দিক থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নতুন একটি নজির বেঁধে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

 

চীনের প্রতিনিধি উ হাইতাও বলেন, তার দেশ এই সঙ্কটের সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে।

 

রাশিয়ার প্রতিনিধি দিমিত্রি পোলিয়ানস্কি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সোভিয়েত ইউনিয়নের সমর্থনের কথা উল্লেখ করে রোহিঙ্গা সমস্যার টেকসই সমাধানেও বাংলাদেশকে সমর্থন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

 

প্রেস সচিব বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশ সংঘাত চায় না এবং এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করছে।”

 

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মিয়ানমার সফর এবং মিয়ানমানের সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরের কথা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হওয়ার ওপর জোর দেন।

 

নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্ট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার চাপে কক্সবাজারে স্থানীয়রা ভোগান্তিতে পড়েছে; পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি হচ্ছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বর্ষায় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা রোহিঙ্গাদের দুর্দশা বাড়ার আশঙ্কার কথা নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন এবং ভাষানচরে রোহিঙ্গাদের জন্য পূর্নবাসন কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা তাদের বলেন।

 

নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী, প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *