Main Menu

নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক পদক গ্রহন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | বাংলারদর্পন 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নারীর শিক্ষা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে আসামান্য অবদান রাখায় সম্মানজনক ‘গ্লোবাল উইম্যান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার সিডনির ইন্টরন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ এ শেখ হাসিনার হাতে এই পদক তুলে দেয়া হয়।

এই সম্মেলনে যোগ দিতে দেশের বিভিন্ন দেশ থেকে নারীর অধিকারের পক্ষে যারা কাজ করছেন, তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক পুরস্কার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নতুন নয়। গত আট বছর এবং ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এর আগেও ২৭টি পুরস্কার ও পদক পেয়েছেন তিনি ও রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ।

এসব পুরস্কারের মধ্যে শেখ হাসিনা চারটি পেয়েছেন জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে। এর মধ্যে আছে, পার্বত্য শান্তি চুক্তি করায় ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক হাটপাওয়েট-বোজনি পুরস্কার, শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে ২০১০ সালে এমডিজি অ্যাওয়ার্ড, নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য পরের বছর সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড এবং পরিবেশ রক্ষায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পাওয়া চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ পুরস্কার।

সবশেষ সংযোজন ‘গ্লোবাল উইম্যান লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড’ এর জন্য মনোনীত করায় প্রধানমন্ত্রী গর্বিত বলে জানিয়েছেন। বলেন, ‘বিশ্ব পরিবর্তনে অবদান রাখা নারীদের সঙ্গে থাকতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত বোধ করছি।’

পুরস্কারটি বিশ্বব্যাপী যে নারীরা বিশ্বকে পরিবর্তন করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করছেন তাদেরকে উৎসর্গও করেন শেখ হাসিনা।

এই সম্মেলনে যোগ দিনে প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ঢাকা ছাড়েন। আর অস্ট্রেলিয়া গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রী জুলি বিশপের সঙ্গে সাক্ষাতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে চাপ অব্যাহত রাখতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট দাং থি নাও থিনের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয় প্রধানমন্ত্রীর। এ সময় ঢাকা-হ্যানয় সরাসরি ফ্লাইট চালু নিয়ে কথা হয় দুই নেতার মধ্যে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যোগ দেন। তিনি বলেন, ‘২০১৮ সালের গ্লোবাল উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার জন্য আমি অত্যন্ত আনন্দিত এবং নিজেকে সম্মানিত মনে করছি। আমাকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করায় আমি গর্বিত।’

১৯৭১ পাকিস্তানের কবল থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের কথা তুলে ধরে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নারীদের অবদানও তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘নারীরা ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলনে স্বক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। মুক্তিযুদ্ধে দুই লক্ষ নারী তাদের সম্মান হারিয়েছেন।’

শেখ হাসিনা জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধে সম্মানহানীর শিকার নারীদের জন্য ‘পুনর্বাসন কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠা করেন। এসময় তাদেরকে বীরাঙ্গনা উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বাংলাদেশে সংবিধানে নারী পুরুষের সমতার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, বঙ্গবন্ধু সে সময়ে মেয়েদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা চালু করেন এবং সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা চালু করেন।

নিজের জীবনের সংগ্রামের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালে আমার পিতাসহ পরিবারের ১৮ সদস্যকে খুন করা হয়। তখন আমি জার্মানিতে ছিলাম। সে সময়ের পর ছয় বছর পর ১৯৮১ সালে দেশে ফিরতে পারি।’

‘আমার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর আমি জনগণের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তির ওপর জোর দিয়েছি।’

২০০৮ এবং ২০১৪ সালে ক্ষমতায় এসে একটি সুষ্ঠু, অধিকারভিত্তিক, লিঙ্গবৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘রোল মডেল’ বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম ২০১৭ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী ১৪৪ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান ৪৭ তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম।

নারীর ক্ষমতায়নে ১৫৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান সপ্তম বলেও জানান শেখ হাসিনা।

নারীদের সমর্থন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় নতুন জোট গঠনের আহ্বানও জানা শেখ হাসিনা। বলেন, ‘আসুন আমাদের শক্তি জোরদার করি এবং বিশ্বে সকল নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করি।’






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *